Rabbanaa wa aatinaa maa wa`attanaa `alaa Rusulika wa laa tukhzinaa Yawmal Qiyaamah; innaka laa tukhliful mee`aad
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দাও, যা তুমি ওয়াদা করেছ তোমার রসূলগণের মাধ্যমে এবং কিয়ামতের দিন আমাদিগকে তুমি অপমানিত করো না। নিশ্চয় তুমি ওয়াদা খেলাফ করো না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और ऐ पालने वाले अपने रसूलों की मार्फत जो कुछ हमसे वायदा किया है हमें दे और हमें क़यामत के दिन रूसवा न कर तू तो वायदा ख़िलाफ़ी करता ही नहीं
مَا وَعَدتَّنَا – যা আপনি আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
عَلَىٰ رُسُلِكَ – আপনার রাসূলগণের (মুখে/যবানে)।
وَلَا تُخْزِنَا – এবং আমাদেরকে লাঞ্ছিত/অপমানিত করবেন না।
يَوْمَ الْقِيَامَةِ – কিয়ামতের দিন।
لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ – আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।
তাফসীর:
হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে যা কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আপনার রাসূলদের মাধ্যমে—যেমন হিদায়াত, তাওফীক, সাহায্য, বিজয়, জান্নাত ও ক্ষমা—আমাদেরকে তা দান করুন। আর কিয়ামতের দিন আমাদেরকে অপমানিত ও লজ্জিত করবেন না, আমাদের গুনাহের কারণে আমাদেরকে ফাঁস করে দেবেন না, এবং আমাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে অপদস্থ করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না; আপনি যেমনটি বলেছেন, তেমনটিই করেন। আপনার ওয়াদা সত্য এবং আপনার কথা অটল। তাই আমরা আপনার দরবারে এই দো‘আ করছি—আপনার ওয়াদা পূরণ করুন এবং আমাদেরকে কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করুন।
শিক্ষা ও ফায়দা:
মুমিনের জীবনে দো‘আ একটি মহান অস্ত্র। আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন পেশ করা এবং তাঁর ওয়াদার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া—এটি নবীদের সুন্নাত ও মুমিনদের বৈশিষ্ট্য। এটি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করে এবং অন্তরে আস্থা সৃষ্টি করে।
আল্লাহ কখনো তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। এটি মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা। দুনিয়ার কোনো শক্তি বা প্রতিকূল পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, আল্লাহর ওয়াদার উপর ভরসা রাখা চাই। কারণ তিনি সত্যবাদী এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ হবে।
কিয়ামতের দিন লজ্জিত হওয়া থেকে বাঁচার জন্য দুনিয়াতেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। গুনাহ থেকে তাওবা করা, আল্লাহর আদেশ মান্য করা এবং রাসূলের (ﷺ) অনুসরণ করা—এগুলোই সেই দিনের লজ্জা থেকে মুক্তির উপায়।
এই দো‘আ শিক্ষা দেয় যে, মুমিনের উচিত দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের কল্যাণ কামনা করা। শুধু দুনিয়ার সাফল্য নয়, বরং আখিরাতের সাফল্যই আসল লক্ষ্য হওয়া চাই।
আল্লাহর কাছে দো‘আ করার সময় বিনয় ও কাকুতি-মিনতির সাথে করা উচিত। দো‘আতে বারবার "রব্বানা" বলে সম্বোধন করা—যেমন এই আয়াতে তিনবার বলা হয়েছে—আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ভয় ও আশা প্রকাশের একটি সুন্দর পদ্ধতি। এটি দো‘আ কবুলের অন্যতম মাধ্যম।
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দাও, যা তুমি ওয়াদা করেছ তোমার রসূলগণের মাধ্যমে এবং কিয়ামতের দিন আমাদিগকে তুমি অপমানিত করো না। নিশ্চয় তুমি ওয়াদা খেলাফ করো না।
হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিশ্চিতরূপে শুনেছি একজন আহবানকারীকে ঈমানের প্রতি আহবান করতে যে, তোমাদের পালনকর্তার প্রতি ঈমান আন; তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের পালনকর্তা! অতঃপর আমাদের সকল গোনাহ মাফ কর এবং আমাদের সকল দোষত্রুটি দুর করে দাও, আর আমাদের মৃত্যু দাও নেক লোকদের সাথে।
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দাও, যা তুমি ওয়াদা করেছ তোমার রসূলগণের মাধ্যমে এবং কিয়ামতের দিন আমাদিগকে তুমি অপমানিত করো না। নিশ্চয় তুমি ওয়াদা খেলাফ করো না।
অতঃপর তাদের পালনকর্তা তাদের দোয়া (এই বলে) কবুল করে নিলেন যে, আমি তোমাদের কোন পরিশ্রমকারীর পরিশ্রমই বিনষ্ট করি না, তা সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রীলোক। তোমরা পরস্পর এক। তারপর সে সমস্ত লোক যারা হিজরত করেছে, তাদেরকে নিজেদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রতি উৎপীড়ন করা হয়েছে আমার পথে এবং যারা লড়াই করেছে ও মৃত্যুবরণ করেছে, অবশ্যই আমি তাদের উপর থেকে অকল্যাণকে অপসারিত করব। এবং তাদেরকে প্রবিষ্ট করব জান্নাতে যার তলদেশে নহর সমূহ প্রবাহিত। এই হলো বিনিময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম বিনিময়।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।