Wa akhzihimur ribaa wa qad nuhoo `anhu wa aklihim amwaalan naasi bilbaatil; wa a`tadnaa lilkaafireena minhum `azaaban aleema
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর এ কারণে যে, তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করতো অন্যায় ভাবে। বস্তুত; আমি কাফেরদের জন্য তৈরী করে রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और बावजूद मुमानिअत सूद खा लेने और नाहक़ ज़बरदस्ती लोगों के माल खाने की वजह से उनमें से जिन लोगों ने कुफ़्र इख्तेयार किया उनके वास्ते हमने दर्दनाक अज़ाब तैयार कर रखा है
আর এ কারণে যে, তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করতো অন্যায় ভাবে। বস্তুত; আমি কাফেরদের জন্য তৈরী করে রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
রিবা: সুদ, যা ইসলামী শরিয়তে সম্পূর্ণ হারাম।
বাতিল: অন্যায়ভাবে, কোনো বৈধ অধিকার ছাড়া।
আ’তাদনা: আমরা প্রস্তুত রেখেছি।
আলিম: যন্ত্রণাদায়ক, বেদনাদায়ক।
তাফসির:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলের (ইহুদিদের) আরও কিছু গুরুতর অপরাধের কথা উল্লেখ করেছেন, যার কারণে তাদের উপর হারাম করা হয়েছিল বহু পবিত্র ও ভালো জিনিস। তাদের অন্যতম বড় অপরাধ ছিল সুদ গ্রহণ করা। অথচ তাদের কিতাব তাওরাতে আল্লাহ তাদেরকে সুদ গ্রহণ করা থেকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছিলেন। তারা সেই নিষেধ অমান্য করে প্রকাশ্যে সুদের ব্যবসা চালাত এবং সুদকে বৈধ বলে গণ্য করত।
দ্বিতীয় অপরাধটি ছিল তারা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে আহার করত। অর্থাৎ তারা ঘুষ, প্রতারণা, জালিয়াতি, মিথ্যা সাক্ষ্য, এবং বিচারক হিসেবে ঘুষ নেওয়ার মাধ্যমে মানুষের সম্পদ গ্রাস করত। তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে ও অন্যায় উপায়ে অর্থ আদায় করত। এছাড়া তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করে তাদের সম্পদ হাতিয়ে নিত।
এই সমস্ত গুরুতর অপরাধের কারণেই আল্লাহ তাদের উপর কিছু পবিত্র বস্তু হারাম করেছিলেন এবং তাদের শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। যারা কুফরি ও এই পাপাচারে অটল ছিল, তাদের জন্য আল্লাহ কিয়ামতের দিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। তবে যারা তাওবা করে ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য আল্লাহর দরজা খোলা রয়েছে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
সুদ একটি মারাত্মক পাপ, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য। আমাদের উচিত সুদ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা এবং হালাল উপার্জনে সন্তুষ্ট থাকা।
মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে আহার করা, প্রতারণা করা, ঘুষ দেওয়া-নেওয়া — সবই কবিরা গুনাহ। আমাদের জীবিকা অর্জনে অবশ্যই বৈধ পথ অনুসরণ করতে হবে।
আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে শুধু দুনিয়াতেই নয়, আখিরাতেও কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়।
বস্তুতঃ ইহুদীদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূত-পবিত্র বস্তু যা তাদের জন্য হালাল ছিল-তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন।
আর এ কারণে যে, তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করতো অন্যায় ভাবে। বস্তুত; আমি কাফেরদের জন্য তৈরী করে রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব।
কিন্তু যারা তাদের মধ্যে জ্ঞানপক্ক ও ঈমানদার, তারা তাও মান্য করে যা আপনার উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার পূর্বে। আর যারা নামাযে অনুবর্তিতা পালনকারী, যারা যাকাত দানকারী এবং যারা আল্লাহ ও কেয়ামতে আস্থাশীল। বস্তুতঃ এমন লোকদেরকে আমি দান করবো মহাপুণ্য।
আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি, যেমন করে ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহের প্রতি এবং সে সমস্ত নবী-রসূলের প্রতি যাঁরা তাঁর পরে প্রেরিত হয়েছেন। আর ওহী পাঠিয়েছি, ইসমাঈল, ইব্রাহীম, ইসহাক, ইয়াকুব, ও তাঁর সন্তাবর্গের প্রতি এবং ঈসা, আইয়ুব, ইউনূস, হারুন ও সুলায়মানের প্রতি। আর আমি দাউদকে দান করেছি যবুর গ্রন্থ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।