Wa laqad zaraanaa li jahannama kaseeram minal jinni wal insi lahum quloobul laa yafqahoona bihaa wa lahum a`yunul laa yubisiroona bihaa wa lahum aazaanul laa yasma`oona bihaa; ulaaa`ika kal an`aami bal hum adall; ulaaa`ika humul ghaafiloon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और गोया हमने (ख़ुदा) बहुतेरे जिन्नात और आदमियों को जहन्नुम के वास्ते पैदा किया और उनके दिल तो हैं (मगर कसदन) उन से देखते ही नहीं और उनके कान भी है (मगर) उनसे सुनने का काम ही नहीं लेते (खुलासा) ये लोग गोया जानवर हैं बल्कि उनसे भी कहीं गए गुज़रे हुए यही लोग (अमूर हक़) से बिल्कुल बेख़बर हैं
আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
📜
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি শব্দের অর্থ:
ذَرَأْنَا অর্থাৎ ‘আমরা সৃষ্টি করেছি’ বা ‘আমরা অস্তিত্বে এনেছি’।
لِجَهَنَّمَ অর্থাৎ ‘জাহান্নামের জন্য’।
لَا يَفْقَهُونَ অর্থাৎ ‘বুঝতে পারে না’ বা ‘উপলব্ধি করতে পারে না’।
كَالْأَنْعَامِ অর্থাৎ ‘পশুর মতো’।
أَضَلُّ অর্থাৎ ‘অধিক পথভ্রষ্ট’।
الْغَافِلُونَ অর্থাৎ ‘গাফেল/উদাসীন’।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি বহু জিন ও মানুষের সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য। অর্থাৎ তাদের সম্পর্কে আমার পূর্ব জ্ঞান ও চিরন্তন বিধান এই যে, তারা কুফরি ও পাপাচারে লিপ্ত থাকবে এবং জাহান্নামের শাস্তির উপযুক্ত হবে। তাদের এমন অন্তর আছে যা দিয়ে তারা সত্য উপলব্ধি করে না; তারা ভালো-মন্দ, হিত-অহিতের পার্থক্য বোঝে না। তাদের এমন চোখ আছে যা দিয়ে তারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দিকে তাকিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করে না, সত্যের পথ দেখতে পায় না। তাদের এমন কান আছে যা দিয়ে তারা কুরআনের আয়াত ও উপদেশ শোনে না, অর্থাৎ শুনলেও তা থেকে উপকার লাভ করে না এবং ঈমান আনে না। ফলে তারা সত্য থেকে সম্পূর্ণ বিমুখ থাকে।
এই ধরনের লোকেরা পশুর মতো, বরং পশুর চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট। কারণ পশুরা নিজের উপকার-অপকার বুঝে, বিপদ থেকে বাঁচে এবং তার রাখালের ডাকে সাড়া দেয়। কিন্তু এই লোকেরা তাদের স্রষ্টার নির্দেশ ও রাসূলের আহ্বান সত্ত্বেও তা মানে না, বরং নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। সুতরাং তারাই প্রকৃত গাফেল, যারা আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তর, চোখ ও কান সৃষ্টি করেছেন সত্য উপলব্ধি করার জন্য। যে ব্যক্তি এগুলোকে সঠিক পথে ব্যবহার করে না, সে নিজের ক্ষতি নিজেই করে।
শুধু চোখ দিয়ে দেখা বা কান দিয়ে শোনা যথেষ্ট নয়; বরং প্রয়োজন হলো মন দিয়ে চিন্তা করা এবং হৃদয় দিয়ে সত্যকে গ্রহণ করা।
যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শন ও কুরআনের নির্দেশনা থেকে শিক্ষা নেয় না, তার অবস্থা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। কারণ পশুরা সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে নিজেদের উপকার বোঝে, কিন্তু মানুষকে দেওয়া হয়েছে বিবেক ও বুদ্ধি, যা দিয়ে সে আল্লাহকে চিনবে এবং তাঁর ইবাদত করবে।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, জ্ঞান ও বিবেকের সঠিক ব্যবহারই মানুষকে সফলতা দেয়। আর যে ব্যক্তি এগুলোকে অলস রাখে বা ভুল পথে ব্যবহার করে, সে জাহান্নামের দিকে এগিয়ে যায়।
আল্লাহর রহমত ও হেদায়াত লাভের জন্য আমাদের উচিত কুরআন তিলাওয়াত করা, এর অর্থ বোঝা এবং তা অনুযায়ী আমল করা। তাহলেই আমরা গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাব।
আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাঁকে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শীঘ্রই পাবে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।