Wa laa `alal lazeena izaa maaa atawka litahmilahum qulta laaa ajidu maaa ahmilukum `alaihi tawallaw wa a`yunuhum tafeedu minaddam`i hazanan allaa yajidoo maa yunfiqoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর না আছে তাদের উপর যারা এসেছে তোমার নিকট যেন তুমি তাদের বাহন দান কর এবং তুমি বলেছ, আমার কাছে এমন কোন বস্তু নেই যে, তার উপর তোমাদের সওয়ার করাব তখন তারা ফিরে গেছে অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইতেছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোন বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और न उन्हीं लोगों पर कोई इल्ज़ाम है जो तुम्हारे पास आए कि तुम उनके लिए सवारी बाहम पहुँचा दो और तुमने कहा कि मेरे पास (तो कोई सवारी) मौजूद नहीं कि तुमको उस पर सवार करूँ तो वह लोग (मजबूरन) फिर गए और हसरत (व अफसोस) उसे उस ग़म में कि उन को ख़र्च मयस्सर न आया
لِتَحْمِلَهُمْ: তাদেরকে (সওয়ারির বাহনে) বহন করার জন্য।
تَوَلَّوْا: তারা ফিরে গেল।
تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ: অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে।
حَزَنًا: দুঃখ ও বেদনার কারণে।
أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنفِقُونَ: এই কারণে যে, তারা (জিহাদের জন্য) খরচ করার মতো কিছু পায়নি।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই সৎ ও আন্তরিক মুমিনদের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা জিহাদে অংশ নেওয়ার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিল, কিন্তু তাদের কাছে সওয়ারি বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছিল না। তারা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, ‘আমাদেরকে (জিহাদের জন্য) বাহন দিন’, তখন তিনি তাদের বললেন, ‘আমার কাছে এমন কিছু নেই যা তোমাদেরকে বহন করার জন্য দিতে পারি।’ তখন তারা অত্যন্ত দুঃখিত হয়ে ফিরে গেল, তাদের চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। তাদের এই কান্না ছিল এই কারণে যে, তারা আল্লাহর পথে খরচ করার মতো অর্থ-সম্পদ পায়নি, ফলে তারা জিহাদের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হলো।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই দরিদ্র ও আন্তরিক মুমিনদের উপর কোনো দোষ বা পাপ নেই। কারণ তারা জিহাদে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু তাদের সামর্থ্য ছিল না। তারা যে পিছনে থেকে গেল, তা ছিল সম্পূর্ণ অসহায়তাবশত, ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতার কারণে নয়। তাই তাদের জন্য কোনো তিরস্কার বা শাস্তি নেই। বরং তাদের এই আন্তরিক আফসোস ও কান্না তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।
শিক্ষা ও ফজিলত:
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের নিয়ত ও আন্তরিকতা দেখে মূল্যায়ন করেন। যার নিয়ত খাঁটি, কিন্তু সামর্থ্য নেই, সে-ও সওয়াব পাবে।
দ্বীনের কাজে অংশ নিতে না পারার আফসোস ও কান্না করা ঈমানদারের পরিচয়। এটি অন্তরের দৃঢ়তা ও আল্লাহর ভালোবাসার প্রমাণ।
ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যা দুর্বল ও অসহায়দের অবস্থা বুঝে নেয় এবং তাদের উপর এমন কোনো দায়িত্ব চাপায় না যা তারা বহন করতে সক্ষম নয়।
প্রকৃত মুমিনের অন্তর সর্বদা সৎকাজের জন্য ব্যাকুল থাকে; যখন কোনো কারণে সে সৎকাজ থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তার অন্তর ব্যথিত হয়।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, অক্ষম ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং তাদেরকে দোষারোপ করা যাবে না। বরং তাদের আন্তরিকতা ও নিয়তের কারণে তাদের সম্মান করা উচিত।
আর না আছে তাদের উপর যারা এসেছে তোমার নিকট যেন তুমি তাদের বাহন দান কর এবং তুমি বলেছ, আমার কাছে এমন কোন বস্তু নেই যে, তার উপর তোমাদের সওয়ার করাব তখন তারা ফিরে গেছে অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইতেছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোন বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে।
আর ছলনাকারী বেদুঈন লোকেরা এলো, যাতে তাদের অব্যাহতি লাভ হতে পারে এবং নিবৃত্ত থাকতে পারে তাদেরই যারা আল্লাহ ও রসূলের সাথে মিথ্যা বলে ছিল। এবার তাদের উপর শীগ্রই আসবে বেদনাদায়ক আযাব যারা কাফের।
দূর্বল, রুগ্ন, ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ লোকদের জন্য কোন অপরাধ নেই, যখন তারা মনের দিক থেকে পবিত্র হবে আল্লাহ ও রসূলের সাথে। নেককারদের উপর অভিযোগের কোন পথ নেই। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী দয়ালু।
আর না আছে তাদের উপর যারা এসেছে তোমার নিকট যেন তুমি তাদের বাহন দান কর এবং তুমি বলেছ, আমার কাছে এমন কোন বস্তু নেই যে, তার উপর তোমাদের সওয়ার করাব তখন তারা ফিরে গেছে অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইতেছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোন বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে।
অভিযোগের পথ তো তাদের ব্যাপারে রয়েছে, যারা তোমার নিকট অব্যাহতি কামনা করে অথচ তারা সম্পদশালী। যারা পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথে থাকতে পেরে আনন্দিত হয়েছে। আর আল্লাহ মোহর এঁটে দিয়েছেন তাদের অন্তরসমূহে। বস্তুতঃ তারা জানতেও পারেনি।
তুমি যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তোমাদের নিকট ছল-ছুতা নিয়ে উপস্থিত হবে; তুমি বলো, ছল কারো না, আমি কখনো তোমাদের কথা শুনব না; আমাকে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে দিয়েছেন। আর এখন তোমাদের কর্ম আল্লাহই দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে সেই গোপন ও আগোপন বিষয়ে অবগত সত্তার নিকট। তিনিই তোমাদের বাতলে দেবেন যা তোমরা করছিলে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।