Yaa Baneee Aadama qad anzalnaa `alaikum libaasany yuwaaree saw aatikum wa reeshanw wa libaasut taqwaa zaalika khair; zaalika min Aayaatil laahi la`allahum yaz zakkaroon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और उसी में से (और) उसी में से फिर दोबारा तुम ज़िन्दा करके निकाले जाओगे ऐ आदम की औलाद हमने तुम्हारे लिए पोशाक नाज़िल की जो तुम्हारे शर्मगाहों को छिपाती है और ज़ीनत के लिए कपड़े और इसके अलावा परहेज़गारी का लिबास है और ये सब (लिबासों) से बेहतर है ये (लिबास) भी ख़ुदा (की कुदरत) की निशानियों से है
হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لِبَاسًا — পোশাক, যা শরীরকে আবৃত করে।
يُوَارِي — আবৃত করে, ঢেকে রাখে।
سَوْآتِكُمْ — তোমাদের লজ্জাস্থানসমূহ (যেসব স্থান আবৃত করা ফরজ)।
رِيشًا — সৌন্দর্য ও শোভার পোশাক; যেমন পাখির পালক তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
لِبَاسُ التَّقْوَىٰ — তাকওয়ার পোশাক, অর্থাৎ আল্লাহভীতি, আনুগত্য ও পাপাচার থেকে বিরত থাকা।
آيَاتِ اللَّهِ — আল্লাহর নিদর্শনসমূহ (তাঁর ক্ষমতা ও অনুগ্রহের প্রমাণ)।
يَذَّكَّرُونَ — তারা উপদেশ গ্রহণ করে, স্মরণ করে।
তাফসীর:
হে আদম সন্তানগণ! আমি তোমাদের জন্য দুটি পোশাক দান করেছি: একটি হলো প্রয়োজনীয় পোশাক, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং শরীরের গোপনীয় অংশকে রক্ষা করে; এটি তোমাদের জন্য অপরিহার্য। অপরটি হলো সৌন্দর্য ও শোভার পোশাক, যা তোমাদেরকে মানুষের মাঝে সুন্দর ও সম্মানিত দেখায়, যেমন পাখির পালক তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সর্বোত্তম পোশাক হলো তাকওয়ার পোশাক — অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ পালন করা, তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকা এবং অন্তরে আল্লাহভীতি ধারণ করা। এই তাকওয়াই মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করে এবং চিরস্থায়ী সৌন্দর্য দান করে। বাহ্যিক পোশাক দেহকে সাজায়, কিন্তু তাকওয়া আত্মাকে সাজায় এবং অন্তরকে পবিত্র করে।
এই পোশাক প্রদান করা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি মহান নিদর্শন, যা তাঁর ক্ষমতা, করুণা ও অনুগ্রহের প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ চান, মানুষ যেন এই নিয়ামতসমূহ স্মরণ করে, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে। এটি মানুষের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা ও দয়ার প্রকাশ, যাতে তারা সঠিক পথে ফিরে আসে এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে নিজেদের রক্ষা করে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহ মানুষের প্রতি অশেষ দয়ালু — তিনি শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসই দেননি, বরং সৌন্দর্য ও শোভার ব্যবস্থাও করেছেন, যা মানুষের জীবনকে আনন্দময় করে তোলে।
বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আত্মিক সৌন্দর্য ও তাকওয়া অনেক বেশি মূল্যবান। যে ব্যক্তি অন্তরে আল্লাহভীতি ধারণ করে, সে প্রকৃত অর্থেই সুন্দর ও সম্মানিত।
পোশাকের মূল উদ্দেশ্য শুধু শরীর ঢাকা নয়, বরং শালীনতা ও সম্মান রক্ষা করা। ইসলাম মানুষকে শালীন পোশাক পরতে উৎসাহিত করে, যা সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বয়ে আনে।
আল্লাহর নিয়ামতসমূহ চিন্তা করলে মানুষের অন্তরে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জন্মে, যা তাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে।
শয়তান মানুষের লজ্জা প্রকাশ করতে চায় এবং তাকে পথভ্রষ্ট করতে চায়। তাকওয়ার পোশাকই এই ফাঁদ থেকে রক্ষা করার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলাম শুধু আধ্যাত্মিকতা নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা দেয় — এমনকি পোশাকের বিষয়েও।
হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।
হে বনী-আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, , যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না।
তারা যখন কোন মন্দ কাজ করে, তখন বলে আমরা বাপ-দাদাকে এমনি করতে দেখেছি এবং আল্লাহও আমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন। আল্লাহ মন্দকাজের আদেশ দেন না। এমন কথা আল্লাহর প্রতি কেন আরোপ কর, যা তোমরা জান না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।