Wa izaa qeela lahum ta`aalaw ilaa maaa anzalallaahu wa ilar Rasooli qaaloo hasbunaa maa wajadnaa `alaihi aabaaa`anaa; awa law kaana aabaaa`uhum laa ya`lamoona shai`anw wa laa yahtadoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান এবং রসূলের দিকে এস, তখন তারা বলে, আমাদের জন্যে তাই যথেষ্ট, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে পেয়েছি। যদি তাদের বাপ দাদারা কোন জ্ঞান না রাখে এবং হেদায়েত প্রাপ্ত না হয় তবুও কি তারা তাই করবে?
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और जब उनसे कहा जाता है कि जो (क़ुरान) ख़ुदा ने नाज़िल फरमाया है उसकी तरफ और रसूल की आओ (और जो कुछ कहे उसे मानों तो कहते हैं कि हमने जिस (रंग) में अपने बाप दादा को पाया वही हमारे लिए काफी है क्या (ये लोग लकीर के फकीर ही रहेंगे) अगरचे उनके बाप दादा न कुछ जानते ही हों न हिदायत ही पायी हो
যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান এবং রসূলের দিকে এস, তখন তারা বলে, আমাদের জন্যে তাই যথেষ্ট, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে পেয়েছি। যদি তাদের বাপ দাদারা কোন জ্ঞান না রাখে এবং হেদায়েত প্রাপ্ত না হয় তবুও কি তারা তাই করবে?
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
حَسْبُنَا = আমাদের জন্য যথেষ্ট।
مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا = যা আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের উপর পেয়েছি (অর্থাৎ তাদের ধর্ম, বিশ্বাস ও আমল)।
لَا يَعْلَمُونَ شَيْئًا = তারা কিছুই জানত না (সত্য সম্পর্কে)।
وَلَا يَهْتَدُونَ = এবং তারা সঠিক পথ প্রাপ্তও ছিল না।
তাফসীর:
আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে সেই কাফের ও মুশরিকদের অবস্থা, যারা আল্লাহর হালালকৃত জিনিসকে হারাম ঘোষণা করেছিল। যখন তাদেরকে বলা হয়, “আসো, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন (কুরআন) এবং তাঁর রাসূলের (সুন্নাহ) দিকে, যাতে তোমরা হালাল-হারামের সঠিক বিধান জানতে পারো” — তখন তারা অহংকার ও অজ্ঞতাবশত উত্তর দেয়, “আমাদের জন্য যথেষ্ট সেই পথ, যা আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পেয়েছি।” অর্থাৎ তারা পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুসরণকেই নিজেদের জন্য পরিপূর্ণ জ্ঞান ও পথনির্দেশ মনে করত।
আল্লাহ তাআলা তাদের এই অজুহাতকে অযৌক্তিক প্রমাণ করে প্রশ্ন করছেন: “তারা কি বলবে, অথচ তাদের পূর্বপুরুষরা কিছুই জানত না এবং সঠিক পথও পায়নি?” অর্থাৎ যদি পূর্বপুরুষরাই সত্য সম্পর্কে অজ্ঞ ও পথভ্রষ্ট হয়ে থাকে, তাহলে তাদের অনুসরণ করা কেমন করে যুক্তিসঙ্গত হতে পারে? বুদ্ধিমান মানুষ তো কেবল সেই ব্যক্তির অনুসরণ করে, যে জ্ঞানী ও সঠিক পথপ্রাপ্ত। কিন্তু এই লোকেরা তাদের চেয়েও বেশি অজ্ঞ ও পথভ্রষ্ট পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুসরণ করছে, যা সম্পূর্ণ ভুল ও ধ্বংসের কারণ।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ইসলামে অন্ধ অনুসরণ (তাকলিদ) কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়; বরং প্রতিটি মানুষকে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে নিজের বিশ্বাস ও আমল যাচাই করতে হবে।
পূর্বপুরুষদের ধর্ম বা রীতিনীতি সত্য হওয়ার প্রমাণ নয়। সত্য কেবল সেই পথ, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রদর্শন করেছেন।
জ্ঞান ও হিদায়াতের ভিত্তিতেই কারো অনুসরণ করা উচিত। অজ্ঞ ও পথভ্রষ্ট মানুষের অন্ধ অনুসরণ মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামের প্রতি আহ্বান করার সময় ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে কুরআন ও সুন্নাহর দলিল পেশ করতে হবে, যাতে মানুষের অন্তর সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়।
সত্য গ্রহণের জন্য নিজের গোঁড়ামি ও পূর্বপুরুষের প্রতি অন্ধ আনুগত্য ত্যাগ করা জরুরি। আল্লাহর বিধানই সর্বশ্রেষ্ঠ ও চূড়ান্ত সত্য।
আল্লাহ ‘বহিরা’ ‘সায়েবা’ ওসীলা’ এবং ‘হামী’ কে শরীয়তসিদ্ধ করেননি। কিন্তু যারা কাফের, তারা আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে। তাদের অধিকাংশেরই বিবেক বুদ্ধি নেই।
যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান এবং রসূলের দিকে এস, তখন তারা বলে, আমাদের জন্যে তাই যথেষ্ট, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে পেয়েছি। যদি তাদের বাপ দাদারা কোন জ্ঞান না রাখে এবং হেদায়েত প্রাপ্ত না হয় তবুও কি তারা তাই করবে?
হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা যখন সৎপথে রয়েছ, তখন কেউ পথভ্রান্ত হলে তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নাই। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে বলে দেবেন, যা কিছু তোমরা করতে।
হে, মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যখন কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন ওছিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্য থেকে ধর্মপরায়ন দুজনকে সাক্ষী রেখো। তোমরা সফরে থাকলে এবং সে অবস্থায় তোমাদের মৃত্যু উপস্থিত হলে তোমরা তোমাদের ছাড়াও দু ব্যক্তিকে সাক্ষী রেখো। যদি তোমাদের সন্দেহ হয়, তবে উভয়কে নামাযের পর থাকতে বলবে। অতঃপর উভয়েই আল্লাহর নামে কসম খাবে যে, আমরা এ কসমের বিনিময়ে কোন উপকার গ্রহণ করতে চাই না, যদিও কোন আত্নীয়ও হয় এবং আল্লাহর সাক্ষ্য আমরা গোপন করব না। এমতাবস্থায় কঠোর গোনাহগার হব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।