আল-জ্বিন · 16/28
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-জ্বিন
وَأَن لَّوِ اسْتَقَامُوا عَلَى الطَّرِيقَةِ لَأَسْقَيْنَاهُم مَّاءً غَدَقًا ۝١٦
Wa alla wis taqaamoo `alat tareeqati la asqaynaahum maa`an ghadaqaa
📖 বাংলা অর্থ
আর এই প্রত্যাদেশ করা হয়েছে যে, তারা যদি সত্যপথে কায়েম থাকত, তবে আমি তাদেরকে প্রচুর পানি বর্ষণে সিক্ত করতাম।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • اسْتَقَامُوا = তারা সোজা পথে অবিচল থাকত
  • الطَّرِيقَةِ = সরল পথ (ইসলাম)
  • لَأَسْقَيْنَاهُم = আমরা তাদেরকে পান করাতাম
  • مَاءً غَدَقًا = প্রচুর পানি

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে ঘোষণা করছেন যে, যদি মানুষ ও জিন জাতি ইসলামের সরল পথে অবিচল থাকত এবং কুরআনের নির্দেশনা মেনে চলত, তাহলে আল্লাহ তাদেরকে প্রচুর বৃষ্টি দিতেন এবং রিযিকের দরজা খুলে দিতেন। এখানে "প্রচুর পানি" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার প্রাচুর্য, সমৃদ্ধি ও বারাকাহ। এটি এমন এক সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যারা সাত বছর খরার সম্মুখীন ছিল—যদি তারা ঈমান ও সৎকর্মের পথে থাকত, আল্লাহ তাদের ওপর বৃষ্টির দরজা খুলে দিতেন এবং তাদের জীবিকা প্রশস্ত করে দিতেন।

এখানে "পানি" শব্দটি ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে গভীর তাৎপর্য—পানি যেমন জীবনের মূল উৎস, তেমনি ঈমান ও সৎকর্মও আধ্যাত্মিক ও পার্থিব জীবনের সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। আল্লাহ বলেননি "আমরা তাদের ধন-সম্পদ দিতাম" বরং বলেছেন "প্রচুর পানি দিতাম", কারণ পানি দিয়ে যখন জমিন উর্বর হয়, তখন শস্য, ফল-ফলাদি, পশুপালন—সবকিছুর প্রাচুর্য সৃষ্টি হয়। এটি একটি ব্যাপক ও সর্বাঙ্গীণ সমৃদ্ধির ইঙ্গিত।

আয়াতের পরবর্তী অংশে (যা এই আয়াতের সাথে সংযুক্ত) বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তাকে আল্লাহ কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ করবেন। অর্থাৎ, পথভ্রষ্টতা ও কুফরির পরিণতি হলো সংকীর্ণতা ও শাস্তি, আর ঈমান ও সৎকর্মের ফল হলো প্রশস্ততা ও রহমত।

শিক্ষণীয় বিষয়:

  1. ঈমান ও সৎকর্মের সাথে দুনিয়ার রিযিকের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আল্লাহর পথে অবিচল থাকলে আল্লাহ দুনিয়ার জীবিকাও প্রশস্ত করে দেন।
  2. বিপদ-মুসিবত ও দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তির উপায় হলো তাওবা ও ঈমানের পথে ফিরে আসা। বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেলে এবং রিযিক সংকুচিত হলে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই সর্বোত্তম সমাধান।
  3. এই আয়াত মুমিনদের জন্য আশার বাণী—তারা যেন জেনে রাখে, তাদের ধর্মীয় দৃঢ়তা ও আল্লাহর আনুগত্য কখনো বৃথা যায় না; বরং এর বিনিময়ে আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায় কল্যাণ দান করবেন।
  4. আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা অপরিহার্য। যখন আল্লাহ আমাদেরকে রিযিক দেন, তখন আমাদের কর্তব্য হলো তা আল্লাহর পথে ব্যয় করা এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, যাতে নিয়ামত আরও বৃদ্ধি পায়।
  5. ইসলামের পথই হলো প্রকৃত কল্যাণের পথ। যে জাতি এই পথে চলে, সে জাতি দুনিয়াতেও সম্মানিত হয় এবং আখিরাতেও সফলকাম হয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 14-18 — আল-জ্বিন

14وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ ۖ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولَٰئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا
আমাদের কিছুসংখ্যক আজ্ঞাবহ এবং কিছুসংখ্যক অন্যায়কারী। যারা আজ্ঞাবহ হয়, তারা সৎপথ বেছে নিয়েছে।
15وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا
আর যারা অন্যায়কারী, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন।
16وَأَن لَّوِ اسْتَقَامُوا عَلَى الطَّرِيقَةِ لَأَسْقَيْنَاهُم مَّاءً غَدَقًا
আর এই প্রত্যাদেশ করা হয়েছে যে, তারা যদি সত্যপথে কায়েম থাকত, তবে আমি তাদেরকে প্রচুর পানি বর্ষণে সিক্ত করতাম।
17لِّنَفْتِنَهُمْ فِيهِ ۚ وَمَن يُعْرِضْ عَن ذِكْرِ رَبِّهِ يَسْلُكْهُ عَذَابًا صَعَدًا
যাতে এ ব্যাপারে তাদেরকে পরীক্ষা করি। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তিনি তাকে উদীয়মান আযাবে পরিচালিত করবেন।
18وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا
এবং এই ওহীও করা হয়েছে যে, মসজিদসমূহ আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করার জন্য। অতএব, তোমরা আল্লাহ তা’আলার সাথে কাউকে ডেকো না।
আল-জ্বিনকুরআন সূচী
28আয়াত
মাক্কীRevelation
16আয়াত

অনুবাদ — আল-জ্বিন 16

সূরা আল-জ্বিন আয়াত 16 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর এই প্রত্যাদেশ করা হয়েছে যে, তারা যদি সত্যপথে কায়েম…

সূরা আয়াত 16/28 — আল-জ্বিন الجن (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-জ্বিন শুনুন, আল-জ্বিন অনুবাদ, আল-জ্বিন mp3, আল-জ্বিন pdf. আয়াত 14–18. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না