Wa qaala Mosaa Rabbanaaa innaka aataita Fir`awna wa mala ahoo zeenatanw wa amwaalan fil hayaatid dunyaa Rabbanaa liyudillo `ansabeelika Rabbanat mis `alaaa amwaalihim washdud `alaa quloobihim falaa yu`minoo hatta yarawul `azaabal aleem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
মূসা বলল, হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি ফেরাউনকে এবং তার সর্দারদেরকে পার্থব জীবনের আড়ম্বর দান করেছ, এবং সম্পদ দান করেছ-হে আমার পরওয়ারদেগার, এ জন্যই যে তারা তোমার পথ থেকে বিপথগামী করব! হে আমার পরওয়ারদেগার, তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের অন্তরগুলোকে কাঠোর করে দাও যাতে করে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান না আনে যতক্ষণ না বেদনাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করে নেয়।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और मूसा ने अर्ज़ की ऐ हमारे पालने वाले तूने फिरऔन और उसके सरदारों को दुनिया की ज़िन्दगी में (बड़ी) आराइश और दौलत दे रखी है (क्या तूने ये सामान इस लिए अता किया है) ताकि ये लोग तेरे रास्तें से लोगों को बहकाएं परवरदिगार तू उनके माल (दौलत) को ग़ारत (बरबाद) कर दे और उनके दिलों पर सख्ती कर (क्योंकि) जब तक ये लोग तकलीफ देह अज़ाब न देख लेगें ईमान न लाएगें
মূসা বলল, হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি ফেরাউনকে এবং তার সর্দারদেরকে পার্থব জীবনের আড়ম্বর দান করেছ, এবং সম্পদ দান করেছ-হে আমার পরওয়ারদেগার, এ জন্যই যে তারা তোমার পথ থেকে বিপথগামী করব! হে আমার পরওয়ারদেগার, তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের অন্তরগুলোকে কাঠোর করে দাও যাতে করে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান না আনে যতক্ষণ না বেদনাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করে নেয়।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
زِينَةً — সৌন্দর্য, জাঁকজমক, দুনিয়ার চাকচিক্য ও ভোগ্যসামগ্রী।
مَلَأَهُ — তার (ফিরআউনের) সভাসদ ও নেতৃস্থানীয় সম্প্রদায়।
اطْمِسْ — নিশ্চিহ্ন করে দাও, বরকত ও উপকারিতা তুলে নাও, ধ্বংস করে দাও।
اشْدُدْ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ — তাদের অন্তরকে কঠোর ও শক্ত বানিয়ে দাও, যেন তাতে ঈমান প্রবেশ করতে না পারে।
الْعَذَابَ الْأَلِيمَ — যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
মূসা (আঃ) যখন দেখলেন যে, ফিরআউন ও তার সভাসদরা আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত ও সম্পদকে শুকরিয়া আদায়ের পরিবর্তে সত্য পথ থেকে মানুষকে বিচ্যুত করার কাজে ব্যবহার করছে, তখন তিনি আল্লাহর দরবারে এভাবে দু‘আ করলেন: “হে আমাদের রব! আপনি তো ফিরআউন ও তার নেতৃস্থানীয় সম্প্রদায়কে দুনিয়ার জীবনে বিপুল সৌন্দর্য, জাঁকজমক, ধন-সম্পদ ও ভোগ্যসামগ্রী দান করেছেন। কিন্তু তারা এসব নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি; বরং তা দিয়ে মানুষকে আপনার সঠিক পথ থেকে গোমরাহ করার চেষ্টা করছে। হে আমাদের রব! আপনি তাদের সম্পদকে নিষ্ক্রিয় ও নিশ্চিহ্ন করে দিন, যেন তারা তা দ্বারা কোনো উপকার না পায়। আর তাদের অন্তরকে এমন কঠোর করে দিন যে, তাতে ঈমানের আলো প্রবেশ করতে না পারে। ফলে তারা সে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি (সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু) না দেখা পর্যন্ত ঈমান আনবে না।”
মূসা (আঃ) আগে তাদের জন্য হিদায়াতের দু‘আ করেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাদেরকে সত্য পথে আহ্বান করেছেন। কিন্তু যখন তিনি দৃঢ়ভাবে জানতে পারলেন যে, তাদের ভাগ্যে ঈমান লেখা নেই এবং তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করার আগ পর্যন্ত কখনো ঈমান আনবে না, তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদদু‘আ করেন। এটি ছিল আল্লাহর নির্দেশ ও ইলহাম অনুযায়ী, কারণ আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)-কে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ফিরআউন ও তার সম্প্রদায় ঈমান আনবে না।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
নেয়ামত ও সম্পদ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষাস্বরূপ। যে ব্যক্তি তা দিয়ে আল্লাহর অবাধ্যতা ও মানুষের ক্ষতি করে, তার জন্য তা শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নবীগণ যখন দেখতেন যে, কোনো সম্প্রদায়ের ঈমান আনা সম্পূর্ণ অসম্ভব এবং তারা সত্যকে মেনে নেবে না, তখন তারা তাদের বিরুদ্ধে বদদু‘আ করতেন। এটি ছিল আল্লাহর ইচ্ছা ও জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে।
দুনিয়ার ধন-সম্পদ ও বাহ্যিক সৌন্দর্য কাউকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে না। ফিরআউনের বিশাল সাম্রাজ্য ও ঐশ্বর্যও তার কোনো কাজে আসেনি।
অন্তর কঠোর হওয়া একটি বড় শাস্তি। যখন মানুষ সত্য গ্রহণে অহংকার করে, তখন আল্লাহ তার অন্তরকে সত্য গ্রহণের অনুপযোগী করে দেন।
দাওয়াতের কাজে ধৈর্য ধারণ করতে হবে, কিন্তু যখন নিশ্চিত হয়ে যায় যে, কোনো সম্প্রদায় সত্য গ্রহণ করবে না, তখন তাদের জন্য বদদু‘আ করাও জায়েয।
আল্লাহর নবীগণ উম্মতের জন্য রহমতস্বরূপ, কিন্তু যারা সত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, তাদের জন্য নবীগণের দু‘আও শাস্তি বয়ে আনে।
আর আমি নির্দেশ পাঠালাম মূসা এবং তার ভাইয়ের প্রতি যে, তোমরা তোমাদের জাতির জন্য মিসরের মাটিতে বাস স্থান নির্ধারণ কর। আর তোমাদের ঘরগুলো বানাবে কেবলামুখী করে এবং নামায কায়েম কর আর যারা ঈমানদার তাদেরকে সুসংবাদ দান কর।
মূসা বলল, হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি ফেরাউনকে এবং তার সর্দারদেরকে পার্থব জীবনের আড়ম্বর দান করেছ, এবং সম্পদ দান করেছ-হে আমার পরওয়ারদেগার, এ জন্যই যে তারা তোমার পথ থেকে বিপথগামী করব! হে আমার পরওয়ারদেগার, তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের অন্তরগুলোকে কাঠোর করে দাও যাতে করে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান না আনে যতক্ষণ না বেদনাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করে নেয়।
আর বনী-ইসরাঈলকে আমি পার করে দিয়েছি নদী। তারপর তাদের পশ্চাদ্ধাবন করেছে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী, দুরাচার ও বাড়াবাড়ির উদ্দেশে। এমনকি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করল, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি যে, কোন মা’বুদ নেই তাঁকে ছাড়া যাঁর উপর ঈমান এনেছে বনী-ইসরাঈলরা। বস্তুতঃ আমিও তাঁরই অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।