আল-মায়িদা · 103/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
مَا جَعَلَ اللَّهُ مِن بَحِيرَةٍ وَلَا سَائِبَةٍ وَلَا وَصِيلَةٍ وَلَا حَامٍ ۙ وَلَٰكِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ ۖ وَأَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ ۝١٠٣
Maa ja`alal laahu mim baheeratinw wa laa saaa`ibatinw wa laa waseelatinw wa laa haaminw wa laakinnal lazeena kafaroo yaftaroona `alallaahil kazib; wa aksaruhum laa ya`qiloon
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ ‘বহিরা’ ‘সায়েবা’ ওসীলা’ এবং ‘হামী’ কে শরীয়তসিদ্ধ করেননি। কিন্তু যারা কাফের, তারা আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে। তাদের অধিকাংশেরই বিবেক বুদ্ধি নেই।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • بَحِيرَة (বাহীরা): সেই উটী, যার কান চিরে দেওয়া হতো যখন সে নির্দিষ্ট সংখ্যক বাচ্চা জন্ম দিত।
  • سَائِبَة (সায়েবা): সেই উট, যাকে মানতের কারণে ছেড়ে দেওয়া হতো এবং তার উপর আরোহণ বা দুধ দোহন করা হতো না।
  • وَصِيلَة (ওয়াসীলা): সেই বকরি/ভেড়া, যা নির্দিষ্ট শর্তে পুরুষ ও স্ত্রী বাচ্চা একসাথে জন্ম দিলে দেবতার নামে ছেড়ে দেওয়া হতো।
  • حَامٍ (হামি): সেই পুরুষ উট, যার বংশধর থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক উট জন্ম নিলে তাকে পূজার জন্য ছেড়ে দেওয়া হতো এবং তার পিঠে আরোহণ করা নিষিদ্ধ হতো।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কখনোই বাহীরা, সায়েবা, ওয়াসীলা বা হামি নামক এসব প্রথা বৈধ বা বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেননি। বরং এগুলো ছিল আরবের মুশরিকদের মনগড়া রীতি, যা তারা নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ বানিয়ে নিয়েছিল। তারা কিছু পশুকে দেবতার নামে উৎসর্গ করে সেগুলোর উপকারিতা নিজেদের জন্য হারাম করে নিত এবং মনে করত এটাই আল্লাহর আদেশ। অথচ আল্লাহ তাআলা মানুষ ও পশু-পাখি সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন মানুষের উপকারের জন্য এবং হালাল করেছেন। কিন্তু কাফেররা আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে নিজেদের মনগড়া বিধানকে আল্লাহর বিধান বলে চালিয়ে দিত। তাদের অধিকাংশই জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে চিন্তা করত না, ফলে তারা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারত না এবং অন্ধভাবে তাদের পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করত।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও সহজ জীবনব্যবস্থা। আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য যা হালাল করেছেন তা প্রকৃতপক্ষে উপকারী, আর যা হারাম করেছেন তা ক্ষতিকর। কোনো মনগড়া বিধান দ্বীনের অংশ নয়।
  2. আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া বা নিজের মনগড়া কথা আল্লাহর বিধান বলে চালিয়ে দেওয়া অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। এ থেকে আমাদের সবসময় দূরে থাকতে হবে।
  3. ইসলাম যুক্তি ও প্রজ্ঞার ধর্ম। এটি মানুষকে চিন্তা-গবেষণা করতে এবং সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে উৎসাহিত করে, অন্ধ অনুসরণে নিরুৎসাহিত করে।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, সমাজে প্রচলিত কোনো রীতি-প্রথা বা সংস্কার যদি কুরআন-সুন্নার বিপরীত হয়, তবে তা পরিত্যাগ করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 101-105 — আল-মায়িদা

101يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِن تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِن تَسْأَلُوا عَنْهَا حِينَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللَّهُ عَنْهَا ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ
হে মুমিণগন, এমন কথাবার্তা জিজ্ঞেস করো না, যা তোমাদের কাছে পরিব্যক্ত হলে তোমাদের খারাপ লাগবে। যদি কোরআন অবতরণকালে তোমরা এসব বিষয় জিজ্ঞেস কর, তবে তা তোমাদের জন্যে প্রকাশ করা হবে। অতীত বিষয় আল্লাহ ক্ষমা করেছেন আল্লাহ ক্ষমাশীল, সহনশীল।
102قَدْ سَأَلَهَا قَوْمٌ مِّن قَبْلِكُمْ ثُمَّ أَصْبَحُوا بِهَا كَافِرِينَ
এরূপ কথা বার্তা তোমাদের পুর্বে এক সম্প্রদায় জিজ্ঞেস করেছিল। এর পর তারা এসব বিষয়ে অবিশ্বাসী হয়ে গেল।
103مَا جَعَلَ اللَّهُ مِن بَحِيرَةٍ وَلَا سَائِبَةٍ وَلَا وَصِيلَةٍ وَلَا حَامٍ ۙ وَلَٰكِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ ۖ وَأَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ
আল্লাহ ‘বহিরা’ ‘সায়েবা’ ওসীলা’ এবং ‘হামী’ কে শরীয়তসিদ্ধ করেননি। কিন্তু যারা কাফের, তারা আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে। তাদের অধিকাংশেরই বিবেক বুদ্ধি নেই।
104وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَىٰ مَا أَنزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ قَالُوا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا ۚ أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ
যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান এবং রসূলের দিকে এস, তখন তারা বলে, আমাদের জন্যে তাই যথেষ্ট, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে পেয়েছি। যদি তাদের বাপ দাদারা কোন জ্ঞান না রাখে এবং হেদায়েত প্রাপ্ত না হয় তবুও কি তারা তাই করবে?
105يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ ۖ لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ ۚ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা যখন সৎপথে রয়েছ, তখন কেউ পথভ্রান্ত হলে তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নাই। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে বলে দেবেন, যা কিছু তোমরা করতে।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
103আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 103

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 103 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহ ‘বহিরা’ ‘সায়েবা’ ওসীলা’ এবং ‘হামী’ কে শরীয়তসিদ্ধ করেননি। কিন্তু…

সূরা আয়াত 103/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 101–105. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না