আল-আনফাল · 32/75
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনফাল
وَإِذْ قَالُوا اللَّهُمَّ إِن كَانَ هَٰذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِندِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِّنَ السَّمَاءِ أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ۝٣٢
Wa iz qaalul laahumma in kaana haazaa huwal haqqa min `indika fa amtir `alainaa hijaaratam minas samaaa`i awi`tinaa bi `azaabin alaeem
📖 বাংলা অর্থ
তাছাড়া তারা যখন বলতে আরম্ভ করে যে, ইয়া আল্লাহ, এই যদি তোমার পক্ষ থেকে (আগত) সত্য দ্বীন হয়ে থাকে, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদের উপর বেদনাদায়ক আযাব নাযিল কর।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • اللَّهُمَّ — হে আল্লাহ! (এটি আল্লাহ শব্দেরই একটি সম্বোধনরূপ)
  • فَأَمْطِرْ — বর্ষণ করো
  • حِجَارَةً — পাথর
  • عَذَابٍ أَلِيمٍ — যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি

তাফসীর:

হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা, যখন কাফির মুশরিকরা আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলেছিল: “হে আল্লাহ! যদি এটা (কুরআন) সত্য হয় এবং তোমার পক্ষ থেকে এসে থাকে, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করো অথবা আমাদেরকে কোনো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দাও।”

তারা এ কথা বলেছিল ঘৃণা ও অবিশ্বাসের চরম মাত্রা থেকে। তাদের একজন নেতা (নাযর ইবনে হারিস) যখন কুরআনকে ‘পুরোনো দিনের গল্প-কাহিনী’ বলে আখ্যা দিয়েছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছিলেন: “ধিক তোমাকে! এটা তো আল্লাহর কালাম।” তখন সে ঔদ্ধত্য ও বিদ্রূপের সাথে বলেছিল: “যদি এটা সত্যিই আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তবে আমাদের উপর পাথর বর্ষণ করো অথবা কোনো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নিয়ে এসো।”

তারা আসলে এ কথা দিয়ে কুরআনের সত্যতা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছিল এবং তাদের দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করছিল যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। তারা মনে করত, যদি এটা সত্য হতো, তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে শাস্তি দিতেন। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল যে, আল্লাহর শাস্তি তাঁর ইচ্ছা ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী আসে, আর তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য এই অভিশাপ ডেকে আনছিল।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. কুরআন ও ইসলামের সত্যতা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা অত্যন্ত মারাত্মক অপরাধ। যারা এভাবে আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা বলে এবং বিদ্রূপ করে, তারা নিজেদেরই ধ্বংস ডেকে আনে।
  2. আল্লাহর শাস্তি তাঁর নির্ধারিত সময়েই আসে। কেউ যদি শাস্তি ত্বরান্বিত করতে চায়, তবে সে নিজের জন্যই ক্ষতি ডেকে আনে। মুমিনের উচিত আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা কামনা করা, শাস্তি কামনা নয়।
  3. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সত্যকে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব করা এবং অহংকার করা ধ্বংসের কারণ। মুমিনের উচিত সত্য প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে তা মেনে নেওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
  4. ইসলামের প্রতি আহ্বান জানানোর সময় ধৈর্য ও সহনশীলতা অবলম্বন করতে হবে, এমনকি শত্রুরা চরম অপমান ও বিদ্রূপ করলেও। কারণ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই কঠোর কথার জবাবেও তাদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতির সাথে দাওয়াত দিয়েছেন।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 30-34 — আল-আনফাল

30وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِيُثْبِتُوكَ أَوْ يَقْتُلُوكَ أَوْ يُخْرِجُوكَ ۚ وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ ۖ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ
আর কাফেরেরা যখন প্রতারণা করত আপনাকে বন্দী অথবা হত্যা করার উদ্দেশ্যে কিংবা আপনাকে বের করে দেয়ার জন্য তখন তারা যেমন ছলনা করত তেমনি, আল্লাহও ছলনা করতেন। বস্তুতঃ আল্লাহর ছলনা সবচেয়ে উত্তম।
31وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا قَالُوا قَدْ سَمِعْنَا لَوْ نَشَاءُ لَقُلْنَا مِثْلَ هَٰذَا ۙ إِنْ هَٰذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ
আর কেউ যখন তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে তবে বলে, আমরা শুনেছি, ইচ্ছা করলে আমরাও এমন বলতে পারি; এ তো পূর্ববর্তী ইতিকথা ছাড়া আর কিছুই নয়।
32وَإِذْ قَالُوا اللَّهُمَّ إِن كَانَ هَٰذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِندِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِّنَ السَّمَاءِ أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ
তাছাড়া তারা যখন বলতে আরম্ভ করে যে, ইয়া আল্লাহ, এই যদি তোমার পক্ষ থেকে (আগত) সত্য দ্বীন হয়ে থাকে, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদের উপর বেদনাদায়ক আযাব নাযিল কর।
33وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنتَ فِيهِمْ ۚ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
অথচ আল্লাহ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ কখনও তাদের উপর আযাব দেবেন না।
34وَمَا لَهُمْ أَلَّا يُعَذِّبَهُمُ اللَّهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَا كَانُوا أَوْلِيَاءَهُ ۚ إِنْ أَوْلِيَاؤُهُ إِلَّا الْمُتَّقُونَ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
আর তাদের মধ্যে এমন কি বিষয় রয়েছে, যার ফলে আল্লাহ তাদের উপর আযাব দান করবেন না। অথচ তারা মসজিদে-হারামে যেতে বাধাদান করে, অথচ তাদের সে অধিকার নেই। এর অধিকার তো তাদেরই রয়েছে যারা পরহেযগার। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সে বিষয়ে অবহিত নয়।
আল-আনফালকুরআন সূচী
75আয়াত
মাদানীRevelation
32আয়াত

অনুবাদ — আল-আনফাল 32

সূরা আল-আনফাল আয়াত 32 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাছাড়া তারা যখন বলতে আরম্ভ করে যে, ইয়া আল্লাহ, এই…

সূরা আয়াত 32/75 — আল-আনফাল الأنفال (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনফাল শুনুন, আল-আনফাল অনুবাদ, আল-আনফাল mp3, আল-আনফাল pdf. আয়াত 30–34. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না