শোয়ায়েব (আঃ) বলেন-হে আমার জাতি, আমার ভাই বন্ধুরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে প্রভাবশালী? আর তোমরা তাকে বিস্মৃত হয়ে পেছনে ফেলে রেখেছ, নিশ্চয় তোমাদের কার্যকলাপ আমার পালনকর্তার আয়ত্তে রয়েছে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
शुएब ने कहा ऐ मेरी क़ौम क्या मेरे कबीले का दबाव तुम पर ख़ुदा से भी बढ़ कर है (कि तुम को उसका ये ख्याल) और ख़ुदा को तुम लोगों ने अपने वास्ते पीछे डाल दिया है बेशक मेरा परवरदिगार तुम्हारे सब आमाल पर अहाता किए हुए है
أَعَزُّ — অধিক সম্মানিত, অধিক শক্তিশালী, অধিক ভয়ংকর।
ظِهْرِيًّا — পিছনে ফেলে দেওয়া, উপেক্ষা করা, গুরুত্ব না দেওয়া।
مُحِيطٌ — পরিবেষ্টনকারী, সম্পূর্ণ জ্ঞানী, সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
হযরত শুআইব (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বললেন: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কি আমার আত্মীয়-স্বজন ও গোত্রকে আল্লাহর চেয়ে বেশি সম্মান ও ভয় করো? তোমরা কি আমার গোত্রের ভয়ে আমার কথা শুনছো এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে পিছনে ফেলে দিয়েছো? তোমরা আল্লাহর নির্দেশকে এমনভাবে অবহেলা করেছো যেন তা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই নয়। অথচ আল্লাহই তোমাদের স্রষ্টা, রিজিকদাতা এবং প্রকৃত মালিক।
তোমরা আমার প্রতি সম্মান দেখাও, কিন্তু আল্লাহকে সম্পূর্ণ ভুলে গেছো। আল্লাহর আদেশ-নিষেধকে তোমরা পিছনে ফেলে রেখেছো, তাঁর নবীর কথা মানতে অস্বীকার করছো। মনে রেখো, আমার রব তোমাদের সকল কাজ-কর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তাঁর জ্ঞান থেকে তোমাদের কোনো কাজ, কোনো কথা, এমনকি তোমাদের অন্তরের গোপন বিষয়ও লুকানো নেই। তিনি তোমাদের প্রতিটি কাজকে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং তোমাদের সকল কর্মের হিসাব নেবেন। তোমরা যদি এই পথে চলতে থাকো, তবে তোমাদেরকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে — দুনিয়াতেও এবং আখিরাতেও।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর আদেশ-নিষেধকে কখনো উপেক্ষা করা উচিত নয়। মানুষের ভয় বা সম্মান যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহর নির্দেশের সামনে তা গুরুত্বহীন।
আল্লাহর জ্ঞান সর্বব্যাপী। তিনি আমাদের প্রতিটি কাজ, কথা এবং চিন্তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। এই বিশ্বাস আমাদেরকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।
আত্মীয়-স্বজন বা গোত্রের ভয়ে সত্য কথা বলতে সংকোচ করা উচিত নয়। সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকলে আল্লাহর সাহায্য আমাদের সাথে থাকে।
যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে মানুষের ভয়কে প্রাধান্য দেয়, তারা আসলে নিজেদের ক্ষতিই করে। আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দ্বীনের ব্যাপারে আপোষ করা যায় না। সমাজের চাপ বা পারিবারিক সম্পর্কের কারণে সত্য গোপন করা বা অন্যায়কে সমর্থন করা কোনো মুমিনের কাজ নয়।
শোয়ায়েব (আঃ) বলেন-হে আমার জাতি, আমার ভাই বন্ধুরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে প্রভাবশালী? আর তোমরা তাকে বিস্মৃত হয়ে পেছনে ফেলে রেখেছ, নিশ্চয় তোমাদের কার্যকলাপ আমার পালনকর্তার আয়ত্তে রয়েছে।
তারা বলল-হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনি যা বলেছেন তার অনেক কথাই আমরা বুঝি নাই, আমারা তো আপনাকে আমাদের মধ্যে দূর্বল ব্যক্তি রূপে মনে করি। আপনার ভাই বন্ধুরা না থাকলে আমরা আপনাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতাম। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি কোন মর্যাদাবান ব্যক্তি নন।
শোয়ায়েব (আঃ) বলেন-হে আমার জাতি, আমার ভাই বন্ধুরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে প্রভাবশালী? আর তোমরা তাকে বিস্মৃত হয়ে পেছনে ফেলে রেখেছ, নিশ্চয় তোমাদের কার্যকলাপ আমার পালনকর্তার আয়ত্তে রয়েছে।
আর হে আমার জাতি, তোমরা নিজ স্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করছি, অচিরেই জানতে পারবে কার উপর অপমানকর আযাব আসে আর কে মিথ্যাবাদী? আর তোমরাও অপেক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।
আর আমার হুকুম যখন এল, আমি শোয়ায়েব (আঃ) ও তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণকে নিজ রহমতে রক্ষা করি আর পাপিষ্ঠদের উপর বিকট গর্জন পতিত হলো। ফলে ভোর না হতেই তারা নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।