আত-তুর · 32/49
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তুর
أَمْ تَأْمُرُهُمْ أَحْلَامُهُم بِهَٰذَا ۚ أَمْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ ۝٣٢
Am taamuruhum ahlaamuhum bihaazaaa am hum qawmun taaghoon
📖 বাংলা অর্থ
তাদের বুদ্ধি কি এ বিষয়ে তাদেরকে আদেশ করে, না তারা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَحْلَامُهُمْ – তাদের বিবেক-বুদ্ধি বা জ্ঞান।
  • طَاغُونَ – সীমালঙ্ঘনকারী, অবাধ্য, যারা সত্যকে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে সব ধরনের সীমা অতিক্রম করেছে।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা কাফিরদের উদ্দেশ্য করে তাদের অযৌক্তিক ও পরস্পরবিরোধী কথার সমালোচনা করেছেন। তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অপবাদ দিয়েছে—কখনো বলেছে জাদুকর, কখনো বলেছে কবি, কখনো বলেছে পাগল, আবার কখনো বলেছে গণক। আল্লাহ জিজ্ঞেস করছেন: “তাদের বিবেক-বুদ্ধি কি তাদেরকে এই পরস্পরবিরোধী কথা বলতে আদেশ করে?” অর্থাৎ, একজন সুস্থ বিবেকের মানুষ কীভাবে একই ব্যক্তিকে একই সাথে জাদুকর, কবি, পাগল এবং গণক বলতে পারে? এই গুণগুলো একই ব্যক্তির মধ্যে একত্রিত হওয়া অসম্ভব। যদি তারা সত্যিই বিবেকবান হতো, তবে তারা এত বড় বৈপরীত্য দেখতে পেত।

কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো—তারা বিবেকের দোহাই দিচ্ছে না; বরং তারা এমন এক সম্প্রদায়, যারা সত্যকে মেনে নেওয়ার ব্যাপারে চরম সীমালঙ্ঘন করেছে। তাদের অন্তর সত্যের প্রতি অন্ধ, এবং তারা জেনে-বুঝে সত্যকে অস্বীকার করছে। তাদের এই আচরণ বুদ্ধি-বিবেকের দুর্বলতার কারণে নয়, বরং চরম হঠকারিতা ও জিদের কারণে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. সত্যের দাবি সবসময় যুক্তিসঙ্গত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, আর মিথ্যার দাবি পরস্পরবিরোধী ও অসংলগ্ন হয়। তাই সত্য-মিথ্যা চেনার একটি সহজ পথ হলো—বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য ও যুক্তি খোঁজা।
  2. যে ব্যক্তি সত্যকে মেনে নিতে চায় না, সে বিভিন্ন অজুহাত ও অপবাদ তৈরি করে, কিন্তু তার এসব কথা নিজেই নিজের মিথ্যাচার প্রমাণ করে।
  3. মানুষের বিবেক-বুদ্ধি যদি সঠিকভাবে কাজ করে, তবে তা সত্যকে গ্রহণ করতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন মানুষ জিদ ও অহংকারে অন্ধ হয়ে যায়, তখন তার বিবেকও তাকে সঠিক পথ দেখাতে পারে না।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, সত্যের দাওয়াত গ্রহণে বাধা দেওয়ার জন্য মানুষ যত অপবাদই তৈরি করুক না কেন, সত্য চিরকাল উজ্জ্বল থাকে এবং মিথ্যার ভিত সবসময় দুর্বল।
  5. মুমিনের কর্তব্য হলো সত্যের পথে অটল থাকা এবং প্রতিপক্ষের পরস্পরবিরোধী কথায় বিভ্রান্ত না হওয়া, কারণ আল্লাহর সাহায্য সত্যের সাথীদের জন্যই।


📜 আয়াত 30-34 — আত-তুর

30أَمْ يَقُولُونَ شَاعِرٌ نَّتَرَبَّصُ بِهِ رَيْبَ الْمَنُونِ
তারা কি বলতে চায়ঃ সে একজন কবি আমরা তার মৃত্যু-দুর্ঘটনার প্রতীক্ষা করছি।
31قُلْ تَرَبَّصُوا فَإِنِّي مَعَكُم مِّنَ الْمُتَرَبِّصِينَ
বলুনঃ তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষারত আছি।
32أَمْ تَأْمُرُهُمْ أَحْلَامُهُم بِهَٰذَا ۚ أَمْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ
তাদের বুদ্ধি কি এ বিষয়ে তাদেরকে আদেশ করে, না তারা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?
33أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ ۚ بَل لَّا يُؤْمِنُونَ
না তারা বলেঃ এই কোরআন সে নিজে রচনা করেছে? বরং তারা অবিশ্বাসী।
34فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِّثْلِهِ إِن كَانُوا صَادِقِينَ
যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবেএর অনুরূপ কোন রচনা উপস্থিত করুক।
আত-তুরকুরআন সূচী
49আয়াত
মাক্কীRevelation
32আয়াত

অনুবাদ — আত-তুর 32

সূরা আত-তুর আয়াত 32 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাদের বুদ্ধি কি এ বিষয়ে তাদেরকে আদেশ করে, না তারা…

সূরা আয়াত 32/49 — আত-তুর الطور (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তুর শুনুন, আত-তুর অনুবাদ, আত-তুর mp3, আত-তুর pdf. আয়াত 30–34. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না