অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- أَآلِهَتُنَا: আমাদের উপাস্যরা (যাদের আমরা ইবাদত করি)
- خَيْرٌ: উত্তম, শ্রেষ্ঠ
- جَدَلًا: তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়া
- خَصِمُونَ: প্রবল বিতর্ককারী, অত্যন্ত ঝগড়াটে
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
মুশরিকরা যখন দেখল যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের উপাস্যদের মিথ্যা ও অসম্মানজনক বলে ঘোষণা দিচ্ছেন, তখন তারা একটি বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন তুলল। তারা বলল: “আমাদের উপাস্যরা কি উত্তম, নাকি ঈসা (আঃ)?” তাদের এই প্রশ্নের উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা আসলে বলতে চেয়েছিল: আপনি তো বলছেন যে, ঈসা (আঃ) একজন সম্মানিত নবী এবং আল্লাহর বান্দা। কিন্তু আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, “নিশ্চয়ই তোমরা এবং তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের উপাসনা কর, তারা জাহান্নামের ইন্ধন” (সূরা আম্বিয়া: ৯৮)। যদি ঈসা (আঃ)-কে উপাস্য বানানো হয়, তবে তিনিও কি জাহান্নামে যাবেন? যদি তাই হয়, তাহলে আমাদের উপাস্যরাও তার সাথে জাহান্নামে যাবে, এতে আমাদের কী ক্ষতি? অর্থাৎ তারা এই কুটিল যুক্তি দিয়ে ইসলামের দাওয়াতকে বানচাল করতে চেয়েছিল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল।
কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের এই অপপ্রয়াসের জবাব দিয়ে বলেন: “তারা তোমার কাছে এই উদাহরণ শুধুমাত্র তর্ক-বিতর্কের জন্যই উপস্থাপন করেছে, সত্য অনুসন্ধানের জন্য নয়। বস্তুত তারা অত্যন্ত ঝগড়াটে ও বিতর্কপ্রিয় সম্প্রদায়।” তারা সত্যকে মেনে নিতে চায় না; বরং শুধু বাক্যবাগীশতা ও কুটিল যুক্তির মাধ্যমে সত্যকে দাবিয়ে রাখতে চায়। প্রকৃতপক্ষে ঈসা (আঃ) ছিলেন আল্লাহর একজন সম্মানিত নবী ও রাসূল, এবং তিনি আল্লাহর ইবাদত করতেন। মুশরিকরা তাকে উপাস্য বানিয়ে নিজেদের ভুলকে সমর্থন করার চেষ্টা করছিল, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- সত্যের পথে বাধা সৃষ্টিকারীদের কুটিল যুক্তি ও তর্ককে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়; বরং তাদের আসল উদ্দেশ্য বুঝে দৃঢ়ভাবে সত্যের উপর অটল থাকতে হবে।
- ইসলামের দাওয়াতের সময় অনেক সময় শত্রুরা এমন প্রশ্ন তুলবে যা সত্য অনুসন্ধানের জন্য নয়, বরং বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য। তখন ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে উত্তর দিতে হবে এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে।
- নবী ও রাসূলগণ সকলেই আল্লাহর সম্মানিত বান্দা ছিলেন; তাদের কাউকে উপাস্য বানানোর কোনো সুযোগ নেই। এটি তাওহীদের মূল শিক্ষা।
- ঝগড়াটে ও বিতর্কপ্রিয় স্বভাব মানুষের জন্য ক্ষতিকর; এটি সত্যকে গ্রহণ করতে বাধা দেয় এবং হৃদয়কে কঠোর করে দেয়। আমাদের উচিত নম্রতা ও সত্য গ্রহণের মানসিকতা রাখা।
- আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন যে, এই ধরনের লোকদের তর্কে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই; কারণ তাদের উদ্দেশ্য সত্য নয়, বরং শুধু প্রতিহিংসা ও বিতর্ক।
📜 আয়াত 56-60 — আজ-জুখরুফ
অনুবাদ — আজ-জুখরুফ 58
সূরা আজ-জুখরুফ আয়াত 58 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এবং বলল, আমাদের উপাস্যরা শ্রেষ্ঠ, না সে? তারা আপনার সামনে…সূরা আয়াত 58/89 — আজ-জুখরুফ الزخرف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আজ-জুখরুফ শুনুন, আজ-জুখরুফ অনুবাদ, আজ-জুখরুফ mp3, আজ-জুখরুফ pdf. আয়াত 56–60. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








