আন-নামল · 46/93
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নামল
قَالَ يَا قَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُونَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ ۖ لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ۝٤٦
Qaala yaa qawmi lima tasta`jiloona bissaiyi`ati qablal hasanati law laa tas taghfiroonal laaha la`allakum turhamoon
📖 বাংলা অর্থ
সালেহ বললেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কল্যাণের পূর্বে দ্রুত অকল্যাণ কামনা করছ কেন? তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না কেন? সম্ভবতঃ তোমরা দয়াপ্রাপ্ত হবে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • تَسْتَعْجِلُونَ بِالسَّيِّئَةِ – তোমরা শাস্তি ত্বরান্বিত করছ।
  • الْحَسَنَةِ – (এখানে) তাওবা, ঈমান ও ক্ষমা।
  • لَوْلَا – কেন নয়? / কেন করছ না?
  • تَسْتَغْفِرُونَ – তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করছ।
  • لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ – যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়।

তাফসীর:

হযরত সালিহ (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসী অংশকে লক্ষ্য করে বললেন: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন শাস্তি ও আযাব ত্বরান্বিত করতে চাও, অথচ তা তোমাদের ধ্বংস ডেকে আনবে? তোমরা কেন সেই পথ বেছে নিচ্ছ যা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর, আর যে পথে কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমত রয়েছে (ঈমান, তাওবা ও সৎকর্ম) তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছ? তোমরা যখনই সতর্ক করা হয়েছ, তখনই তোমরা বলেছ যে, সত্যবাদী হলে আমাদের উপর শাস্তি নিয়ে আসো। অথচ তোমাদের উচিত ছিল আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং নিজেদের কুফরি ও পাপের জন্য তাওবা করা। কেন তোমরা আল্লাহর রহমতের দরজায় ধাক্কা দিচ্ছ না? যদি তোমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাওবা করো, তবে আল্লাহ তোমাদের উপর রহমত করবেন, তোমাদের শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন এবং তোমাদের উপর তাঁর অনুগ্রহ নাজিল করবেন। কিন্তু শাস্তি নেমে আসার পর তাওবা আর গ্রহণযোগ্য হবে না, কারণ তখন তাওবার সময় শেষ হয়ে যাবে। তাই শাস্তি আসার আগেই তোমরা আল্লাহর কাছে ফিরে এসো এবং তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা করো।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. মুমিনের উচিত সর্বদা আল্লাহর রহমতের আশা করা এবং শাস্তি থেকে বাঁচতে তাওবা ও ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরা। আল্লাহর রহমত অর্জনের সবচেয়ে বড় উপায় হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা।
  2. আযাব ও বিপদ কামনা করা কখনো উচিত নয়; বরং বিপদ থেকে মুক্তি ও রহমত নাজিলের জন্য দু‘আ করা উচিত।
  3. তাওবার দরজা সবসময় খোলা থাকে, কিন্তু শাস্তি নেমে আসার পর তাওবা আর ফলপ্রসূ হয় না। তাই সুযোগ থাকতেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা জরুরি।
  4. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, কঠিন পরিস্থিতিতেও নবী ও ধর্মপ্রচারকদের উচিত সদয়ভাবে ও হিকমতের সাথে উপদেশ দেওয়া এবং মানুষকে আল্লাহর রহমতের দিকে আহ্বান করা।
  5. আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি চান তাঁর বান্দারা তাঁর কাছে ফিরে আসুক এবং তাঁর রহমত লাভ করুক। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে সর্বদা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।


📜 আয়াত 44-48 — সূরা আন-নামল

44قِيلَ لَهَا ادْخُلِي الصَّرْحَ ۖ فَلَمَّا رَأَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةً وَكَشَفَتْ عَن سَاقَيْهَا ۚ قَالَ إِنَّهُ صَرْحٌ مُّمَرَّدٌ مِّن قَوَارِيرَ ۗ قَالَتْ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
তাকে বলা হল, এই প্রাসাদে প্রবেশ কর। যখন সে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করল সে ধারণা করল যে, এটা স্বচ্ছ গভীর জলাশয়। সে তার পায়ের গোছা খুলে ফেলল। সুলায়মান বলল, এটা তো স্বচ্ছ স্ফটিক নির্মিত প্রাসাদ। বিলকীস বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলায়মানের সাথে বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পন করলাম।
45وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ
আমি সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই সালেহকে এই মর্মে প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। অতঃপর তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে প্রবৃত্ত হল।
46قَالَ يَا قَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُونَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ ۖ لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
সালেহ বললেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কল্যাণের পূর্বে দ্রুত অকল্যাণ কামনা করছ কেন? তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না কেন? সম্ভবতঃ তোমরা দয়াপ্রাপ্ত হবে।
47قَالُوا اطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَ ۚ قَالَ طَائِرُكُمْ عِندَ اللَّهِ ۖ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُونَ
তারা বলল, তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা আছে, তাদেরকে আমরা অকল্যাণের প্রতীক মনে করি। সালেহ বললেন, তোমাদের মঙ্গলামঙ্গল আল্লাহর কাছে; বরং তোমরা এমন সম্প্রদায়, যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
48وَكَانَ فِي الْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍ يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ
আর সেই শহরে ছিল এমন একজন ব্যক্তি, যারা দেশময় অনর্থ সৃষ্টি করে বেড়াত এবং সংশোধন করত না।
আন-নামলকুরআন সূচী
93আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
46আয়াত

অনুবাদ — আন-নামল 46

সূরা আন-নামল আয়াত 46 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : সালেহ বললেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কল্যাণের পূর্বে দ্রুত অকল্যাণ…

সূরা আয়াত 46/93 — সূরা আন-নামল النمل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নামল শুনুন, সূরা আন-নামল অনুবাদ, সূরা আন-নামল mp3, সূরা আন-নামল pdf. আয়াত 44–48. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না