سَبِيلَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ – তাদের পথ, যারা (আল্লাহর হুকুম ও ওয়াদা সম্পর্কে) জানে না।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা মুসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাম) উভয়কে সম্বোধন করে বললেন, “তোমাদের দুজনের দো‘আ কবুল করা হয়েছে।” যদিও দো‘আটি করেছিলেন মুসা (আ.) এবং হারুন (আ.) তার উপর ‘আমীন’ বলেছিলেন, কিন্তু ‘আমীন’ বলাও একটি দো‘আ। তাই উভয়ের দিক থেকেই দো‘আটি সম্পন্ন হওয়ায় আল্লাহ তা‘আলা উভয়ের প্রতি দো‘আ কবুলের কথা উল্লেখ করেছেন। এই দো‘আটি ছিল ফির‘আউন, তার সর্দার ও তাদের ধন-সম্পদের বিরুদ্ধে — যেন তারা ধ্বংস হয় এবং তাদের উপর কঠিন শাস্তি নেমে আসে।
এরপর আল্লাহ তাদের উভয়কে নির্দেশ দিলেন, “তোমরা উভয়ে তোমাদের দ্বীনের উপর অবিচল থাকো, দৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত থাকো। তোমাদের রিসালাতের কাজ চালিয়ে যাও — ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায়কে তাওহীদের দিকে এবং আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ডাকতে থাকো। আর তোমরা তাদের পথ অনুসরণ করো না, যারা আল্লাহর সত্য প্রতিশ্রুতি ও ভয়াবহ শাস্তি সম্পর্কে জানে না — অর্থাৎ অজ্ঞ ও মূর্খদের পথ থেকে বিরত থাকো। কারণ অজ্ঞরা সঠিক পথ জানে না, তাদের অনুসরণ করলে পথভ্রষ্টতা ছাড়া কিছুই পাওয়া যাবে না।”
শিক্ষা ও উপদেশ:
নবী-রাসূলগণের দো‘আ আল্লাহর দরবারে কবুল হয়, বিশেষত যখন তারা উম্মতের হিদায়াতের জন্য দো‘আ করেন। এটি মুমিনদের জন্য আশার বার্তা যে, আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদের দো‘আ ফিরিয়ে দেন না।
দো‘আয় ‘আমীন’ বলাও একটি দো‘আ। তাই জামা‘আতে দো‘আ করলে সবাই অংশীদার হয় এবং দো‘আ কবুলের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
দো‘আ কবুল হওয়ার পরও ধৈর্য ও অবিচলতা প্রয়োজন। কারণ আল্লাহর সাহায্য তাঁর নিজের নির্ধারিত সময়েই আসে। তাই মুমিনের কর্তব্য — দো‘আর পরও দ্বীনের উপর অটল থাকা এবং সৎকাজে অবিরত থাকা।
অজ্ঞ ও মূর্খদের পথ অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। জ্ঞান ও সত্যের আলোকে চলা মুমিনের বৈশিষ্ট্য, আর অজ্ঞতা ও ভ্রান্ত পথের অনুসরণ ধ্বংসের কারণ।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি — নেতা ও দায়িত্বশীলদের উচিত নিজেদের কাজে দৃঢ় থাকা এবং জ্ঞানী ও সত্যনিষ্ঠদের পরামর্শ অনুযায়ী চলা, যাতে উম্মত সঠিক পথে পরিচালিত হয়।
আর আমি নির্দেশ পাঠালাম মূসা এবং তার ভাইয়ের প্রতি যে, তোমরা তোমাদের জাতির জন্য মিসরের মাটিতে বাস স্থান নির্ধারণ কর। আর তোমাদের ঘরগুলো বানাবে কেবলামুখী করে এবং নামায কায়েম কর আর যারা ঈমানদার তাদেরকে সুসংবাদ দান কর।
মূসা বলল, হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি ফেরাউনকে এবং তার সর্দারদেরকে পার্থব জীবনের আড়ম্বর দান করেছ, এবং সম্পদ দান করেছ-হে আমার পরওয়ারদেগার, এ জন্যই যে তারা তোমার পথ থেকে বিপথগামী করব! হে আমার পরওয়ারদেগার, তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের অন্তরগুলোকে কাঠোর করে দাও যাতে করে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান না আনে যতক্ষণ না বেদনাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করে নেয়।
আর বনী-ইসরাঈলকে আমি পার করে দিয়েছি নদী। তারপর তাদের পশ্চাদ্ধাবন করেছে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী, দুরাচার ও বাড়াবাড়ির উদ্দেশে। এমনকি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করল, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি যে, কোন মা’বুদ নেই তাঁকে ছাড়া যাঁর উপর ঈমান এনেছে বনী-ইসরাঈলরা। বস্তুতঃ আমিও তাঁরই অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।