আন-নামল · 47/93
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নামল
قَالُوا اطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَ ۚ قَالَ طَائِرُكُمْ عِندَ اللَّهِ ۖ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُونَ ۝٤٧
Qaalut taiyarnaa bika wa bimam ma`ak; qaala taaa`irukum `indal laahi bal antum qawmun tuftanoon
📖 বাংলা অর্থ
তারা বলল, তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা আছে, তাদেরকে আমরা অকল্যাণের প্রতীক মনে করি। সালেহ বললেন, তোমাদের মঙ্গলামঙ্গল আল্লাহর কাছে; বরং তোমরা এমন সম্প্রদায়, যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • اطَّيَّرْنَا (আত্বতাইয়ারনা): মূল শব্দ تطيَّرنا (তাত্বাইয়ারনা) থেকে এসেছে। অর্থ: আমরা অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করেছি, কুলক্ষণ গণনা করেছি, তোমাকে অমঙ্গলের কারণ মনে করেছি।
  • طَائِرُكُمْ (ত্বাইরুকুম): শুভ-অশুভ নির্ধারিত ভাগ্য, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আরবিতে ভাগ্যকে "طائر" বলা হয়, কারণ ভাগ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
  • تُفْتَنُونَ (তুফতানুন): তোমাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। অর্থাৎ তোমাদেরকে ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ, সমৃদ্ধি-দুর্যোগের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তাফসীর:

নবী সালিহ (আঃ)-এর সম্প্রদায় যখন তাঁর কাছ থেকে সত্য ও হিদায়াতের দাওয়াত শুনল, তখন তারা সত্যকে মেনে নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্রূপ ও শত্রুতার পথ বেছে নিল। তারা তাঁকে বলল: "আমরা তোমার কারণে এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদের কারণে অশুভ লক্ষণ দেখছি। আমাদের মনে হচ্ছে, তোমাদের কারণে আমাদের উপর বিপদ-আপদ নেমে এসেছে, আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে এবং আমাদের উপর দুর্ভিক্ষ এসেছে।"

তখন সালিহ (আঃ) তাদেরকে অত্যন্ত সুন্দর ও যুক্তিপূর্ণ জবাব দিলেন। তিনি বললেন: "তোমাদের শুভ-অশুভ ভাগ্য আল্লাহর নিকট থেকে নির্ধারিত হয়। তোমাদের উপর যা কিছু ঘটে—ভালো বা মন্দ—সবই আল্লাহর ইচ্ছা ও নির্ধারণ অনুযায়ী ঘটে। আমি বা আমার সাথীরা তোমাদের কোনো ক্ষতি বা উপকার করতে পারি না। বরং তোমরা এমন এক সম্প্রদায় যাদেরকে আল্লাহ পরীক্ষা করছেন। তিনি তোমাদেরকে কখনো সুখ-সমৃদ্ধি দিয়ে, কখনো দুঃখ-দুর্যোগ দিয়ে পরীক্ষা করছেন, যাতে প্রকাশ পায় কে প্রকৃতপক্ষে সত্যের অনুসারী এবং কে মিথ্যার পথে অটল থাকে।"

অর্থাৎ সালিহ (আঃ) তাদের এই ভ্রান্ত ধারণা দূর করলেন যে, কোনো মানুষের কারণে অশুভ ঘটনা ঘটে। বরং সবকিছু আল্লাহর হুকুমে ঘটে। আর এই বিপদ-আপদগুলো তাদের জন্য শাস্তি বা পরীক্ষা, যা তাদের মিথ্যা বলার কারণে এসেছে।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলামে কুলক্ষণ বা অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো মানুষ, পশু-পাখি বা বস্তুকে অমঙ্গলের কারণ মনে করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এতে আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্যের উপর আস্থা থাকে না।
  2. মুমিনের বিশ্বাস হওয়া উচিত যে, ভালো-মন্দ সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। কোনো মানুষের ক্ষমতা নেই অন্যের ভালো বা মন্দ করার। তাই মানুষের উপর দোষ চাপানোর পরিবর্তে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত।
  3. বিপদ-আপদ, সুখ-দুঃখ—সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় কে ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ, আর কে অকৃতজ্ঞ ও অবাধ্য—তা আল্লাহ ভালো করেই জানেন। মুমিনের উচিত প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখা এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
  4. নবী-রাসূলগণ যখন জাতির কাছ থেকে অন্যায় আচরণ পেতেন, তখন তারা ধৈর্য ও হিকমতের সাথে জবাব দিতেন। আমাদের উচিত তাদের এই আদর্শ অনুসরণ করা এবং কোনো অবস্থাতেই সত্য থেকে বিচ্যুত না হওয়া।


📜 আয়াত 45-49 — আন-নামল

45وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ
আমি সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই সালেহকে এই মর্মে প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। অতঃপর তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে প্রবৃত্ত হল।
46قَالَ يَا قَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُونَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ ۖ لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
সালেহ বললেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কল্যাণের পূর্বে দ্রুত অকল্যাণ কামনা করছ কেন? তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না কেন? সম্ভবতঃ তোমরা দয়াপ্রাপ্ত হবে।
47قَالُوا اطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَ ۚ قَالَ طَائِرُكُمْ عِندَ اللَّهِ ۖ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُونَ
তারা বলল, তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা আছে, তাদেরকে আমরা অকল্যাণের প্রতীক মনে করি। সালেহ বললেন, তোমাদের মঙ্গলামঙ্গল আল্লাহর কাছে; বরং তোমরা এমন সম্প্রদায়, যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
48وَكَانَ فِي الْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍ يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ
আর সেই শহরে ছিল এমন একজন ব্যক্তি, যারা দেশময় অনর্থ সৃষ্টি করে বেড়াত এবং সংশোধন করত না।
49قَالُوا تَقَاسَمُوا بِاللَّهِ لَنُبَيِّتَنَّهُ وَأَهْلَهُ ثُمَّ لَنَقُولَنَّ لِوَلِيِّهِ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ أَهْلِهِ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ
তারা বলল, তোমরা পরস্পরে আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ কর যে, আমরা রাত্রিকালে তাকে ও তার পরিবারবর্গকে হত্যা করব। অতঃপর তার দাবীদারকে বলে দেব যে, তার পরিবারবর্গের হত্যাকান্ড আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। আমরা নিশ্চয়ই সত্যবাদী।
আন-নামলকুরআন সূচী
93আয়াত
মাক্কীRevelation
47আয়াত

অনুবাদ — আন-নামল 47

সূরা আন-নামল আয়াত 47 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা বলল, তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা আছে, তাদেরকে আমরা…

সূরা আয়াত 47/93 — আন-নামল النمل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নামল শুনুন, আন-নামল অনুবাদ, আন-নামল mp3, আন-নামল pdf. আয়াত 45–49. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Wednesday, August 19, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না