অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ — অর্থাৎ, তারা তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কঠোর শপথ করেছিল।
- آيَةٌ — এখানে অর্থ একটি নিদর্শন বা অলৌকিক ঘটনা, যা তারা দাবি করেছিল (যেমন: পাহাড়কে সোনা বানানো, মৃতকে জীবিত করা ইত্যাদি)।
- مَا يُشْعِرُكُمْ — অর্থাৎ, কী আপনাদের জানাবে বা কী করে আপনারা জানতে পারবেন?
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
মক্কার কাফির মুশরিকরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বিভিন্ন অলৌকিক নিদর্শন দাবি করল, যেমন ফেরেশতা নাজিল করা, মৃতকে জীবিত করা, পাহাড়-পর্বতকে সোনায় রূপান্তর করা ইত্যাদি, তখন তারা জোরালো শপথ করে বলল, “যদি আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসে, তবে আমরা অবশ্যই তা বিশ্বাস করব এবং আপনার অনুসরণ করব।” কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের এই শপথের মিথ্যাচার প্রকাশ করে দিলেন।
আল্লাহ তাআলা রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেন, আপনি তাদের বলুন, “নিদর্শন বা অলৌকিক ঘটনা পাঠানো আমার ইচ্ছাধীন নয়; এগুলো সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। তিনি যখন চান, তখনই পাঠান।” এরপর আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উদ্দেশে বললেন, “তোমাদের কীভাবে জানানো হবে যে, সেই কাঙ্ক্ষিত নিদর্শন যদি তাদের কাছে আসেও, তবুও তারা ঈমান আনবে না? বরং তারা তাদের পূর্বের জিদ, হঠকারিতা ও অস্বীকারের ওপরই অটল থাকবে। কারণ, তাদের অন্তর সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত নয়; তারা কেবল অজুহাত খুঁজছে।”
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আগেই জানা ছিল যে, তারা সত্য গ্রহণ করবে না। তাই নিদর্শন পাঠানো তাদের জন্য শাস্তি বা পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারত, কিন্তু আল্লাহর হিকমত ও দয়ায় তা অবিলম্বে পাঠানো হয়নি। কারণ, নিদর্শন আসার পরও যদি তারা ঈমান না আনে, তবে তাদের ওপর আল্লাহর শাস্তি অবধারিত হয়ে যেত।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- মানুষের হেদায়েত বা পথপ্রদর্শন আল্লাহর হাতে, কোনো নিদর্শন বা অলৌকিক ঘটনার ওপর নির্ভর করে না। অনেকেই নিদর্শন দেখেও ঈমান আনে না, যেমন ফিরআউন ও তার সম্প্রদায় বহু নিদর্শন দেখেও ঈমান আনেনি।
- ঈমান আনার জন্য প্রকৃত প্রয়োজন হলো অন্তরের আন্তরিকতা ও সত্য গ্রহণের প্রস্তুতি। যে ব্যক্তি সত্য গ্রহণে আগ্রহী, তার জন্য কুরআন ও রাসূলের সুন্নাহতেই যথেষ্ট নিদর্শন রয়েছে।
- আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তিনি এমন কিছু পাঠাতে চান না যা দেখে মানুষ ঈমান না আনলে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই তিনি মানুষকে সুযোগ দেন তাওবা ও চিন্তা-গবেষণার।
- মুমিনদের উচিত কাফিরদের মিথ্যা দাবি ও শপথে বিভ্রান্ত না হওয়া; বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকা।
- এই আয়াত থেকে আমরা শিখি, মানুষের জন্য প্রকৃত কল্যাণ হলো সৎকর্ম ও সত্য গ্রহণ করা, আর অলৌকিক ঘটনা দেখা কোনো বড় বিষয় নয়। বরং বড় বিষয় হলো আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
📜 আয়াত 107-111 — আল-আনআম
অনুবাদ — আল-আনআম 109
সূরা আল-আনআম আয়াত 109 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা জোর দিয়ে আল্লাহর কসম খায় যে, যদি তাদের কাছে…সূরা আয়াত 109/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 107–111. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








