আশ-শুরা · 20/53
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আশ-শুরা
مَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ ۖ وَمَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِن نَّصِيبٍ ۝٢٠
Man kaana yureedu harsal Aakhirati nazid lahoo fee harsihee wa man kaana yureedu harsad dunyaa nu`tihee mnhaa wa maa lahoo fil Aakhirati min naseeb
📖 বাংলা অর্থ
যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে তার কিছু দিয়ে দেই এবং পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • حَرْثَ (শস্যক্ষেত্র/ফসল): এখানে কর্ম ও তার প্রতিফল অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ যে বীজ বপন করা হয়, তার ফসল কাটা যায়। আখিরাতের কর্ম অর্থাৎ পরকালের জন্য কৃত আমল, আর দুনিয়ার কর্ম অর্থাৎ দুনিয়ার জন্য কৃত আমল।
  • نَزِدْ لَهُ (আমরা তার জন্য বৃদ্ধি করব): অর্থাৎ তার সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেব।
  • نُؤْتِهِ مِنْهَا (আমরা তাকে তা থেকে দেব): অর্থাৎ দুনিয়া থেকে তার নির্ধারিত অংশ দেব।

তাফসীর:

যে ব্যক্তি তার আমল ও কর্ম দ্বারা আখিরাতের প্রতিদান কামনা করে—অর্থাৎ আল্লাহর হক আদায় করে, সৎকর্ম করে এবং দ্বীনের দাওয়াতের জন্য খরচ করে—আল্লাহ তাকে তার কর্মে বরকত ও বৃদ্ধি দান করেন। তার একটি ভালো কাজের সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত এবং আল্লাহ যতটুকু চান ততটুকু বৃদ্ধি করা হয়। তার আমলের ফল আখিরাতে বহুগুণে পাবে।

অপরদিকে, যে ব্যক্তি শুধুমাত্র দুনিয়ার স্বার্থ ও দুনিয়ার প্রতিদান চায়—অর্থাৎ তার কর্মের উদ্দেশ্য শুধু দুনিয়ার ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা বা পার্থিব সুখ—আল্লাহ তাকে দুনিয়া থেকে তার নির্ধারিত অংশটুকুই দেন, তাতে কোনো বৃদ্ধি বা বরকত দেন না। আর আখিরাতে তার কোনো অংশ বা প্রতিদান থাকবে না, কারণ সে আখিরাতের জন্য কোনো আমলই করেনি। তার কর্ম দুনিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায় এবং পরকালে তার জন্য কোনো কল্যাণ থাকে না।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. নিয়তের বিশুদ্ধতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল করে, আল্লাহ তার আমলে বরকত দেন এবং তার প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি করেন।
  2. দুনিয়ার স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে মানুষ আখিরাত থেকে বঞ্চিত হয়। দুনিয়ার সামান্য স্বার্থই তার প্রাপ্য হয়ে যায়, আর পরকালে তার জন্য কিছুই থাকে না।
  3. একজন মুমিনের উচিত দুনিয়ার কাজও আখিরাতের নিয়তে করা—যেমন পরিবার প্রতিপালন, হালাল রিজিক অর্জন—তাহলে তার দুনিয়ার কাজও আখিরাতের সওয়াবে পরিণত হবে।
  4. আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু ও উদার; তিনি তাঁর বান্দার সামান্য আমলকেও বিশাল পুরস্কারে পরিণত করেন, কিন্তু যারা শুধু দুনিয়া চায়, তাদের জন্য আখিরাতে কোনো আশা নেই। তাই আমাদের উচিত আখিরাতকে প্রাধান্য দেওয়া এবং দুনিয়াকে আখিরাতের পথে সহায়ক বানানো।


📜 আয়াত 18-22 — সূরা আশ-শুরা

18يَسْتَعْجِلُ بِهَا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِهَا ۖ وَالَّذِينَ آمَنُوا مُشْفِقُونَ مِنْهَا وَيَعْلَمُونَ أَنَّهَا الْحَقُّ ۗ أَلَا إِنَّ الَّذِينَ يُمَارُونَ فِي السَّاعَةِ لَفِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ
যারা তাতে বিশ্বাস করে না তারা তাকে তড়িৎ কামনা করে। আর যারা বিশ্বাস করে, তারা তাকে ভয় করে এবং জানে যে, তা সত্য। জেনে রাখ, যারা কেয়ামত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা দূরবর্তী পথ ভ্রষ্টতায় লিপ্ত রয়েছে।
19اللَّهُ لَطِيفٌ بِعِبَادِهِ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ ۖ وَهُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيزُ
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা, রিযিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী।
20مَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ ۖ وَمَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِن نَّصِيبٍ
যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে তার কিছু দিয়ে দেই এবং পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না।
21أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَن بِهِ اللَّهُ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةُ الْفَصْلِ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۗ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি ? যদি চুড়ান্ত সিন্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয় যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
22تَرَى الظَّالِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا كَسَبُوا وَهُوَ وَاقِعٌ بِهِمْ ۗ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فِي رَوْضَاتِ الْجَنَّاتِ ۖ لَهُم مَّا يَشَاءُونَ عِندَ رَبِّهِمْ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ
আপনি কাফেরদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে ভীতসন্ত্রস্ত দেখবেন। তাদের কর্মের শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর পতিত হবে। আর যারা মুমিন ও সৎকর্মী, তারা জান্নাতের উদ্যানে থাকবে। তারা যা চাইবে, তাই তাদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে। এটাই বড় পুরস্কার।
আশ-শুরাকুরআন সূচী
53আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
20আয়াত

অনুবাদ — আশ-শুরা 20

সূরা আশ-শুরা আয়াত 20 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই…

সূরা আয়াত 20/53 — সূরা আশ-শুরা الشورى (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আশ-শুরা শুনুন, সূরা আশ-শুরা অনুবাদ, সূরা আশ-শুরা mp3, সূরা আশ-শুরা pdf. আয়াত 18–22. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Thursday, October 1, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না