ফুসসিলাত · 47/54
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ফুসসিলাত
۞ إِلَيْهِ يُرَدُّ عِلْمُ السَّاعَةِ ۚ وَمَا تَخْرُجُ مِن ثَمَرَاتٍ مِّنْ أَكْمَامِهَا وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ ۚ وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ أَيْنَ شُرَكَائِي قَالُوا آذَنَّاكَ مَا مِنَّا مِن شَهِيدٍ ۝٤٧
Ilaihi yuraddu `ilmus Saaa`ah; wa maa takhruju min samaraatim min akmaamihaa wa maa tahmilu min unsaa wa laa tada`u illaa bi`ilmih; wa Yawma yunaadeehim aina shurakaaa`ee qaalooo aazannaaka maa minnaa min shaheed
📖 বাংলা অর্থ
কেয়ামতের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোন ফল আবরণমুক্ত হয় না। এবং কোন নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না। যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, আমার শরীকরা কোথায়? সেদিন তারা বলবে, আমরা আপনাকে বলে দিয়েছি যে, আমাদের কেউ এটা স্বীকার করে না।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • إِلَيْهِ يُرَدُّ عِلْمُ السَّاعَةِ: কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছেই ফিরে যায়; অর্থাৎ কিয়ামত কবে হবে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।
  • أَكْمَامِهَا: 'কিম্ম' এর বহুবচন, অর্থাৎ ফলের আবরণ বা খোসা।
  • آذَنَّاكَ: আমরা আপনাকে জানিয়ে দিলাম / আমরা স্বীকার করে নিলাম।
  • شَهِيدٌ: সাক্ষী, যে সাক্ষ্য দেয়।

তাফসীর:

কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে, তার জ্ঞান সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ তাআলার কাছেই নিবেদিত। তিনি ছাড়া আর কেউই এর সঠিক সময় জানে না—না কোনো ফেরেশতা, না কোনো নবী। এই জ্ঞান আল্লাহর একক ইখতিয়ারে, যা তিনি কারো কাছে প্রকাশ করেননি।

এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর সর্বব্যাপী জ্ঞানের আরও কিছু নিদর্শন তুলে ধরেছেন। গাছের ফল当其 নিজ নিজ আবরণ (খোসা বা আঁটি) থেকে বের হয়, তা তাঁর জ্ঞানেই বের হয়। কোনো নারী গর্ভধারণ করে বা সন্তান প্রসব করে—এসব কিছুই তাঁর জ্ঞান ও অবগতির বাইরে ঘটে না। প্রতিটি ফলের সৃষ্টি, প্রতিটি গর্ভের সঞ্চার, প্রতিটি প্রসবের মুহূর্ত—সবকিছু তাঁর নিখুঁত জ্ঞানের আওতায় সংঘটিত হয়। তাঁর জ্ঞান থেকে একটি কণাও গোপন থাকে না।

অতঃপর কিয়ামতের দিনের একটি ভয়াবহ দৃশ্য বর্ণনা করা হয়েছে। সেদিন আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের ডেকে জিজ্ঞেস করবেন—তিরস্কার ও তাদের মিথ্যা প্রকাশের জন্য—"আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদেরকে তোমরা আমার সাথে শরিক করতে?" তখন তারা সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় উত্তর দেবে, "আমরা এখন আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছি যে, আমাদের মধ্যে কেউই আজ সাক্ষ্য দেবে না যে আপনার কোনো অংশীদার আছে।" অর্থাৎ, তারা নিজেরাই স্বীকার করবে যে, তাদের পূর্বের শিরক ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. কিয়ামতের জ্ঞান আল্লাহর একক বৈশিষ্ট্য। এটি বিশ্বাস করা ঈমানের অংশ। যে ব্যক্তি কিয়ামতের সময় সম্পর্কে গায়েবের দাবি করে, সে আল্লাহর সাথে শরিক করার মতো জঘন্য অপরাধ করে।
  2. আল্লাহর জ্ঞান সর্বব্যাপী ও পরিপূর্ণ। ফলের খোসা থেকে বের হওয়া, মায়ের গর্ভে সন্তান ধারণ ও প্রসব—এমন তুচ্ছ ঘটনাও তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। এই চিন্তা মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি গভীর ভয় ও শ্রদ্ধা সৃষ্টি করে এবং তাকে সর্বদা সতর্ক রাখে যে, আল্লাহ সবকিছু দেখছেন ও জানছেন।
  3. দুনিয়ার জীবনে মুশরিকরা যতই জোর দিয়ে বলুক যে, তাদের মাবুদরা আল্লাহর অংশীদার, কিয়ামতের দিন তারা নিজেরাই এই মিথ্যা স্বীকার করতে বাধ্য হবে। তখন কোনো সাক্ষী তাদের পক্ষে দাঁড়াবে না। এটি প্রমাণ করে যে, শিরক সম্পূর্ণ অসার ও মিথ্যা পথ।
  4. এই আয়াত মুমিনের অন্তরে তাওহীদের (একত্ববাদের) মাধুর্য সৃষ্টি করে। যখন মানুষ জানে যে, সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং তাঁর জ্ঞানই সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে, তখন সে কেবল আল্লাহরই মুখাপেক্ষী হয় এবং তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ করে। এই বিশ্বাসই তাকে দুনিয়ার সব ভয় ও উদ্বেগ থেকে মুক্তি দেয় এবং পরকালের সাফল্যের পথ দেখায়।


📜 আয়াত 45-49 — সূরা ফুসসিলাত

45وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَاخْتُلِفَ فِيهِ ۗ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۚ وَإِنَّهُمْ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ
আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়। আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। তারা কোরআন সমন্ধে এক অস্বস্তিকর সন্দেহে লিপ্ত।
46مَّنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ ۖ وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا ۗ وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ
যে সৎকর্ম করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই করে, আর যে অসৎকর্ম করে, তা তার উপরই বর্তাবে। আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করেন না।
47۞ إِلَيْهِ يُرَدُّ عِلْمُ السَّاعَةِ ۚ وَمَا تَخْرُجُ مِن ثَمَرَاتٍ مِّنْ أَكْمَامِهَا وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ ۚ وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ أَيْنَ شُرَكَائِي قَالُوا آذَنَّاكَ مَا مِنَّا مِن شَهِيدٍ
কেয়ামতের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোন ফল আবরণমুক্ত হয় না। এবং কোন নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না। যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, আমার শরীকরা কোথায়? সেদিন তারা বলবে, আমরা আপনাকে বলে দিয়েছি যে, আমাদের কেউ এটা স্বীকার করে না।
48وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَدْعُونَ مِن قَبْلُ ۖ وَظَنُّوا مَا لَهُم مِّن مَّحِيصٍ
পূর্বে তারা যাদের পূজা করত, তারা উধাও হয়ে যাবে এবং তারা বুঝে নেবে যে, তাদের কোন নিস্কৃতি নেই।
49لَّا يَسْأَمُ الْإِنسَانُ مِن دُعَاءِ الْخَيْرِ وَإِن مَّسَّهُ الشَّرُّ فَيَئُوسٌ قَنُوطٌ
মানুষ উন্নতি কামনায় ক্লান্ত হয় না; যদি তাকে অমঙ্গল স্পর্শ করে, তবে সে সম্পূর্ণ রূপে নিরাশ হয়ে পড়ে।
ফুসসিলাতকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
47আয়াত

অনুবাদ — ফুসসিলাত 47

সূরা ফুসসিলাত আয়াত 47 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : কেয়ামতের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোন ফল…

সূরা আয়াত 47/54 — সূরা ফুসসিলাত فصلت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ফুসসিলাত শুনুন, সূরা ফুসসিলাত অনুবাদ, সূরা ফুসসিলাত mp3, সূরা ফুসসিলাত pdf. আয়াত 45–49. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না