W yaqooloona law laaa unzila `alaihi aayatum mir Rabbihee faqul innamal ghaibu lillaahi fantaziroo innee ma`akum minal muntazireen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
বস্তুতঃ তারা বলে, তাঁর কাছে তাঁর পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ এল না কেন? বলে দাও গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। আমি ও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और कहते हैं कि उस पैग़म्बर पर कोई मोजिज़ा (हमारी ख्वाहिश के मुवाफिक़) क्यों नहीं नाज़िल किया गया तो (ऐ रसूल) तुम कह दो कि ग़ैब (दानी) तो सिर्फ ख़ुदा के वास्ते ख़ास है तो तुम भी इन्तज़ार करो और तुम्हारे साथ मै (भी) यक़ीनन इन्तज़ार करने वालों में हूँ
বস্তুতঃ তারা বলে, তাঁর কাছে তাঁর পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ এল না কেন? বলে দাও গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। আমি ও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।
📜
অনুবাদ — Tafsir
### معاني الكلمات:
لَوْلَا: কেন বা কেন নয় (অর্থাৎ, কেন অবতীর্ণ হলো না)।
آيَةٌ: নিদর্শন বা মু’জিযা, যা সত্যতা প্রমাণ করে।
الْغَيْبُ: অদৃশ্য বিষয়, যা শুধুমাত্র আল্লাহই জানেন।
### تفسير الآية:
মুশরিকরা (কাফিররা) বলত: "এই রাসূলের উপর তার রবের পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন (মু’জিযা) কেন অবতীর্ণ হলো না, যা আমরা নিজেরা দেখতে পেতাম এবং যা প্রমাণ করত যে, সে সত্যবাদী?" — তারা এমন কিছু অলৌকিক ঘটনা দাবি করত যা তাদের মনগড়া শর্ত অনুযায়ী হতো।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেন তাদের উত্তর দিতে: "নিশ্চয়ই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান শুধুমাত্র আল্লাহরই আছে। নিদর্শন অবতীর্ণ করাও তাঁর ইচ্ছাধীন বিষয় — তিনি চাইলে করেন, চাইলে করেন না। তিনি যা চান, তা-ই করেন, আর তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ীই সবকিছু ঘটে।"
অতঃপর আল্লাহ বলেন: "তোমরা আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করা থেকে বিরত থাকো, আর তোমাদের দাবিকৃত নিদর্শনের অপেক্ষা করো। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি — দেখব আল্লাহ আমাদের মধ্যে কার সত্যতা প্রকাশ করেন এবং কার উপর তাঁর শাস্তি নাযিল হয়।" অর্থাৎ, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের হুমকি দিচ্ছেন যে, আল্লাহর ফয়সালা আসবেই — সত্যের পক্ষে এবং মিথ্যার বিপক্ষে।
### শিক্ষণীয় বিষয়:
আল্লাহর ইচ্ছা ও জ্ঞানের কাছে সবকিছু সমর্পিত — নিদর্শন বা মু’জিযা নাযিল করাও তাঁর ইচ্ছাধীন, মানুষের দাবির ওপর নির্ভরশীল নয়।
অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই আছে — তাই মানুষের উচিত আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা।
সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য আল্লাহ নিজেই প্রকাশ করবেন — তাই সত্যের পথে অটল থাকা এবং মিথ্যার পরিণামের অপেক্ষা করা ঈমানদারের কাজ।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ধৈর্য ও দৃঢ়তা আমাদের জন্য শিক্ষা — প্রতিপক্ষের উস্কানিতে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।
এই আয়াত মুমিনদের মনে এই আশা জাগায় যে, আল্লাহ সর্বদা সত্যের পক্ষে আছেন এবং তিনি কখনো বান্দাদের নিরাশ করেন না — তাই ধৈর্য ধরে তাঁর সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা আমাদের কর্তব্য।
আর উপাসনা করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর, যা না তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে, না লাভ এবং বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। তুমি বল, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ে অবহিত করছ, যে সম্পর্কে তিনি অবহিত নন আসমান ও যমীনের মাঝে ? তিনি পুতঃপবিত্র ও মহান সে সমস্ত থেকে যাকে তোমরা শরীক করছ।
আর সমস্ত মানুষ একই উম্মতভুক্ত ছিল, পরে পৃথক হয়ে গেছে। আর একটি কথা যদি তোমার পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পূর্ব নির্ধারিত না হয়ে যেত; তবে তারা যে বিষয়ে বিরোধ করছে তার মীমাংসা হয়ে যেত।
বস্তুতঃ তারা বলে, তাঁর কাছে তাঁর পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ এল না কেন? বলে দাও গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। আমি ও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।
আর যখন আমি আস্বাদন করাই স্বীয় রহমত সে কষ্টের পর, যা তাদের ভোগ করতে হয়েছিল, তখনই তারা আমার শক্তিমত্তার মাঝে নানা রকম ছলনা তৈরী করতে আরম্ভ করবে। আপনি বলে দিন, আল্লাহ সবচেয়ে দ্রুত কলা-কৌশল তৈরী করতে পারেন। নিশ্চয়ই আমাদের ফেরেশতারা লিখে রাখে তোমাদের ছল-চাতুরী।
তিনিই তোমাদের ভ্রমন করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর এবাদতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।