আল-আনআম · 158/165
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনআম
هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمُ الْمَلَائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ رَبُّكَ أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ ۗ يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِن قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا ۗ قُلِ انتَظِرُوا إِنَّا مُنتَظِرُونَ ۝١٥٨
hal yanzuroona illaaa an taatiyahumul malaaa`ikatu aw yaatiya Rabbuka aw yaatiya ba`du Aayaati Rabbik; yawma yaatee ba`du Aayaati Rabbika laa yanfa`u nafsan eemaanuhaa lam takun aamanat min qablu aw kasabat feee eemaanihaa khairaa; qulin tazirooo innaa muntaziroon
📖 বাংলা অর্থ
তারা শুধু এ বিষয়ের দিকে চেয়ে আছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতা আগমন করবে কিংবা আপনার পালনকর্তা আগমন করবেন অথবা আপনার পালনকর্তার কোন নির্দেশ আসবে। যেদিন আপনার পালনকর্তার কোন নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্থাপন তার জন্যে ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্ব থেকে বিশ্বাস স্থাপন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনরূপ সৎকর্ম করেনি। আপনি বলে দিনঃ তোমরা পথের দিকে চেয়ে থাক, আমরাও পথে দিকে তাকিয়ে রইলাম।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • هَلْ يَنظُرُونَ – তারা কি অপেক্ষা করছে?
  • الْمَلَائِكَةُ – ফেরেশতারা (আযাব বা প্রাণ হরণের জন্য)।
  • بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ – আপনার রবের কিছু নিদর্শন (কিয়ামতের বড় আলামত, যেমন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া)।
  • لَا يَنفَعُ – কোনো উপকারে আসবে না।
  • كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا – ঈমানের সাথে সাথে সৎকর্ম অর্জন করেছে।
  • انتَظِرُوا – তোমরা অপেক্ষা করো।
  • إِنَّا مُنتَظِرُونَ – আমরাও অপেক্ষাকারী।

তাফসির:

যারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রেখেছে, তারা কি শুধু এই অপেক্ষায় আছে যে, তাদের কাছে মৃত্যুর ফেরেশতা ও তার সহকারীরা এসে তাদের প্রাণ হরণ করবে? অথবা (হে নবী!) আপনার রব কিয়ামতের দিন তাঁর বান্দাদের মধ্যে চূড়ান্ত ফয়সালা করার জন্য আগমন করবেন? অথবা আপনার রবের কিছু মহান নিদর্শন প্রকাশিত হবে—যেমন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া, যা কিয়ামতের আগমনী বার্তা?

সেই দিন—যখন আল্লাহর বড় নিদর্শনগুলো প্রকাশিত হবে—তখন কোনো ব্যক্তির ঈমান গ্রহণ করা তার কোনো কাজে আসবে না, যদি সে আগে থেকে ঈমান না এনে থাকে। আর যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল কিন্তু সৎকর্ম করেনি, সেদিনের তওবা বা ঈমানও তাকে উপকার দেবে না, যদি সে আগে ভালো কাজ না করে থাকে। কারণ, সেদিন ঈমান আনা হবে বাধ্যতামূলক, স্বেচ্ছায় নয়; আর বাধ্য হয়ে ঈমান আনার কোনো মূল্য নেই।

তাই (হে নবী!) আপনি তাদের বলে দিন: “তোমরা এই বিষয়গুলোর অপেক্ষা করো—মৃত্যু, কিয়ামত বা আল্লাহর নিদর্শন—আমরাও তোমাদের জন্য আল্লাহর আযাবের অপেক্ষায় আছি।” অর্থাৎ, তোমরা যে শাস্তির দাবিদার হচ্ছো, তা একদিন অবশ্যই আসবে; তখন তোমরা জানতে পারবে কে সত্যের উপর ছিল আর কে মিথ্যার উপর ছিল।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর শাস্তি ও কিয়ামত অবশ্যই আসবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তি সেই দিনের জন্য প্রস্তুতি নেয়।
  2. ঈমান ও সৎকর্মের সময় হলো দুনিয়ার জীবন। মৃত্যুর পর বা কিয়ামতের আলামত দেখে ঈমান আনা কোনো কাজে আসবে না।
  3. আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার দরজা সবসময় খোলা, কিন্তু তা কেবল দুনিয়ার জীবনে। তাই দেরি না করে এখনই তওবা ও সৎকর্মের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা উচিত।
  4. কুরআন ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা মেনে চলাই হলো প্রকৃত সাফল্যের পথ। যে ব্যক্তি এ পথে চলবে, সে কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদ থাকবে।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর নিদর্শন ও শাস্তি দেখে নয়, বরং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ইবাদতের মাধ্যমে ঈমান আনা উচিত—যাতে তা আন্তরিক ও গ্রহণযোগ্য হয়।


📜 আয়াত 156-160 — আল-আনআম

156أَن تَقُولُوا إِنَّمَا أُنزِلَ الْكِتَابُ عَلَىٰ طَائِفَتَيْنِ مِن قَبْلِنَا وَإِن كُنَّا عَن دِرَاسَتِهِمْ لَغَافِلِينَ
এ জন্যে যে, কখনও তোমরা বলতে শুরু করঃ গ্রন্থ তো কেবল আমাদের পূর্ববর্তী দু'সম্প্রদায়ের প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে এবং আমরা সেগুলোর পাঠ ও পঠন সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।
157أَوْ تَقُولُوا لَوْ أَنَّا أُنزِلَ عَلَيْنَا الْكِتَابُ لَكُنَّا أَهْدَىٰ مِنْهُمْ ۚ فَقَدْ جَاءَكُم بَيِّنَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ ۚ فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَذَّبَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَصَدَفَ عَنْهَا ۗ سَنَجْزِي الَّذِينَ يَصْدِفُونَ عَنْ آيَاتِنَا سُوءَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوا يَصْدِفُونَ
কিংবা বলতে শুরু করঃ যদি আমাদের প্রতি কোন গ্রন্থ অবতীর্ণ হত, আমরা এদের চাইতে অধিক পথপ্রাপ্ত হতাম। অতএব, তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সুষ্পষ্ট প্রমাণ, হেদায়েত ও রহমত এসে গেছে। অতঃপর সে ব্যক্তির চাইতে অধিক অনাচারী কে হবে, যে আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে এবং গা বাঁচিয়ে চলে। অতি সত্ত্বর আমি তাদেরকে শাস্তি দেব। যারা আমার আয়াত সমূহ থেকে গা বাঁচিয়ে চলে-জঘন্য শাস্তি তাদের গা বাঁচানোর কারণে।
158هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمُ الْمَلَائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ رَبُّكَ أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ ۗ يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِن قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا ۗ قُلِ انتَظِرُوا إِنَّا مُنتَظِرُونَ
তারা শুধু এ বিষয়ের দিকে চেয়ে আছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতা আগমন করবে কিংবা আপনার পালনকর্তা আগমন করবেন অথবা আপনার পালনকর্তার কোন নির্দেশ আসবে। যেদিন আপনার পালনকর্তার কোন নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্থাপন তার জন্যে ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্ব থেকে বিশ্বাস স্থাপন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনরূপ সৎকর্ম করেনি। আপনি বলে দিনঃ তোমরা পথের দিকে চেয়ে থাক, আমরাও পথে দিকে তাকিয়ে রইলাম।
159إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ ۚ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ
নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপার আল্লাহ তা'আয়ালার নিকট সমর্পিত। অতঃপর তিনি বলে দেবেন যা কিছু তারা করে থাকে।
160مَن جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا ۖ وَمَن جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَىٰ إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে, একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
158আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 158

সূরা আল-আনআম আয়াত 158 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা শুধু এ বিষয়ের দিকে চেয়ে আছে যে, তাদের কাছে…

সূরা আয়াত 158/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 156–160. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না