অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- الصُّمّ (আস-সুম্ম) — বধির, যারা শোনে না।
- الْعُمْيَ (আল-উমই) — অন্ধ, যারা দেখে না।
- ضَلَالٍ مُّبِينٍ (দ্বালালিন মুবিন) — সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা, স্পষ্ট গোমরাহী।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে রাসূল! আপনি কি সত্যিই সেই বধিরদেরকে শোনাতে সক্ষম যারা সত্যের আওয়াজ শুনতে সম্পূর্ণ অক্ষম? অথবা আপনি কি সেই অন্ধদেরকে পথ দেখাতে পারবেন যাদের অন্তরের দৃষ্টি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে? অথবা আপনি কি সেই ব্যক্তিকে হিদায়াত দিতে পারবেন যে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত এবং সত্য থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত?
এখানে প্রশ্নবোধক স্বরে বোঝানো হয়েছে যে, হেদায়াত দান করা আপনার কাজ নয়। আপনার কাজ শুধু পৌঁছে দেওয়া। যাদের অন্তর সত্য গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণরূপে বন্ধ, তাদেরকে আপনি কখনো সত্যের পথে আনতে পারবেন না। কারণ হেদায়াত দান সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ যাকে চান হেদায়াত দেন এবং যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন। যাদের সম্পর্কে আল্লাহর চিরন্তন বিধান রয়েছে যে তারা সত্য গ্রহণ করবে না, তাদের জন্য কোনো নবীও কিছু করতে পারেন না। এখানে কাফিরদের অবস্থাকে বধির, অন্ধ ও পথভ্রষ্টদের সাথে তুলনা করা হয়েছে, কারণ তারা সত্যের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন এবং তাদের অন্তর সত্য গ্রহণের জন্য বন্ধ।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- দাওয়াতের কাজে হতাশ হওয়া যাবে না। নবী করীম (সা.)-এর মতো সর্বশ্রেষ্ঠ দাওয়াতদাতাও যখন কাফিরদের হেদায়াতের জন্য ব্যাকুল ছিলেন, তখন আল্লাহ তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন যে, হেদায়াত দান আপনার দায়িত্ব নয়, বরং আপনার দায়িত্ব শুধু পৌঁছে দেওয়া। তাই আমাদেরও উচিত দাওয়াতের কাজে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা, কিন্তু ফলাফল আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়া।
- হেদায়াত সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর হাতে। কোনো মানুষের প্রচেষ্টা, বুদ্ধিমত্তা বা যোগ্যতা কাউকে হেদায়াত দিতে পারে না। আল্লাহ যাকে চান হেদায়াত দেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে নিজের ও অন্যদের হেদায়াতের জন্য দোয়া করা।
- মানুষের অন্তরের অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। কিছু মানুষ সত্য শুনেও তা গ্রহণ করে না, কিছু মানুষ সত্য দেখেও তা উপলব্ধি করতে পারে না। তাদের জন্য আমাদের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে সত্য পৌঁছে দেওয়া, তাদের হেদায়াতের দায়িত্ব আমাদের নয়।
- এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইসলামের দাওয়াতের পদ্ধতি হলো স্পষ্টভাবে সত্য উপস্থাপন করা, যুক্তি ও প্রমাণ সহকারে বোঝানো, কিন্তু জোর করে কাউকে বিশ্বাস করানো নয়। কারণ বিশ্বাস ও ঈমান অন্তরের বিষয়, যা শুধু আল্লাহই দিতে পারেন।
- দাওয়াতের কাজে নিরাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আল্লাহই সর্বশক্তিমান, তিনিই অন্তরের মালিক এবং তিনিই হেদায়াতের চাবিকাঠি।
📜 আয়াত 38-42 — আজ-জুখরুফ
অনুবাদ — আজ-জুখরুফ 40
সূরা আজ-জুখরুফ আয়াত 40 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনি কি বধিরকে শোনাতে পারবেন? অথবা যে অন্ধ ও যে…সূরা আয়াত 40/89 — আজ-জুখরুফ الزخرف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আজ-জুখরুফ শুনুন, আজ-জুখরুফ অনুবাদ, আজ-জুখরুফ mp3, আজ-জুখরুফ pdf. আয়াত 38–42. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








