আশ-শুরা · 44/53
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আশ-শুরা
وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِن وَلِيٍّ مِّن بَعْدِهِ ۗ وَتَرَى الظَّالِمِينَ لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ يَقُولُونَ هَلْ إِلَىٰ مَرَدٍّ مِّن سَبِيلٍ ۝٤٤
Wa mai yudlilil laahu famaa lahoo minw waliyyim mim ba`dih; wa taraz zaalimeena lammaa ra awul `azaaba yaqooloona hal ilaa maraddim min sabeel
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ যাকে পথ ভ্রষ্ট করেন, তার জন্যে তিনি ব্যতীত কোন কার্যনির্বাহী নেই। পাপাচারীরা যখন আযাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন আপনি তাদেরকে দেখবেন যে, তারা বলছে আমাদের ফিরে যাওয়ার কোন উপায় আছে কি?

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يُضْلِلِ اللهُ – আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, অর্থাৎ তাকে হিদায়াতের তাওফিক থেকে বঞ্চিত করেন।
  • مِن وَلِيٍّ – কোনো অভিভাবক, সাহায্যকারী বা পথপ্রদর্শক।
  • الظَّالِمِينَ – যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে, অর্থাৎ কুফরি ও পাপাচারের মাধ্যমে নিজেদের ধ্বংস করেছে।
  • لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ – যখন তারা আযাব (শাস্তি) প্রত্যক্ষ করবে।
  • هَلْ إِلَىٰ مَرَدٍّ مِّن سَبِيلٍ – ফিরে যাওয়ার কোনো পথ আছে কি? অর্থাৎ দুনিয়ায় প্রত্যাবর্তনের কোনো উপায় আছে কি?

তাফসির:

আল্লাহ তাআলা বলেন, যাকে আল্লাহ নিজেই পথভ্রষ্ট করেন—অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজের জুলুম, অবাধ্যতা ও কুফরির কারণে আল্লাহর হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হয়—তার জন্য আল্লাহর পরে আর কোনো অভিভাবক বা সাহায্যকারী নেই যে তাকে সঠিক পথ দেখাবে বা তার ভাগ্য পরিবর্তন করবে। কারণ হিদায়াত ও পথপ্রদর্শনের মালিক একমাত্র আল্লাহ; তিনি যাকে চান হিদায়াত দেন এবং যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন, তাঁর বিচক্ষণতা ও ন্যায়বিচার অনুযায়ী।

এরপর আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। আপনি (হে নবী!) দেখবেন সেই জালিমদের—যারা দুনিয়ায় নিজেদের উপর জুলুম করেছে কুফরি ও পাপাচারের মাধ্যমে—যখন তারা কিয়ামতের দিন আযাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা হতাশা ও অনুতাপের সাথে বলবে, “আমাদের জন্য কি দুনিয়ায় ফিরে যাওয়ার কোনো পথ আছে? আমরা কি আবার দুনিয়ায় ফিরে গিয়ে আল্লাহর আনুগত্য করতে পারব?” কিন্তু তাদের এই আকুতি-মিনতি কোনো কাজে আসবে না; তাদের জন্য কোনো প্রত্যাবর্তনের পথ থাকবে না। দুনিয়ার সুযোগ শেষ হয়ে গেছে, আর এখন আর ফেরার কোনো সুযোগ নেই।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতা সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত আল্লাহর কাছে দৃঢ়ভাবে হিদায়াত প্রার্থনা করা এবং তাঁর আনুগত্যের পথে অটল থাকা।
  2. জুলুম ও পাপাচারের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। দুনিয়ায় যে ব্যক্তি নিজের উপর জুলুম করে, কিয়ামতের দিন তার অনুতাপ কোনো কাজে আসবে না।
  3. দুনিয়ার জীবনই হলো আমল করার একমাত্র সুযোগ। মৃত্যুর পর বা আযাব দেখার পর আর ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে সদ্ব্যবহার করা এবং তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা জরুরি।
  4. এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, আল্লাহর শাস্তি এড়াতে হলে এখনই সঠিক পথে চলতে হবে; দুনিয়ায় থাকতেই আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
  5. আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত ব্যক্তির জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, যাতে আমরা পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা পাই।


📜 আয়াত 42-46 — সূরা আশ-শুরা

42إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَظْلِمُونَ النَّاسَ وَيَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ ۚ أُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
অভিযোগ কেবল তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের উপর অত্যাচার চালায় এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
43وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ
অবশ্যই যে সবর করে ও ক্ষমা করে নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।
44وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِن وَلِيٍّ مِّن بَعْدِهِ ۗ وَتَرَى الظَّالِمِينَ لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ يَقُولُونَ هَلْ إِلَىٰ مَرَدٍّ مِّن سَبِيلٍ
আল্লাহ যাকে পথ ভ্রষ্ট করেন, তার জন্যে তিনি ব্যতীত কোন কার্যনির্বাহী নেই। পাপাচারীরা যখন আযাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন আপনি তাদেরকে দেখবেন যে, তারা বলছে আমাদের ফিরে যাওয়ার কোন উপায় আছে কি?
45وَتَرَاهُمْ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا خَاشِعِينَ مِنَ الذُّلِّ يَنظُرُونَ مِن طَرْفٍ خَفِيٍّ ۗ وَقَالَ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ الْخَاسِرِينَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ أَلَا إِنَّ الظَّالِمِينَ فِي عَذَابٍ مُّقِيمٍ
জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করার সময় আপনি তাদেরকে দেখবেন, অপমানে অবনত এবং অর্ধ নিমীলিত দৃষ্টিতে তাকায়। মুমিনরা বলবে, কেয়ামতের দিন ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা নিজেদের ও তাদের পরিবার-পরিজনের ক্ষতি সাধন করেছে। শুনে রাখ, পাপাচারীরা স্থায়ী আযাবে থাকবে।
46وَمَا كَانَ لَهُم مِّنْ أَوْلِيَاءَ يَنصُرُونَهُم مِّن دُونِ اللَّهِ ۗ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِن سَبِيلٍ
আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না, যে তাদেরকে সাহায্য করবে। আল্লাহ তা’আলা যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন গতি নেই।
আশ-শুরাকুরআন সূচী
53আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
44আয়াত

অনুবাদ — আশ-শুরা 44

সূরা আশ-শুরা আয়াত 44 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহ যাকে পথ ভ্রষ্ট করেন, তার জন্যে তিনি ব্যতীত কোন…

সূরা আয়াত 44/53 — সূরা আশ-শুরা الشورى (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আশ-শুরা শুনুন, সূরা আশ-শুরা অনুবাদ, সূরা আশ-শুরা mp3, সূরা আশ-শুরা pdf. আয়াত 42–46. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Thursday, October 1, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না