Wa izaa tutlaa `alaihim Aayaatunaa qaaloo qad sami`naa law nashaaa`u laqulnaa misla haazaaa in haazaaa illaaa asaateerul awwaleen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর কেউ যখন তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে তবে বলে, আমরা শুনেছি, ইচ্ছা করলে আমরাও এমন বলতে পারি; এ তো পূর্ববর্তী ইতিকথা ছাড়া আর কিছুই নয়।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और ख़ुदा तो सब तदबीरकरने वालों से बेहतर है और जब उनके सामने हमारी आयते पढ़ी जाती हैं तो बोल उठते हैं कि हमने सुना तो लेकिन अगर हम चाहें तो यक़ीनन ऐसा ही (क़रार) हम भी कह सकते हैं-तो बस अगलों के क़िस्से है
আর কেউ যখন তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে তবে বলে, আমরা শুনেছি, ইচ্ছা করলে আমরাও এমন বলতে পারি; এ তো পূর্ববর্তী ইতিকথা ছাড়া আর কিছুই নয়।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
آيَاتُنَا — আমাদের আয়াতসমূহ (কুরআনের আয়াত)।
أَسَاطِيرُ — এটি ‘উসতুরাহ’ বা ‘আসতারাহ’-এর বহুবচন, যার অর্থ পুরাতন কাল্পনিক কাহিনী, মিথ্যা গল্প বা পূর্বপুরুষদের লেখা উপকথা।
الْأَوَّلِينَ — পূর্ববর্তী লোকদের, প্রাচীন সম্প্রদায়ের।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
আয়াতটি মক্কার কাফিরদের মনোভাব বর্ণনা করছে, বিশেষ করে নাযর ইবনে হারিসের কথা উল্লেখযোগ্য। যখন তাদের কাছে আমাদের (আল্লাহর) স্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হতো, তখন তারা অহংকার ও সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার মনোভাবে বলত: “আমরা তো এ ধরনের কথা আগেও শুনেছি। আমরা চাইলে এর মতো কথাও বলতে পারি।” তারা দাবি করত যে, কুরআন তো নতুন কিছু নয়; এটি পূর্ববর্তী লোকদের লেখা পুরনো কাহিনী ও উপকথা মাত্র, যা কেউ সংগ্রহ করে উপস্থাপন করছে। তাদের এই উক্তি ছিল সম্পূর্ণ অজ্ঞতা, জিদ এবং সত্যকে মেনে নিতে অনীহার ফল। তারা কুরআনের অলৌকিকতা ও গভীরতাকে অস্বীকার করে একে সাধারণ মানুষের রচনা বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিল, যাতে মানুষ তার প্রতি আকৃষ্ট না হয়। অথচ বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—কুরআন এমন এক বাণী যা মানবজাতির রচনা ক্ষমতার বাইরে, এবং এর চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে দেখানোর সাহস কখনো তাদের হয়নি।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
সত্যকে মেনে নিতে অহংকার ও জিদ কত বড় অন্তরায়—এটি মানুষের চিরন্তন দুর্বলতা। যে ব্যক্তি সত্য শোনার পরও তা প্রত্যাখ্যান করে, সে নিজের জ্ঞান-বিবেকের বিরুদ্ধে যায়।
কুরআনের অলৌকিকতা এতটাই প্রকট যে, এর বিরোধীরা কখনো এর সমকক্ষ কিছু আনতে পারেনি; তারা কেবল অপবাদ ও মিথ্যা প্রচারের আশ্রয় নিয়েছে।
ইসলামের দাওয়াত যখন দেওয়া হয়, তখন প্রতিপক্ষের কাছ থেকে নানা ধরনের অজুহাত ও অপপ্রচার আসবে—এতে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করতে হবে, কারণ এটিই নবীদের সুন্নত।
মানুষের রচিত গ্রন্থ ও আল্লাহর বাণীর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য; কুরআনের প্রতিটি শব্দে রয়েছে গভীর জ্ঞান, সত্য ও জীবন-পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা, যা কোনো মানুষের পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয়।
এই আয়াত মুমিনদের জন্য সতর্কবার্তা যে, কুরআনকে কখনো সাধারণ কিতাবের মতো মনে করা যাবে না; বরং এতে চিন্তা-গবেষণা করা এবং এর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গঠন করাই আমাদের কর্তব্য।
হে ঈমানদারগণ তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করতে থাক, তবে তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন এবং তোমাদের থেকে তোমাদের পাপকে সরিয়ে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান।
আর কাফেরেরা যখন প্রতারণা করত আপনাকে বন্দী অথবা হত্যা করার উদ্দেশ্যে কিংবা আপনাকে বের করে দেয়ার জন্য তখন তারা যেমন ছলনা করত তেমনি, আল্লাহও ছলনা করতেন। বস্তুতঃ আল্লাহর ছলনা সবচেয়ে উত্তম।
তাছাড়া তারা যখন বলতে আরম্ভ করে যে, ইয়া আল্লাহ, এই যদি তোমার পক্ষ থেকে (আগত) সত্য দ্বীন হয়ে থাকে, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদের উপর বেদনাদায়ক আযাব নাযিল কর।
অথচ আল্লাহ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ কখনও তাদের উপর আযাব দেবেন না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।