অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- ضَأْنٍ (দ্বা'ন): ভেড়া/মেষ (যাদের শরীর পশমে আবৃত)।
- مَعْزٍ (মা'য়েজ): ছাগল (যাদের শরীর লোমে আবৃত)।
- أَزْوَاجٍ (আযওয়াজ): জোড়া, অর্থাৎ নর ও স্ত্রী।
- اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ: যে সন্তানকে গর্ভ ধারণ করেছে।
- نَبِّئُونِي بِعِلْمٍ: জ্ঞান ও প্রমাণসহ আমাকে জানাও।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য যে চতুষ্পদ জন্তু (উট, গরু, ভেড়া, ছাগল) হালাল করেছেন, সেগুলোর আটটি জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি ভেড়া ও ছাগল জাতীয়। যেমন: (১) ভেড়ার নর (মেষ), (২) ভেড়ার স্ত্রী (ভেড়ী), (৩) ছাগলের নর (পাঁঠা), (৪) ছাগলের স্ত্রী (ছাগী)। অর্থাৎ প্রতিটি প্রজাতির একটি করে নর ও একটি করে স্ত্রী।
এরপর আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, ঐ মূশরিকদের জিজ্ঞেস করুন, যারা নিজেদের ইচ্ছামতো কিছু জন্তু হারাম ঘোষণা করেছিল: “তোমরা কি বলছ যে, আল্লাহ ভেড়ার দুটি নর (মেষ ও পাঁঠা) হারাম করেছেন? নাকি ভেড়ার দুটি স্ত্রী (ভেড়ী ও ছাগী) হারাম করেছেন? নাকি那两个 স্ত্রী জন্তুর গর্ভে যা আছে (বাচ্চা) তা হারাম?”
তারা যদি বলে যে, আল্লাহ নর দুটি হারাম করেছেন, তাহলে তারা মিথ্যা বলছে; কারণ তারা সব নর তো হারাম মানে না। আবার যদি বলে স্ত্রী দুটি হারাম, তাহলেও মিথ্যা; কারণ তারা সব স্ত্রীও হারাম মানে না। আর যদি বলে গর্ভের বাচ্চা হারাম, তাহলেও মিথ্যা; কারণ তারা কোনো কোনো বাচ্চা হালালও মনে করে।
অতএব, তাদেরকে বলুন: “তোমরা যদি সত্যবাদী হও যে, আল্লাহ তা‘আলাই এসব হারাম করেছেন, তাহলে এমন কোনো জ্ঞান বা প্রমাণ পেশ করো যা তোমাদের দাবিকে সমর্থন করে।” কিন্তু তারা কখনোই কোনো বৈধ প্রমাণ পেশ করতে পারবে না, কারণ আল্লাহ তা‘আলা কখনো এসব হারাম করেননি; বরং এগুলো ছিল তাদের মনগড়া নিয়ম।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- ইসলামের প্রতিটি বিধান যুক্তি ও প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কোনো বিষয় হালাল বা হারাম ঘোষণা করার অধিকার একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের; কারো মনগড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
- মূশরিকদের মতো নিজের ইচ্ছামতো ধর্মীয় বিধান তৈরি করা বা মানুষের তৈরি বিধানকে আল্লাহর বিধান বলে চালানোর চেষ্টা করা মারাত্মক অপরাধ।
- এই আয়াত প্রমাণ করে যে, মূলত সমস্ত পশু-পাখি হালাল; তবে আল্লাহ ও রাসূল যা স্পষ্টভাবে হারাম করেছেন, শুধু সেগুলোই হারাম। তাই আমাদের উচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে হালাল-হারাম চেনা এবং কুসংস্কার ও ভিত্তিহীন রীতিনীতি পরিহার করা।
- দ্বীনের ব্যাপারে অজ্ঞতা ও মনগড়া মতামত মানুষকে গোমরাহির দিকে নিয়ে যায়। তাই আমাদের উচিত দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা এবং আলেমদের সঠিক নির্দেশনা অনুসরণ করা।
- আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু; তিনি তাদের জন্য হালাল বস্তুসমূহ বৈধ করেছেন এবং হারাম বস্তুসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যাতে মানুষ সঠিক পথে চলতে পারে।
📜 আয়াত 141-145 — আল-আনআম
অনুবাদ — আল-আনআম 143
সূরা আল-আনআম আয়াত 143 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : সৃষ্টি করেছেন আটটি নর ও মাদী। ভেড়ার মধ্যে দুই প্রকার…সূরা আয়াত 143/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 141–145. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








