আন-নিসা · 105/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ ۚ وَلَا تَكُن لِّلْخَائِنِينَ خَصِيمًا ۝١٠٥
Innaaa anzalnaaa ilaikal Kitaaba bilhaqqi litahkuma bainan naasi bimaaa araakal laah; wa laa takul lilkhaaa`ineena khaseemaa
📖 বাংলা অর্থ
নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্য কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন, যা আল্লাহ আপনাকে হৃদয়ঙ্গম করান। আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হবেন না।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • الْكِتَابَ – কিতাব (এখানে আল-কুরআন)।
  • بِالْحَقِّ – সত্য ও ন্যায়সঙ্গতভাবে।
  • لِتَحْكُمَ – যাতে আপনি বিচার/ফয়সালা করেন।
  • بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ – যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন/অবহিত করেছেন (অর্থাৎ ওহির মাধ্যমে যা জানানো হয়েছে)।
  • الْخَائِنِينَ – বিশ্বাসঘাতক/খেয়ানতকারী (যারা নিজের আমানত বা দায়িত্বে খেয়ানত করে)।
  • خَصِيمًا – পক্ষপাতমূলক উকিল/মামলার পক্ষে বিতর্ককারী/সহায়ক।

তাফসীর:

হে নবী (ﷺ)! নিশ্চয়ই আমরা আপনার প্রতি এই কিতাব (আল-কুরআন) সত্যসহকারে নাযিল করেছি—এর প্রতিটি বিষয় সত্য, প্রতিটি নির্দেশ ন্যায়সংগত এবং প্রতিটি বিধান হিকমতপূর্ণ। এর উদ্দেশ্য হলো, আপনি মানুষের মধ্যে এমনভাবে বিচার করবেন যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন এবং ওহির মাধ্যমে দেখিয়েছেন—আপনার নিজের প্রবৃত্তি বা ব্যক্তিগত মতামত অনুযায়ী নয়, বরং আল্লাহর নির্দেশ ও জ্ঞান অনুযায়ী।

এই আয়াতটি একটি বিশেষ ঘটনা প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছিল। এক ব্যক্তি (ত্বু'মা ইবনে উবাইরিক) একটি বর্ম চুরি করেছিল এবং তা এক ইহুদির কাছে গোপন রেখেছিল। পরে চুরির অভিযোগ ওঠলে সে কসম খেয়ে অস্বীকার করে এবং ইহুদির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলে। নবী (ﷺ) তখন ইহুদির পক্ষ থেকে সত্য জানতে পারেননি বলে ইহুদিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কাছাকাছি ছিলেন। তখন এই আয়াত নাযিল হয় যে, আপনি খেয়ানতকারীদের পক্ষে উকিল বা সুপারিশকারী হবেন না। অর্থাৎ, যে নিজের আমানতে খেয়ানত করে এবং মিথ্যা বলে সত্য গোপন করে, তার পক্ষে দাঁড়ানো বা তার হয়ে বিতর্ক করা সম্পূর্ণ অনুচিত। এমনকি যদি বাহ্যিক প্রমাণ তার পক্ষে বলে মনে হয়, তবুও আল্লাহর কাছে তার আসল অবস্থা স্পষ্ট, তাই বিচারক হিসেবে আপনাকে ওহির নির্দেশিত পথেই চলতে হবে, মানুষের বাহ্যিক অবস্থা দেখে নয়, বরং আল্লাহর প্রদত্ত জ্ঞান ও ন্যায়বিচার অনুসরণ করতে হবে।


ফায়দা ও শিক্ষা:

  1. বিচার ও ফয়সালায় ন্যায়পরায়ণতা: এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, যেকোনো বিচার বা সিদ্ধান্তে আল্লাহর নির্দেশ ও ন্যায়বিচারকে প্রাধান্য দিতে হবে, ব্যক্তিগত পক্ষপাত বা আবেগকে নয়।
  2. খেয়ানতকারীর পক্ষে না দাঁড়ানো: যে ব্যক্তি আমানতে খেয়ানত করে, মিথ্যা বলে বা সত্য গোপন করে, তার পক্ষে সুপারিশ করা বা তাকে সমর্থন করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি যদি সে আমাদের আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠ হয়, তবুও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকতে হবে।
  3. ওহি ও জ্ঞানের গুরুত্ব: আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান (কুরআন ও সুন্নাহ) হলো মানুষের জীবনের সকল সমস্যার সমাধানের চাবিকাঠি। তাই যেকোনো সিদ্ধান্তে এই জ্ঞানকেই মানদণ্ড বানাতে হবে।
  4. সত্য প্রকাশের সাহস: এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, সত্য গোপন করা বা মিথ্যার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। একজন মুমিনের কর্তব্য হলো সত্য বলার সাহস রাখা, এমনকি যদি তা নিজের ক্ষতির কারণ হয়।
  5. আল্লাহর তত্ত্বাবধানে আস্থা: আল্লাহ সবকিছু জানেন, মানুষের বাহ্যিক অবস্থা দেখে আমরা প্রতারিত হতে পারি, কিন্তু আল্লাহর জ্ঞান নিখুঁত। তাই আমরা যেন আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ন্যায়ের পথে অটল থাকি।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 103-107 — আন-নিসা

103فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمْ ۚ فَإِذَا اطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ ۚ إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا
অতঃপর যখন তোমরা নামায সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন নামায ঠিক করে পড়। নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।
104وَلَا تَهِنُوا فِي ابْتِغَاءِ الْقَوْمِ ۖ إِن تَكُونُوا تَأْلَمُونَ فَإِنَّهُمْ يَأْلَمُونَ كَمَا تَأْلَمُونَ ۖ وَتَرْجُونَ مِنَ اللَّهِ مَا لَا يَرْجُونَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
তাদের পশ্চাদ্ধাবনে শৈথিল্য করো না। যদি তোমরা আঘাত প্রাপ্ত, তবে তারাও তো তোমাদের মতই হয়েছে আঘাতপ্রাপ্ত এবং তোমরা আল্লাহর কাছে আশা কর, যা তারা আশা করে না। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
105إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ ۚ وَلَا تَكُن لِّلْخَائِنِينَ خَصِيمًا
নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্য কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন, যা আল্লাহ আপনাকে হৃদয়ঙ্গম করান। আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হবেন না।
106وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا
এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
107وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنفُسَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا
যারা মনে বিশ্বাস ঘাতকতা পোষণ করে তাদের পক্ষ থেকে বিতর্ক করবেন না। আল্লাহ পছন্দ করেন না তাকে, যে বিশ্বাস ঘাতক পাপী হয়।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
105আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 105

সূরা আন-নিসা আয়াত 105 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্য কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি…

সূরা আয়াত 105/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 103–107. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না