আন-নিসা · 104/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
وَلَا تَهِنُوا فِي ابْتِغَاءِ الْقَوْمِ ۖ إِن تَكُونُوا تَأْلَمُونَ فَإِنَّهُمْ يَأْلَمُونَ كَمَا تَأْلَمُونَ ۖ وَتَرْجُونَ مِنَ اللَّهِ مَا لَا يَرْجُونَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا ۝١٠٤
Wa laa tahinoo fibtighaaa`il qawmi in takoonoo taalamoona fa innahum yaalamoona kamaa taalamoona wa tarjoona minal laahi maa laa yarjoon; wa kaanal laahu `Aleeman Hakeemaa
📖 বাংলা অর্থ
তাদের পশ্চাদ্ধাবনে শৈথিল্য করো না। যদি তোমরা আঘাত প্রাপ্ত, তবে তারাও তো তোমাদের মতই হয়েছে আঘাতপ্রাপ্ত এবং তোমরা আল্লাহর কাছে আশা কর, যা তারা আশা করে না। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • তাহিনূ (تهنوا): দুর্বল হয়ে পড়া, অলসতা করা, সাহস হারানো।
  • ইবতিগা (ابتغاء): সন্ধান করা, তালাশ করা, অনুসরণ করা।
  • আল-ক্বাওম (القوم): এখানে শত্রু সম্প্রদায় অর্থাৎ কাফির যোদ্ধারা।
  • তা’লামূন (تألمون): কষ্ট পাওয়া, ব্যথা অনুভব করা।
  • তারজূনা (ترجون): আশা করা, প্রত্যাশা করা।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

হে মুমিনগণ! শত্রুর পিছনে ধাওয়া করা এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কখনো দুর্বলতা বা অলসতা প্রদর্শন করো না। কারণ, জিহাদের পথে তোমরা যে কষ্ট, ব্যথা-বেদনা, ক্ষত-বিক্ষত হওয়া বা শহীদ হওয়ার যন্ত্রণা অনুভব করছ, শত্রুরাও ঠিক একই রকম কষ্ট ও বেদনা অনুভব করে। তাদেরও তোমাদের মতোই ক্ষয়ক্ষতি হয়, আহত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু তারপরও তারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং হাল ছেড়ে দিচ্ছে না। সুতরাং তোমরা কেন দুর্বল হবে? বরং তোমাদের উচিত তাদের চেয়ে বেশি ধৈর্য ও সাহস দেখানো।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তোমরা আল্লাহর কাছে সওয়াব, জান্নাত, সাহায্য ও বিজয়ের যে আশা রাখো, তা তারা রাখে না। কারণ তারা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাই তাদের কোনো আশা-আকাঙ্ক্ষাই নেই যা তাদেরকে কষ্ট সহ্য করতে উৎসাহিত করে। কিন্তু তোমাদের রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি, জান্নাতের সুসংবাদ এবং দুনিয়াতেও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি। এই আশাই তোমাদেরকে আরও দৃঢ় ও অটল রাখা উচিত।

আল্লাহ তাআলা তোমাদের সকল অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়। তিনি যা কিছু আদেশ বা নিষেধ করেন, তার মধ্যে গভীর হিকমত রয়েছে। তিনি জানেন কোন অবস্থায় তোমাদের জন্য কল্যাণ এবং কোনটি অকল্যাণ।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. মুমিনের চরিত্র হবে দৃঢ় ও সাহসী; বিপদ-আপদে কখনো হতাশ বা দুর্বল হওয়া উচিত নয়।
  2. কষ্ট ও বেদনা জীবনেরই অংশ। শত্রুরাও কষ্ট পায়, তাই কষ্টকে অজুহাত বানিয়ে পিছু হটলে চলবে না।
  3. মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আল্লাহর উপর ভরসা ও আখিরাতের আশা। এই আশাই তাকে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে টিকিয়ে রাখে।
  4. আল্লাহর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অপরিসীম। তাঁর প্রতিটি নির্দেশের পেছনে রয়েছে মানুষের জন্য কল্যাণ, যদিও তা আমাদের কাছে স্পষ্ট না হয়।
  5. ধৈর্য ও অধ্যবসায়ই সফলতার চাবিকাঠি। যে জাতি কষ্ট সহ্য করতে শেখে, তারাই ইতিহাসে বিজয়ী হয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 102-106 — আন-নিসা

102وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِّنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِن وَرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَىٰ لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ ۗ وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُم مَّيْلَةً وَاحِدَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن كَانَ بِكُمْ أَذًى مِّن مَّطَرٍ أَوْ كُنتُم مَّرْضَىٰ أَن تَضَعُوا أَسْلِحَتَكُمْ ۖ وَخُذُوا حِذْرَكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا
যখন আপনি তাদের মধ্যে থাকেন, অতঃপর নামাযে দাঁড়ান, তখন যেন একদল দাঁড়ায় আপনার সাথে এবং তারা যেন স্বীয় অস্ত্র সাথে নেয়। অতঃপর যখন তারা সেজদা সম্পন্ন করে, তখন আপনার কাছ থেকে যেন সরে যায় এবং অন্য দল যেন আসে, যারা নামায পড়েনি। অতঃপর তারা যেন আপনার সাথে নামায পড়ে এবং আত্মরক্ষার হাতিয়ার সাথে নেয়। কাফেররা চায় যে, তোমরা কোন রূপে অসতর্ক থাক, যাতে তারা একযোগে তোমাদেরকে আক্রমণ করে বসে। যদি বৃষ্টির কারণে তোমাদের কষ্ট হয় অথবা তোমরা অসুস্থ হও তবে স্বীয় অস্ত্র পরিত্যাগ করায় তোমাদের কোন গোনাহ নেই এবং সাথে নিয়ে নাও তোমাদের আত্নরক্ষার অস্ত্র। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের জন্যে অপমানকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
103فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمْ ۚ فَإِذَا اطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ ۚ إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا
অতঃপর যখন তোমরা নামায সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন নামায ঠিক করে পড়। নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।
104وَلَا تَهِنُوا فِي ابْتِغَاءِ الْقَوْمِ ۖ إِن تَكُونُوا تَأْلَمُونَ فَإِنَّهُمْ يَأْلَمُونَ كَمَا تَأْلَمُونَ ۖ وَتَرْجُونَ مِنَ اللَّهِ مَا لَا يَرْجُونَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
তাদের পশ্চাদ্ধাবনে শৈথিল্য করো না। যদি তোমরা আঘাত প্রাপ্ত, তবে তারাও তো তোমাদের মতই হয়েছে আঘাতপ্রাপ্ত এবং তোমরা আল্লাহর কাছে আশা কর, যা তারা আশা করে না। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
105إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ ۚ وَلَا تَكُن لِّلْخَائِنِينَ خَصِيمًا
নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্য কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন, যা আল্লাহ আপনাকে হৃদয়ঙ্গম করান। আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হবেন না।
106وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا
এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
104আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 104

সূরা আন-নিসা আয়াত 104 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাদের পশ্চাদ্ধাবনে শৈথিল্য করো না। যদি তোমরা আঘাত প্রাপ্ত, তবে…

সূরা আয়াত 104/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 102–106. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না