আল-আনআম · 71/165
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আনআম
قُلْ أَنَدْعُو مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنفَعُنَا وَلَا يَضُرُّنَا وَنُرَدُّ عَلَىٰ أَعْقَابِنَا بَعْدَ إِذْ هَدَانَا اللَّهُ كَالَّذِي اسْتَهْوَتْهُ الشَّيَاطِينُ فِي الْأَرْضِ حَيْرَانَ لَهُ أَصْحَابٌ يَدْعُونَهُ إِلَى الْهُدَى ائْتِنَا ۗ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَىٰ ۖ وَأُمِرْنَا لِنُسْلِمَ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ۝٧١
Qul anad`oo min doonil laahi maa laa yanfa`unaa wa laa yadurrunaa wa nuraddu `alaaa a`qaabina ba`da iz hadaanal laahu kallazis tahwat hush Shayaateenu fil ardi hairaana lahooo ashaabuny yad`oo nahooo ilal huda` tinaa; qul inna hudal laahi huwal hudaa wa umirnaa linuslima li Rabbil `aalameen
📖 বাংলা অর্থ
আপনি বলে দিনঃ আমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুকে আহবান করব, যে আমাদের উপকার করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না এবং আমরা কি পশ্চাৎপদে ফিরে যাব, এরপর যে, আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন? ঐ ব্যক্তির মত, যাকে শয়তানরা বনভুমিতে বিপথগামী করে দিয়েছে-সে উদভ্রান্ত হয়ে ঘোরাফেরা করছে। তার সহচররা তাকে পথের দিকে ডেকে বলছেঃ আস, আমাদের কাছে। আপনি বলে দিনঃ নিশ্চয় আল্লাহর পথই সুপথ। আমরা আদিষ্ট হয়েছি যাতে স্বীয় পালনকর্তা আজ্ঞাবহ হয়ে যাই।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَنَدْعُو – আমরা কি ডাকব/আহ্বান করব?
  • مَا لَا يَنفَعُنَا وَلَا يَضُرُّنَا – যা আমাদের উপকারও করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না।
  • نُرَدُّ عَلَىٰ أَعْقَابِنَا – আমরা কি পিছনের দিকে ফিরে যাব (অর্থাৎ ঈমান থেকে কুফরে প্রত্যাবর্তন করব)?
  • اسْتَهْوَتْهُ الشَّيَاطِينُ – শয়তানরা যাকে পথভ্রষ্ট করেছে (তাকে বিভ্রান্ত করে দিশেহারা করে দিয়েছে)।
  • حَيْرَانَ – বিভ্রান্ত, দিশেহারা, হতবুদ্ধি।
  • لَهُ أَصْحَابٌ – তার কিছু সাথী/বন্ধু রয়েছে।
  • يَدْعُونَهُ إِلَى الْهُدَى – তারা তাকে সঠিক পথের দিকে ডাকছে।
  • لِنُسْلِمَ – আমরা আত্মসমর্পণ করি (আনুগত্য প্রকাশ করি)।

তাফসীর:

হে নবী! আপনি এই মুশরিকদেরকে জিজ্ঞেস করুন: আমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুকে ডাকব যারা আমাদের কোনো উপকার করতে পারে না এবং কোনো ক্ষতিও করতে পারে না? তারা তো সম্পূর্ণ ক্ষমতাহীন, অচেতন ও উপকার-অপকারের কোনো অধিকারই তাদের নেই। আর আমরা কি আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথ দেখানোর পর আবার পেছনের দিকে ফিরে যাব? অর্থাৎ ঈমান আনার পর কি আমরা আবার কুফর ও শিরকের দিকে প্রত্যাবর্তন করব?

এ অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো, যাকে শয়তানরা মরুভূমিতে পথভ্রষ্ট করে ছেড়ে দিয়েছে। সে দিশেহারা হয়ে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে, কোথায় যাবে বুঝতে পারছে না। অথচ তার কিছু জ্ঞানী বন্ধু তাকে সঠিক পথের দিকে ডেকে বলছে: "আমাদের কাছে এসো, সঠিক পথে ফিরে এসো!" কিন্তু সে তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না, বরং বিভ্রান্ত অবস্থাতেই পড়ে আছে। ঠিক তেমনি, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথ পাওয়ার পর আবার শিরকের দিকে ফিরে যায়, সে শয়তানের প্ররোচনায় সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত ও দিশেহারা হয়ে পড়ে।

এরপর আল্লাহ তাঁর নবীকে নির্দেশ দিচ্ছেন: আপনি তাদেরকে বলুন, আল্লাহর পথই একমাত্র সঠিক পথ। তিনি যে হিদায়াত দিয়েছেন সেটাই প্রকৃত হিদায়াত। আর আমাদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, আমরা যেন বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করি। অর্থাৎ আমরা শুধু তাঁরই ইবাদত করব, তাঁরই আনুগত্য করব এবং তাঁরই কাছে নিজেদেরকে সমর্পণ করব। কারণ তিনিই সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, মালিক ও পরিচালক।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা বা আহ্বান করা সম্পূর্ণ অর্থহীন, কারণ তারা উপকার-অপকারের কোনো ক্ষমতা রাখে না। শুধুমাত্র আল্লাহই উপকার ও ক্ষতির মালিক।
  2. ঈমান আনার পর কুফর ও শিরকের দিকে ফিরে যাওয়া অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। এটি শয়তানের প্ররোচনায় পথভ্রষ্ট হওয়ার নিদর্শন।
  3. যে ব্যক্তি সত্য পথ পাওয়ার পর তা ছেড়ে দেয়, সে প্রকৃতপক্ষে দিশেহারা ও বিভ্রান্ত ব্যক্তির মতো, যার কোনো লক্ষ্য থাকে না এবং সে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে।
  4. আল্লাহর হিদায়াতই একমাত্র প্রকৃত হিদায়াত। অন্য কোনো পথ, মতবাদ বা দর্শন মানুষকে সত্যিকারের শান্তি ও মুক্তি দিতে পারে না।
  5. একজন মুমিনের জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা। ইসলাম মানেই আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সঁপে দেওয়া।
  6. সৎ ও জ্ঞানী বন্ধুরা মানুষকে সঠিক পথে ডাকে। তাই আমাদের উচিত ভালো বন্ধু নির্বাচন করা এবং তাদের উপদেশ গ্রহণ করা, যাতে আমরা শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা পেতে পারি।


📜 আয়াত 69-73 — সূরা আল-আনআম

69وَمَا عَلَى الَّذِينَ يَتَّقُونَ مِنْ حِسَابِهِم مِّن شَيْءٍ وَلَٰكِن ذِكْرَىٰ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
এদের যখন বিচার করা হবে তখন পরহেযগারদের উপর এর কোন প্রভাব পড়বে না; কিন্তু তাদের দায়িত্ব উপদেশ দান করা যাতে ওরা ভীত হয়।
70وَذَرِ الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَعِبًا وَلَهْوًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا ۚ وَذَكِّرْ بِهِ أَن تُبْسَلَ نَفْسٌ بِمَا كَسَبَتْ لَيْسَ لَهَا مِن دُونِ اللَّهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ وَإِن تَعْدِلْ كُلَّ عَدْلٍ لَّا يُؤْخَذْ مِنْهَا ۗ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ أُبْسِلُوا بِمَا كَسَبُوا ۖ لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ
তাদেরকে পরিত্যাগ করুন, যারা নিজেদের ধর্মকে ক্রীড়া ও কৌতুকরূপে গ্রহণ করেছে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে। কোরআন দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দিন, যাতে কেউ স্বীয় কর্মে এমন ভাবে গ্রেফতার না হয়ে যায় যে, আল্লাহ ব্যতীত তার কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী নেই এবং যদি তারা জগতের বিনিময়ও প্রদান কবে, তবু তাদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। একাই স্বীয় কর্মে জড়িত হয়ে পড়েছে। তাদের জন্যে উত্তপ্ত পানি এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে-কুফরের কারণে।
71قُلْ أَنَدْعُو مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنفَعُنَا وَلَا يَضُرُّنَا وَنُرَدُّ عَلَىٰ أَعْقَابِنَا بَعْدَ إِذْ هَدَانَا اللَّهُ كَالَّذِي اسْتَهْوَتْهُ الشَّيَاطِينُ فِي الْأَرْضِ حَيْرَانَ لَهُ أَصْحَابٌ يَدْعُونَهُ إِلَى الْهُدَى ائْتِنَا ۗ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَىٰ ۖ وَأُمِرْنَا لِنُسْلِمَ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ
আপনি বলে দিনঃ আমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুকে আহবান করব, যে আমাদের উপকার করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না এবং আমরা কি পশ্চাৎপদে ফিরে যাব, এরপর যে, আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন? ঐ ব্যক্তির মত, যাকে শয়তানরা বনভুমিতে বিপথগামী করে দিয়েছে-সে উদভ্রান্ত হয়ে ঘোরাফেরা করছে। তার সহচররা তাকে পথের দিকে ডেকে বলছেঃ আস, আমাদের কাছে। আপনি বলে দিনঃ নিশ্চয় আল্লাহর পথই সুপথ। আমরা আদিষ্ট হয়েছি যাতে স্বীয় পালনকর্তা আজ্ঞাবহ হয়ে যাই।
72وَأَنْ أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَاتَّقُوهُ ۚ وَهُوَ الَّذِي إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ
এবং তা এই যে, নামায কায়েম কর এবং তাঁকে ভয় কর। তাঁর সামনেই তোমরা একত্রিত হবে।
73وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ ۖ وَيَوْمَ يَقُولُ كُن فَيَكُونُ ۚ قَوْلُهُ الْحَقُّ ۚ وَلَهُ الْمُلْكُ يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ ۚ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۚ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ
তিনিই সঠিকভাবে নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। যেদিন তিনি বলবেনঃ হয়ে যা, অতঃপর হয়ে যাবে। তাঁর কথা সত্য। যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার করা হবে, সেদিন তাঁরই আধিপত্য হবে। তিনি অদৃশ্য বিষয়ে এবং প্রত্যক্ষ বিষয়ে জ্ঞাত। তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
71আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 71

সূরা আল-আনআম আয়াত 71 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনি বলে দিনঃ আমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুকে আহবান…

সূরা আয়াত 71/165 — সূরা আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আনআম শুনুন, সূরা আল-আনআম অনুবাদ, সূরা আল-আনআম mp3, সূরা আল-আনআম pdf. আয়াত 69–73. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না