ফুসসিলাত · 46/54
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ফুসসিলাত
مَّنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ ۖ وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا ۗ وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ ۝٤٦
Man `amila salihan falinafshihee wa man asaaa`a fa`alaihaa; wamaa rabbuka bizallaamil lil `abeed
📖 বাংলা অর্থ
যে সৎকর্ম করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই করে, আর যে অসৎকর্ম করে, তা তার উপরই বর্তাবে। আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করেন না।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ظَلّام: অত্যন্ত জুলুমকারী। এখানে আল্লাহ তাআলা নিজেকে 'ظَلّام' (অতিশয় জুলুমকারী) থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ তিনি বান্দাদের প্রতি কিছুমাত্রও জুলুম করেন না।

তাফসীর:

যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে, তার কল্যাণ তারই নিজের জন্য। কেননা আল্লাহ তাআলা কারো আমলের মুখাপেক্ষী নন; বরং বান্দার নিজেরই উপকার হয় তার নেক আমলে। আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে, তার ক্ষতি তারই নিজের উপর বর্তাবে। আল্লাহ তাআলা তার কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না। বান্দার ভালো কাজে আল্লাহর কোনো লাভ নেই, আর মন্দ কাজে তাঁর কোনো ক্ষতি নেই। তিনি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, আপনার রব বান্দাদের প্রতি কিছুমাত্রও জুলুমকারী নন। তিনি কাউকে তার প্রাপ্যের চেয়ে কম দেবেন না, আবার কাউকে অপরাধের চেয়ে বেশি শাস্তিও দেবেন না। বরং তিনি সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারক ও অশেষ অনুগ্রহশীল। তিনি প্রত্যেক বান্দাকে তার কৃতকর্মের যথাযথ প্রতিফল দেবেন—ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং মন্দ কাজের জন্য শাস্তি। এমনকি তিনি নেককার বান্দাদের প্রতি নিজ অনুগ্রহে তাদের নেকির প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেন, কিন্তু পাপীদের শাস্তি দেন তাদের পাপের সমানই। এটাই তাঁর পূর্ণ ন্যায়বিচার ও করুণার পরিচয়।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. মানুষের প্রতিটি কাজের ফল তার নিজের কাছেই ফিরে আসে। তাই সৎকর্ম করা প্রতিটি মানুষের নিজস্ব স্বার্থে জরুরি।
  2. আল্লাহ তাআলা সম্পূর্ণ ন্যায়পরায়ণ। তাঁর বিচারে কোনো প্রকার জুলুম বা অবিচারের আশঙ্কা নেই।
  3. এই আয়াত মানুষকে নেক কাজে উৎসাহিত করে এবং মন্দ কাজ থেকে সতর্ক করে। কারণ প্রতিটি মানুষের কর্মের হিসাব হবে নিখুঁতভাবে।
  4. আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা উচিত যে, তিনি কখনো বান্দার কোনো ভালো কাজ বিনষ্ট করবেন না, বরং তার পুরস্কার পূর্ণরূপে দেবেন।
  5. এই ঘোষণা মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি আনে যে, দুনিয়ায় কোনো জুলুম হলেও আখিরাতে আল্লাহর ন্যায়বিচারে সবাই তার প্রাপ্য পাবে।


📜 আয়াত 44-48 — সূরা ফুসসিলাত

44وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا أَعْجَمِيًّا لَّقَالُوا لَوْلَا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ ۖ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ ۗ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ ۖ وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى ۚ أُولَٰئِكَ يُنَادَوْنَ مِن مَّكَانٍ بَعِيدٍ
আমি যদি একে অনারব ভাষায় কোরআন করতাম, তবে অবশ্যই তারা বলত, এর আয়াতসমূহ পরিস্কার ভাষায় বিবৃত হয়নি কেন? কি আশ্চর্য যে, কিতাব অনারব ভাষায় আর রসূল আরবী ভাষী! বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার। যারা মুমিন নয়, তাদের কানে আছে ছিপি, আর কোরআন তাদের জন্যে অন্ধত্ব। তাদেরকে যেন দূরবর্তী স্থান থেকে আহবান করা হয়।
45وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَاخْتُلِفَ فِيهِ ۗ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۚ وَإِنَّهُمْ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ
আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়। আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। তারা কোরআন সমন্ধে এক অস্বস্তিকর সন্দেহে লিপ্ত।
46مَّنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ ۖ وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا ۗ وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ
যে সৎকর্ম করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই করে, আর যে অসৎকর্ম করে, তা তার উপরই বর্তাবে। আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করেন না।
47۞ إِلَيْهِ يُرَدُّ عِلْمُ السَّاعَةِ ۚ وَمَا تَخْرُجُ مِن ثَمَرَاتٍ مِّنْ أَكْمَامِهَا وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ ۚ وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ أَيْنَ شُرَكَائِي قَالُوا آذَنَّاكَ مَا مِنَّا مِن شَهِيدٍ
কেয়ামতের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোন ফল আবরণমুক্ত হয় না। এবং কোন নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না। যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, আমার শরীকরা কোথায়? সেদিন তারা বলবে, আমরা আপনাকে বলে দিয়েছি যে, আমাদের কেউ এটা স্বীকার করে না।
48وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَدْعُونَ مِن قَبْلُ ۖ وَظَنُّوا مَا لَهُم مِّن مَّحِيصٍ
পূর্বে তারা যাদের পূজা করত, তারা উধাও হয়ে যাবে এবং তারা বুঝে নেবে যে, তাদের কোন নিস্কৃতি নেই।
ফুসসিলাতকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
46আয়াত

অনুবাদ — ফুসসিলাত 46

সূরা ফুসসিলাত আয়াত 46 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যে সৎকর্ম করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই করে, আর যে…

সূরা আয়াত 46/54 — সূরা ফুসসিলাত فصلت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ফুসসিলাত শুনুন, সূরা ফুসসিলাত অনুবাদ, সূরা ফুসসিলাত mp3, সূরা ফুসসিলাত pdf. আয়াত 44–48. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না