Wa rafa`naa fawqahumut Toora bimeesaaqihim wa qulnaa lahumud khulul baaba sujjadanw wa qulnaa lahum laa ta`doo fis Sabti wa akhaznaa minhum meesaaqan ghaleezaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেবার উদ্দেশ্যে আমি তাদের উপর তূর পর্বতকে তুলে ধরেছিলাম এবং তাদেরকে বলেছিলাম, অবনত মস্তকে দরজায় ঢোক। আর বলেছিলাম, শনিবার দিন সীমালংঘন করো না। এভাবে তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और हमने उनके एहद व पैमान की वजह से उनके (सर) पर (कोहे) तूर को लटका दिया और हमने उनसे कहा कि (शहर के) दरवाज़े में सजदा करते हुए दाख़िल हो और हमने (ये भी) कहा कि तुम हफ्ते के दिन (हमारे हुक्म से) तजावुज़ न करना और हमने उनसे बहुत मज़बूत एहदो पैमान ले लिया
আর তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেবার উদ্দেশ্যে আমি তাদের উপর তূর পর্বতকে তুলে ধরেছিলাম এবং তাদেরকে বলেছিলাম, অবনত মস্তকে দরজায় ঢোক। আর বলেছিলাম, শনিবার দিন সীমালংঘন করো না। এভাবে তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
الطُّورَ (আত-তূর): পর্বত, বিশেষ করে সিনাই পর্বত।
بِمِيثَاقِهِمْ (বি-মিছাকিহিম): তাদের অঙ্গীকারের কারণে; এখানে অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে অর্থে ব্যবহৃত।
سُجَّدًا (সুজ্জাদান): নতশিরে, সিজদারত অবস্থায়।
لَا تَعْدُوا (লা তা‘দু): সীমালঙ্ঘন করো না, অবাধ্য হয়ো না।
غَلِيظًا (গালীযান): কঠোর, সুদৃঢ়, গুরুতর।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের বিরুদ্ধে তাদের একের পর এক অপরাধ ও অঙ্গীকার ভঙ্গের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম তাওরাতের বিধান মেনে চলার। কিন্তু তারা যখন তা পালনে অবহেলা ও পিছপা হওয়ার প্রবণতা দেখাল, তখন আমরা তাদের মাথার উপর তূর পর্বত তুলে ধরি—ভয় দেখানোর জন্য, যেন তারা অঙ্গীকার পালনে বাধ্য হয়। এটি ছিল তাদের জন্য এক কঠোর সতর্কবার্তা।
এরপর আমরা তাদের বলেছিলাম, “নতশিরে, সিজদারত অবস্থায় বাইতুল মুকাদ্দাসের দরজায় প্রবেশ করো।” কিন্তু তারা আদেশ অমান্য করে উল্টো উপায়ে—হামাগুড়ি দিয়ে বা পেছনের দিকে—প্রবেশ করে, যা ছিল তাদের অবাধ্যতার আরেকটি প্রকাশ।
আরও আমরা তাদের বলেছিলাম, “শনিবারের দিনে (মাছ শিকার করে) সীমালঙ্ঘন করো না।” কিন্তু তারা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং শনিবারের দিনেই মাছ শিকার করে ফেলে। আমরা তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি কঠোর, সুদৃঢ় অঙ্গীকারও নিয়েছিলাম—যেমন তারা বলেছিল, “আমরা শুনলাম ও মানলাম”—কিন্তু তারপরও তারা তা ভঙ্গ করে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর আদেশ-নিষেধ যত কঠোরই হোক না কেন, তা বান্দার কল্যাণের জন্যই। বনী ইসরাঈলকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তারা অবাধ্য হয়ে শাস্তির পাত্র হয়েছিল। আমাদের উচিত আল্লাহর আদেশকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা।
অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি পালন করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। বনী ইসরাঈল অঙ্গীকার করেও ভঙ্গ করেছিল, ফলে তারা আল্লাহর অভিশাপের শিকার হয়। ইসলাম আমাদের শেখায়, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ঈমানের অংশ।
আল্লাহর আদেশ পালনে বিলম্ব বা বিকৃত করা (যেমন তারা সিজদার বদলে অন্য উপায়ে প্রবেশ করেছিল) কবিরা গুনাহ। আমাদের উচিত আল্লাহর আদেশ যথাযথভাবে, বিনা বিকৃতিতে পালন করা।
নিষিদ্ধ কাজের প্রতি আকর্ষণ যতই প্রবল হোক, মুমিনকে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। শনিবারের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা যেমন শাস্তি পেয়েছিল, তেমনি আমাদেরও হারাম কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে।
এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর হতে পারে, কিন্তু তার রহমতও অফুরন্ত। আমরা যদি তওবা করি এবং সঠিক পথে ফিরে আসি, আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করবেন। ইসলামের শিক্ষা হলো, ভুল স্বীকার করে ফিরে আসার দরজা সর্বদা খোলা।
আর যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর রসূলের উপর এবং তাঁদের কারও প্রতি ঈমান আনতে গিয়ে কাউকে বাদ দেয়নি, শীঘ্রই তাদেরকে প্রাপ্য সওয়াব দান করা হবে। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু।
আপনার নিকট আহলে-কিতাবরা আবেদন জানায় যে, আপনি তাদের উপর আসমান থেকে লিখিত কিতাব অবতীর্ণ করিয়ে নিয়ে আসুন। বস্তুতঃ এরা মূসার কাছে এর চেয়েও বড় জিনিস চেয়েছে। বলেছে, একেবারে সামনাসামনিভাবে আমাদের আল্লাহকে দেখিয়ে দাও। অতএব, তাদের উপর বজ্রপাত হয়েছে তাদের পাপের দরুন; অতঃপর তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ-নিদর্শন প্রকাশিত হবার পরেও তারা গো-বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল; তাও আমি ক্ষমা করে দিয়েছিলাম এবং আমি মূসাকে প্রকৃষ্ট প্রভাব দান করেছিলাম।
আর তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেবার উদ্দেশ্যে আমি তাদের উপর তূর পর্বতকে তুলে ধরেছিলাম এবং তাদেরকে বলেছিলাম, অবনত মস্তকে দরজায় ঢোক। আর বলেছিলাম, শনিবার দিন সীমালংঘন করো না। এভাবে তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম।
অতএব, তারা যে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছিল, তা ছিল তাদেরই অঙ্গীকার ভঙ্গর জন্য এবং অন্যায়ভাবে রসূলগণকে হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই উক্তির দরুন যে, আমাদের হৃদয় আচ্ছন্ন। অবশ্য তা নয়, বরং কুফরীর কারণে স্বয়ং আল্লাহ তাদের অন্তরের উপর মোহর এঁটে দিয়েছেন। ফলে এরা ঈমান আনে না কিন্তু অতি অল্পসংখ্যক।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।