আল-আরাফ · 54/206
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আরাফ
إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ يُغۡشِي ٱلَّيۡلَ ٱلنَّهَارَ يَطۡلُبُهُۥ حَثِيثًا وَٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَ وَٱلنُّجُومَ مُسَخَّرَٰتِۭ بِأَمۡرِهِۦٓۗ أَلَا لَهُ ٱلۡخَلۡقُ وَٱلۡأَمۡرُۗ تَبَارَكَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ  ۝٥٤
Inna Rabbakkumul laahul lazee khalaqas sammaawaati wal arda fee sittati qiyaamin summmas tawaa `alal `arshi yughshil lailan nahaara yatlu buhoo haseesanw washshamsa walqamara wannujooma musakhkharaatim bi amrih; alaa lahul khalqu wal-amr; tabaarakal laahu Rabbul `aalameen
📖 বাংলা অর্থ
নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ — আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন।
  • اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ — আরশের উপর সমুন্নত হয়েছেন (যেভাবে তাঁর শানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, আমরা তার প্রকৃতি জানি না)।
  • يُغْشِي — আবৃত করে, ঢেকে দেয়।
  • يَطْلُبُهُ حَثِيثًا — দ্রুতগতিতে তাকে অনুসরণ করে।
  • مُسَخَّرَاتٍ — অনুগত, আজ্ঞাধীন।
  • تَبَارَكَ — অত্যন্ত বরকতময়, মহান ও পবিত্র।

তাফসীর:

হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালক সেই আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি আরশের উপর সমুন্নত হয়েছেন — এমন সমুন্নতি যা তাঁর মহিমা ও মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, আমরা তার ধরণ বা প্রকৃতি উপলব্ধি করতে সক্ষম নই। তিনি রাতকে দিনের উপর আবৃত করেন এবং দিনকে রাতের উপর আবৃত করেন — অর্থাৎ একটির আলো দিয়ে অন্যটিকে ঢেকে দেন। রাত ও দিন এত দ্রুত একে অপরকে অনুসরণ করে যে, মনে হয় একটি অন্যটির পিছু ধাওয়া করছে; যখন একটি আসে, অন্যটি চলে যায়। তিনি সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজিকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর আদেশের অনুগত করে — এরা সবাই তাঁরই নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত, নিজেদের ইচ্ছায় নয়।

জেনে রাখো! সৃষ্টি করা এবং আদেশ দেওয়া — সবকিছু একমাত্র তাঁরই এখতিয়ারে। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন, আর যা চান আদেশ করেন। কোনো সৃষ্টিকর্তা বা বিধানদাতা নেই তিনি ছাড়া। তিনি অত্যন্ত বরকতময়, মহান ও পবিত্র — প্রতিটি ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত। তিনি সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. এই আয়াত আমাদেরকে আল্লাহর মহত্ত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে গভীর চিন্তা করতে শেখায়। যিনি এত বিশাল আকাশ-পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং রাত-দিন, সূর্য-চন্দ্র-নক্ষত্রকে নিয়ম মেনে চলাচল করাচ্ছেন, তিনি অবশ্যই আমাদের ইবাদত ও আনুগত্যের সবচেয়ে বেশি যোগ্য।
  2. আল্লাহর সৃষ্টির এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা আমাদেরকে তাঁর একত্বের সাক্ষ্য দেয়। এই বিশাল মহাবিশ্ব নিজে নিজে এত সুন্দরভাবে পরিচালিত হতে পারে না — অবশ্যই একজন মহাজ্ঞানী স্রষ্টা আছেন যিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন।
  3. রাত ও দিনের দ্রুত পরিবর্তন আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জীবনও এমনই ক্ষণস্থায়ী। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদেরকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে — তাই আমাদের উচিত সময়ের মূল্যায়ন করা এবং আল্লাহর ইবাদতে জীবন কাটানো।
  4. আল্লাহর আদেশ ও সৃষ্টি উভয়ই তাঁর এখতিয়ারে — এর অর্থ হলো, আমাদের জীবন পরিচালনার বিধানও একমাত্র তাঁর কাছ থেকেই গ্রহণ করতে হবে। মানুষের তৈরি আইন আল্লাহর বিধানের বিপরীত হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
  5. "তাবারাকাল্লাহ" — এই বাক্যটি আমাদেরকে শেখায় যে, আল্লাহর কল্যাণ ও অনুগ্রহ অফুরন্ত। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অশেষ দয়ালু ও করুণাময় — তাই আমরা সবসময় তাঁর কাছে আশা রাখতে পারি এবং তাঁর রহমতের উপর ভরসা করতে পারি।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 52-56 — আল-আরাফ

52وَلَقَدۡ جِئۡنَٰهُم بِكِتَٰبٍ فَصَّلۡنَٰهُ عَلَىٰ عِلۡمٍ هُدًى وَرَحۡمَةً لِّقَوۡمٍ يُؤۡمِنُونَ 
আমি তাদের কাছে গ্রন্থ পৌছিয়েছি, যা আমি স্বীয় জ্ঞানে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, যা পথপ্রদর্শক এবং মুমিনদের জন্যে রহমত।
53هَلۡ يَنظُرُونَ إِلَّا تَأۡوِيلَهُۥۚ يَوۡمَ يَأۡتِي تَأۡوِيلُهُۥ يَقُولُ ٱلَّذِينَ نَسُوهُ مِن قَبۡلُ قَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُ رَبِّنَا بِٱلۡحَقِّ فَهَل لَّنَا مِن شُفَعَآءَ فَيَشۡفَعُواْ لَنَآ أَوۡ نُرَدُّ فَنَعۡمَلَ غَيۡرَ ٱلَّذِي كُنَّا نَعۡمَلُۚ قَدۡ خَسِرُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ وَضَلَّ عَنۡهُم مَّا كَانُواْ يَفۡتَرُونَ 
তারা কি এখন এ অপেক্ষায়ই আছে যে, এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হোক? যেদিন এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হবে, সেদিন পূর্বে যারা একে ভূলে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ বাস্তবিকই আমাদের প্রতিপালকের পয়গম্বরগণ সত্যসহ আগমন করেছিলেন। অতএব, আমাদের জন্যে কোন সুপারিশকারী আছে কি যে, সুপারিশ করবে অথবা আমাদেরকে পুনঃ প্রেরণ করা হলে আমরা পূর্বে যা করতাম তার বিপরীত কাজ করে আসতাম। নিশ্চয় তারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা মনগড়া যা বলত, তা উধাও হয়ে যাবে।
54إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ يُغۡشِي ٱلَّيۡلَ ٱلنَّهَارَ يَطۡلُبُهُۥ حَثِيثًا وَٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَ وَٱلنُّجُومَ مُسَخَّرَٰتِۭ بِأَمۡرِهِۦٓۗ أَلَا لَهُ ٱلۡخَلۡقُ وَٱلۡأَمۡرُۗ تَبَارَكَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ 
নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
55ٱدۡعُواْ رَبَّكُمۡ تَضَرُّعًا وَخُفۡيَةًۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُعۡتَدِينَ 
তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি-মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
56وَلَا تُفۡسِدُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ بَعۡدَ إِصۡلَٰحِهَا وَٱدۡعُوهُ خَوۡفًا وَطَمَعًاۚ إِنَّ رَحۡمَتَ ٱللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ ٱلۡمُحۡسِنِينَ 
পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। তাঁকে আহবান কর ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।
আল-আরাফকুরআন সূচী
206আয়াত
মাক্কীRevelation
54আয়াত

অনুবাদ — আল-আরাফ 54

সূরা আয়াত 54/206 — আল-আরাফ الأعراف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আরাফ শুনুন, আল-আরাফ অনুবাদ, আল-আরাফ mp3, আল-আরাফ pdf. আয়াত 52–56. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না