আল-আনআম · 100/165
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনআম
وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ الْجِنَّ وَخَلَقَهُمْ ۖ وَخَرَقُوا لَهُ بَنِينَ وَبَنَاتٍ بِغَيْرِ عِلْمٍ ۚ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يَصِفُونَ ۝١٠٠
Wa ja`aloo lillaahi shurakaaa`al jinna wa khalaqa hum wa kharaqoo lahoo baneena wa banaatim bighairi `ilm Subhaanahoo wa Ta`aalaa `amma yasifoon
📖 বাংলা অর্থ
তারা জিনদেরকে আল্লাহর অংশীদার স্থির করে; অথচ তাদেরকে তিনিই সৃস্টি করেছেন। তারা অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহর জন্যে পুত্র ও কন্যা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। তিনি পবিত্র ও সমুন্নত, তাদের বর্ননা থেকে।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • شُرَكَاءَ – অংশীদার, শরিক।
  • خَرَقُوا – মনগড়া উদ্ভাবন করেছে, মিথ্যা রটনা করেছে।
  • بِغَيْرِ عِلْمٍ – কোনো জ্ঞান বা প্রমাণ ছাড়া।
  • سُبْحَانَهُ – তিনি পবিত্র, সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত।
  • يَصِفُونَ – তারা যা বর্ণনা করে (মিথ্যা গুণাবলি)।

তাফসীর:

মুশরিকরা জিনদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করেছিল। তারা মনে করত জিনরা উপকার বা অপকার করতে পারে, তাই তারা তাদের ইবাদত করত। অথচ আল্লাহই জিনদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের ইবাদতের একমাত্র অধিকারী তিনিই। তিনি ছাড়া আর কেউ সৃষ্টিকর্তা নয়, তাই ইবাদতও একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য।

এরপর তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বলত যে, তাঁর সন্তান রয়েছে। কেউ বলত ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা (নাউযুবিল্লাহ), কেউ বলত ‘উযায়র (আঃ) তাঁর পুত্র, আবার কেউ বলত ‘ঈসা (আঃ) তাঁর পুত্র। এ সবই ছিল তাদের মনগড়া উদ্ভাবন, কোনো জ্ঞান বা প্রমাণের ভিত্তিতে নয়। তারা আল্লাহর মহত্ত্ব ও পূর্ণতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিল বলেই এমন কথা বলেছিল।

আল্লাহ তা‘আলা এসব মিথ্যা বর্ণনা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও উচ্চে। তারা যা কিছু বলে বা আরোপ করে, তা থেকে তিনি মুক্ত। তাঁর কোনো শরিক নেই, কোনো সন্তান নেই। তিনি এক, অদ্বিতীয়, কারো মুখাপেক্ষী নন।

শিক্ষা ও তাৎপর্য:

  1. আল্লাহর একত্বই ইসলামের মূল ভিত্তি। কোনো সৃষ্টিকে তাঁর সাথে শরিক করা সবচেয়ে বড় অন্যায় ও জুলুম।
  2. আল্লাহর সৃষ্টি জিন, মানুষ, ফেরেশতা – সবাই তাঁর দাস। তারা কখনো ইবাদতের যোগ্য হতে পারে না।
  3. আল্লাহ সম্পর্কে কোনো কথা বলা যাবে না প্রমাণ ও জ্ঞান ছাড়া। তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা পোষণ করা এবং প্রচার করা মারাত্মক গুনাহ।
  4. আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। যখনই কোনো ভুল ধারণা বা মিথ্যা বর্ণনা শুনি, তখনই আমাদের বলা উচিত “সুবহানাল্লাহ” – তিনি এসব থেকে পবিত্র।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, সত্য জানার আগে কোনো বিষয়ে মত দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে আল্লাহর ব্যাপারে তো কোনো প্রকার অজ্ঞতা ও মনগড়া ধারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  6. ইসলাম মানুষকে যুক্তি, জ্ঞান ও প্রমাণের আলোকে চলতে শেখায়, আর মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথাকে সম্পূর্ণ বর্জন করতে বলে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 98-102 — আল-আনআম

98وَهُوَ الَّذِي أَنشَأَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ فَمُسْتَقَرٌّ وَمُسْتَوْدَعٌ ۗ قَدْ فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَفْقَهُونَ
তিনিই তোমাদের কে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অনন্তর একটি হচ্ছে তোমাদের স্থায়ী ঠিকানা ও একটি হচ্ছে গচ্ছিত স্থল। নিশ্চয় আমি প্রমাণাদি বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি তাদের জন্যে, যারা চিন্তা করে।
99وَهُوَ الَّذِي أَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ نَبَاتَ كُلِّ شَيْءٍ فَأَخْرَجْنَا مِنْهُ خَضِرًا نُّخْرِجُ مِنْهُ حَبًّا مُّتَرَاكِبًا وَمِنَ النَّخْلِ مِن طَلْعِهَا قِنْوَانٌ دَانِيَةٌ وَجَنَّاتٍ مِّنْ أَعْنَابٍ وَالزَّيْتُونَ وَالرُّمَّانَ مُشْتَبِهًا وَغَيْرَ مُتَشَابِهٍ ۗ انظُرُوا إِلَىٰ ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ وَيَنْعِهِ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكُمْ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন অতঃপর আমি এর দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি, অতঃপর আমি এ থেকে সবুজ ফসল নির্গত করেছি, যা থেকে যুগ্ম বীজ উৎপন্ন করি। খেজুরের কাঁদি থেকে গুচ্ছ বের করি, যা নুয়ে থাকে এবং আঙ্গুরের বাগান, যয়তুন, আনার পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত এবং সাদৃশ্যহীন। বিভিন্ন গাছের ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন সেুগুলো ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এ গুলোতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদারদের জন্যে।
100وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ الْجِنَّ وَخَلَقَهُمْ ۖ وَخَرَقُوا لَهُ بَنِينَ وَبَنَاتٍ بِغَيْرِ عِلْمٍ ۚ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يَصِفُونَ
তারা জিনদেরকে আল্লাহর অংশীদার স্থির করে; অথচ তাদেরকে তিনিই সৃস্টি করেছেন। তারা অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহর জন্যে পুত্র ও কন্যা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। তিনি পবিত্র ও সমুন্নত, তাদের বর্ননা থেকে।
101بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُن لَّهُ صَاحِبَةٌ ۖ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আদি স্রষ্টা। কিরূপে আল্লাহর পুত্র হতে পারে, অথচ তাঁর কোন সঙ্গী নেই ? তিনি যাবতীয় কিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সব বস্তু সম্পর্কে সুবিজ্ঞ।
102ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ ۖ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ ۚ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ
তিনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই সব কিছুর স্রষ্টা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তিনি প্রত্যেক বস্তুর কার্যনির্বাহী।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
100আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 100

সূরা আল-আনআম আয়াত 100 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা জিনদেরকে আল্লাহর অংশীদার স্থির করে; অথচ তাদেরকে তিনিই সৃস্টি…

সূরা আয়াত 100/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 98–102. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না