এবং তা এই যে, নামায কায়েম কর এবং তাঁকে ভয় কর। তাঁর সামনেই তোমরা একত্রিত হবে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
আক্বিমুস সালাত (أَقِيمُوا الصَّلَاةَ): সালাতকে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করা, অর্থাৎ এর সব শর্ত, রুকন এবং আদবসমূহ পরিপূর্ণরূপে পালন করা।
ওয়াত্তাক্বূহু (وَاتَّقُوهُ): আল্লাহকে ভয় করা, অর্থাৎ তাঁর আদেশ পালন করা এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকা।
তুহশারূন (تُحْشَرُونَ): তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে, সমবেত করা হবে।
তাফসির:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে উম্মতকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। প্রথমত, সালাত প্রতিষ্ঠা করা। সালাত ইসলামের স্তম্ভ এবং ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি প্রতিষ্ঠা করার অর্থ হলো—নিয়মিত, সঠিক সময়ে, সঠিক পদ্ধতিতে এবং খুশু-খুযুর সাথে আদায় করা। দ্বিতীয়ত, তাকওয়া অর্জন করা, অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করে তাঁর আদেশ পালন করা এবং নিষেধ থেকে দূরে থাকা। তাকওয়াই হলো এমন একটি গুণ যা মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করে এবং গুনাহ থেকে বিরত রাখে।
এরপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে, তিনিই সেই সত্তা যাঁর দিকে সকল মানুষকে একত্রিত করা হবে কিয়ামতের দিনে। সেদিন প্রত্যেককে তার আমল অনুযায়ী প্রতিফল দেওয়া হবে। এই ঘোষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং প্রকৃত জীবন আখিরাতের। সেদিনের হিসাবের জন্য আমাদের এখনই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
শিক্ষা ও উপদেশ:
সালাত প্রতিষ্ঠা করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। এটি ঈমানের প্রমাণ এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করার মাধ্যম।
তাকওয়া বা আল্লাহভীতি হলো সফলতার চাবিকাঠি। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করেন এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিক দান করেন।
কিয়ামতের দিনে সকল মানুষ আল্লাহর সামনে একত্রিত হবে এবং প্রত্যেককে তার কর্মের হিসাব দিতে হবে। এই বিশ্বাস আমাদেরকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং গুনাহ থেকে বিরত রাখে।
দুনিয়ার জীবনে আমরা যা কিছু করি, তার সবই আল্লাহর নজরে রয়েছে। তাই আমাদের উচিত এমন জীবনযাপন করা যা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায় হয়।
সালাত ও তাকওয়া মানুষকে আখিরাতের সফলতার পথ দেখায় এবং দুনিয়াতেও শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনে।
তাদেরকে পরিত্যাগ করুন, যারা নিজেদের ধর্মকে ক্রীড়া ও কৌতুকরূপে গ্রহণ করেছে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে। কোরআন দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দিন, যাতে কেউ স্বীয় কর্মে এমন ভাবে গ্রেফতার না হয়ে যায় যে, আল্লাহ ব্যতীত তার কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী নেই এবং যদি তারা জগতের বিনিময়ও প্রদান কবে, তবু তাদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। একাই স্বীয় কর্মে জড়িত হয়ে পড়েছে। তাদের জন্যে উত্তপ্ত পানি এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে-কুফরের কারণে।
আপনি বলে দিনঃ আমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুকে আহবান করব, যে আমাদের উপকার করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না এবং আমরা কি পশ্চাৎপদে ফিরে যাব, এরপর যে, আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন? ঐ ব্যক্তির মত, যাকে শয়তানরা বনভুমিতে বিপথগামী করে দিয়েছে-সে উদভ্রান্ত হয়ে ঘোরাফেরা করছে। তার সহচররা তাকে পথের দিকে ডেকে বলছেঃ আস, আমাদের কাছে। আপনি বলে দিনঃ নিশ্চয় আল্লাহর পথই সুপথ। আমরা আদিষ্ট হয়েছি যাতে স্বীয় পালনকর্তা আজ্ঞাবহ হয়ে যাই।
তিনিই সঠিকভাবে নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। যেদিন তিনি বলবেনঃ হয়ে যা, অতঃপর হয়ে যাবে। তাঁর কথা সত্য। যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার করা হবে, সেদিন তাঁরই আধিপত্য হবে। তিনি অদৃশ্য বিষয়ে এবং প্রত্যক্ষ বিষয়ে জ্ঞাত। তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।