আল-আনআম · 143/165
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আনআম
ثَمَانِيَةَ أَزْوَاجٍ ۖ مِّنَ الضَّأْنِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْمَعْزِ اثْنَيْنِ ۗ قُلْ آلذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنثَيَيْنِ ۖ نَبِّئُونِي بِعِلْمٍ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ۝١٤٣
Samaaniyata azwaaj minad daanis naini wa minal ma`zis nain; qul `aazzaka raini harrama amil unsaiyayni ammash tamalat `alaihi arhaamul unsayaini nabbi `oonee bi`ilmin in kuntum saadiqeen
📖 বাংলা অর্থ
সৃষ্টি করেছেন আটটি নর ও মাদী। ভেড়ার মধ্যে দুই প্রকার ও ছাগলের মধ্যে দুই প্রকার। জিজ্ঞেস করুন, তিনি কি উভয় নর হারাম করেছেন, না উভয় মাদীকে ? না যা উভয় মাদীর পেটে আছে? তোমরা আমাকে প্রমাণসহ বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ضَأْنٍ (দ্বা'ন): ভেড়া/মেষ (যাদের শরীর পশমে আবৃত)।
  • مَعْزٍ (মা'য়েজ): ছাগল (যাদের শরীর লোমে আবৃত)।
  • أَزْوَاجٍ (আযওয়াজ): জোড়া, অর্থাৎ নর ও স্ত্রী।
  • اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ: যে সন্তানকে গর্ভ ধারণ করেছে।
  • نَبِّئُونِي بِعِلْمٍ: জ্ঞান ও প্রমাণসহ আমাকে জানাও।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য যে চতুষ্পদ জন্তু (উট, গরু, ভেড়া, ছাগল) হালাল করেছেন, সেগুলোর আটটি জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি ভেড়া ও ছাগল জাতীয়। যেমন: (১) ভেড়ার নর (মেষ), (২) ভেড়ার স্ত্রী (ভেড়ী), (৩) ছাগলের নর (পাঁঠা), (৪) ছাগলের স্ত্রী (ছাগী)। অর্থাৎ প্রতিটি প্রজাতির একটি করে নর ও একটি করে স্ত্রী।

এরপর আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, ঐ মূশরিকদের জিজ্ঞেস করুন, যারা নিজেদের ইচ্ছামতো কিছু জন্তু হারাম ঘোষণা করেছিল: “তোমরা কি বলছ যে, আল্লাহ ভেড়ার দুটি নর (মেষ ও পাঁঠা) হারাম করেছেন? নাকি ভেড়ার দুটি স্ত্রী (ভেড়ী ও ছাগী) হারাম করেছেন? নাকি那两个 স্ত্রী জন্তুর গর্ভে যা আছে (বাচ্চা) তা হারাম?”

তারা যদি বলে যে, আল্লাহ নর দুটি হারাম করেছেন, তাহলে তারা মিথ্যা বলছে; কারণ তারা সব নর তো হারাম মানে না। আবার যদি বলে স্ত্রী দুটি হারাম, তাহলেও মিথ্যা; কারণ তারা সব স্ত্রীও হারাম মানে না। আর যদি বলে গর্ভের বাচ্চা হারাম, তাহলেও মিথ্যা; কারণ তারা কোনো কোনো বাচ্চা হালালও মনে করে।

অতএব, তাদেরকে বলুন: “তোমরা যদি সত্যবাদী হও যে, আল্লাহ তা‘আলাই এসব হারাম করেছেন, তাহলে এমন কোনো জ্ঞান বা প্রমাণ পেশ করো যা তোমাদের দাবিকে সমর্থন করে।” কিন্তু তারা কখনোই কোনো বৈধ প্রমাণ পেশ করতে পারবে না, কারণ আল্লাহ তা‘আলা কখনো এসব হারাম করেননি; বরং এগুলো ছিল তাদের মনগড়া নিয়ম।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলামের প্রতিটি বিধান যুক্তি ও প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কোনো বিষয় হালাল বা হারাম ঘোষণা করার অধিকার একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের; কারো মনগড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
  2. মূশরিকদের মতো নিজের ইচ্ছামতো ধর্মীয় বিধান তৈরি করা বা মানুষের তৈরি বিধানকে আল্লাহর বিধান বলে চালানোর চেষ্টা করা মারাত্মক অপরাধ।
  3. এই আয়াত প্রমাণ করে যে, মূলত সমস্ত পশু-পাখি হালাল; তবে আল্লাহ ও রাসূল যা স্পষ্টভাবে হারাম করেছেন, শুধু সেগুলোই হারাম। তাই আমাদের উচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে হালাল-হারাম চেনা এবং কুসংস্কার ও ভিত্তিহীন রীতিনীতি পরিহার করা।
  4. দ্বীনের ব্যাপারে অজ্ঞতা ও মনগড়া মতামত মানুষকে গোমরাহির দিকে নিয়ে যায়। তাই আমাদের উচিত দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা এবং আলেমদের সঠিক নির্দেশনা অনুসরণ করা।
  5. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু; তিনি তাদের জন্য হালাল বস্তুসমূহ বৈধ করেছেন এবং হারাম বস্তুসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যাতে মানুষ সঠিক পথে চলতে পারে।


📜 আয়াত 141-145 — সূরা আল-আনআম

141۞ وَهُوَ الَّذِي أَنشَأَ جَنَّاتٍ مَّعْرُوشَاتٍ وَغَيْرَ مَعْرُوشَاتٍ وَالنَّخْلَ وَالزَّرْعَ مُخْتَلِفًا أُكُلُهُ وَالزَّيْتُونَ وَالرُّمَّانَ مُتَشَابِهًا وَغَيْرَ مُتَشَابِهٍ ۚ كُلُوا مِن ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ ۖ وَلَا تُسْرِفُوا ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
তিনিই উদ্যান সমূহ সৃষ্টি করেছে-তাও, যা মাচার উপর তুলে দেয়া হয়, এবং যা মাচার উপর তোলা হয় না এবং খর্জুর বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত্র যেসবের স্বাদবিশিষ্ট এবং যয়তুন ও আনার সৃষ্টি করেছেন-একে অন্যের সাদৃশ্যশীল এবং সাদৃশ্যহীন। এগুলোর ফল খাও, যখন ফলন্ত হয় এবং হক দান কর কর্তনের সময়ে এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।
142وَمِنَ الْأَنْعَامِ حَمُولَةً وَفَرْشًا ۚ كُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
তিনি সৃষ্টি করেছেন চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে বোঝা বহনকারীকে এবং খর্বাকৃতিকে। আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
143ثَمَانِيَةَ أَزْوَاجٍ ۖ مِّنَ الضَّأْنِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْمَعْزِ اثْنَيْنِ ۗ قُلْ آلذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنثَيَيْنِ ۖ نَبِّئُونِي بِعِلْمٍ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
সৃষ্টি করেছেন আটটি নর ও মাদী। ভেড়ার মধ্যে দুই প্রকার ও ছাগলের মধ্যে দুই প্রকার। জিজ্ঞেস করুন, তিনি কি উভয় নর হারাম করেছেন, না উভয় মাদীকে ? না যা উভয় মাদীর পেটে আছে? তোমরা আমাকে প্রমাণসহ বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
144وَمِنَ الْإِبِلِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْبَقَرِ اثْنَيْنِ ۗ قُلْ آلذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنثَيَيْنِ ۖ أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ وَصَّاكُمُ اللَّهُ بِهَٰذَا ۚ فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا لِّيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
সৃষ্টি করেছেন উটের মধ্যে দুই প্রকার এবং গরুর মধ্যে দুই প্রকার। আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ তিনি কি উভয় নর হারাম করেছেন, না উভয় মাদীকে, না যা উভয় মাদীর পেটে আছে? তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন আল্লাহ এ নির্দেশ দিয়েছিলেন? অতএব সে ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী অত্যচারী কে, যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা পোষন করে যাতে করে মানুষকে বিনা প্রমাণে পথভ্রষ্ট করতে পারে? নিশ্চয় আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।
145قُل لَّا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَىٰ طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَن يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ ۚ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ رَبَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
আপনি বলে দিনঃ যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে, তন্মধ্যে আমি কোন হারাম খাদ্য পাই না কোন ভক্ষণকারীর জন্যে, যা সে ভক্ষণ করে; কিন্তু মৃত অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের মাংস এটা অপবিত্র অথবা অবৈধ; যবেহ করা জন্তু যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়। অতপর যে ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় যে অবাধ্যতা করে না এবং সীমালঙ্গন করে না, নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল দয়ালু।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
143আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 143

সূরা আল-আনআম আয়াত 143 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : সৃষ্টি করেছেন আটটি নর ও মাদী। ভেড়ার মধ্যে দুই প্রকার…

সূরা আয়াত 143/165 — সূরা আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আনআম শুনুন, সূরা আল-আনআম অনুবাদ, সূরা আল-আনআম mp3, সূরা আল-আনআম pdf. আয়াত 141–145. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না