Wa yawma nab`asu fee kulli ummmatin shaheedan `alaihim min anfusihim wa ji`naa bika shaheedan `alaa haaa`ulaaa`; wa nazzalnaa `alaikal Kitaaba tibyaanal likulli shai`inw wa hudanw wa rahmatanw wa bushraa lilmuslimeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব। আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और वह दिन याद करो जिस दिन हम हर एक गिरोह में से उन्हीं में का एक गवाह उनके मुक़ाबिल ला खड़ा करेगें और (ऐ रसूल) तुम को उन लोगों पर (उनके) सामने गवाह बनाकर ला खड़ा करेंगें और हमने तुम पर किताब (क़ुरान) नाज़िल की जिसमें हर चीज़ का (शाफी) बयान है और मुसलमानों के लिए (सरमापा) हिदायत और रहमत और खुशख़बरी है
সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব। আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
شَهِيدًا – সাক্ষী, যে ব্যক্তি প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে সাক্ষ্য দেবে।
مِّنْ أَنفُسِهِمْ – তাদের নিজেদের মধ্য থেকে, অর্থাৎ তাদেরই সম্প্রদায়ের একজন।
تِبْيَانًا – সবকিছু স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার জন্য, যা কিছু মানুষের জানা প্রয়োজন তার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা।
هُدًى – পথপ্রদর্শন, সত্য পথের দিশা।
رَحْمَةً – দয়া, করুণা, যা বান্দাদের জন্য আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।
بُشْرَى – সুসংবাদ, আনন্দের খবর।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে প্রিয় নবী! আপনি স্মরণ করুন সেই ভয়ংকর দিনটিকে, যখন আমি প্রতিটি উম্মতের মধ্যে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব, যিনি তাদের উপর সাক্ষ্য দেবেন—তারা সত্যে ছিল নাকি মিথ্যায়, তারা আল্লাহর নির্দেশ মান্য করেছে নাকি অমান্য করেছে। এই সাক্ষী হবেন তাদেরই সম্প্রদায়ের একজন নবী, যিনি তাদের ভাষায় কথা বলতেন এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন। আর হে মুহাম্মাদ! আমি আপনাকে উপস্থিত করব আপনার উম্মতের উপর সাক্ষী হিসেবে, যিনি তাদের সকল আমলের সাক্ষ্য দেবেন। এরপর আল্লাহ বলেন, আমি আপনার উপর কুরআন নাযিল করেছি, যা প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা বহন করে—হালাল-হারাম, আদেশ-নিষেধ, প্রতিদান-শাস্তি, ভালো-মন্দ, দুনিয়া ও আখিরাতের সকল প্রয়োজনীয় জ্ঞানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ। এটি এমন একটি কিতাব যা মানুষকে পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়াতের দিকে নিয়ে যায়, যারা এর উপর ঈমান আনে এবং আমল করে তাদের জন্য রহমত হয়ে আসে, আর মুসলিমদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ বহন করে। যারা আল্লাহর আনুগত্য করে এবং এই কিতাবকে জীবনবিধান হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী সাফল্যের শুভবার্তা।
ফায়দা (শিক্ষা ও উপদেশ):
প্রতিটি উম্মতের জন্য তাদের নিজস্ব নবী সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হবেন, যা প্রমাণ করে যে আল্লাহ কাউকে অজ্ঞতার অজুহাতে ছাড় দেবেন না—প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের ভাষায় রাসূল পাঠানো হয়েছে।
কুরআন এমন একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব, যাতে মানুষের প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়ের সমাধান রয়েছে; তাই মুসলিমের উচিত জীবনের সকল সমস্যার সমাধান কুরআন থেকেই খোঁজা।
কুরআন শুধু পড়ার জন্য নয়, বরং তা হেদায়াতের আলো, রহমতের বৃষ্টি এবং জান্নাতের সুসংবাদ—যে এটাকে আঁকড়ে ধরবে, সে দুনিয়াতেও সফল হবে, আখিরাতেও।
এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কিয়ামতের দিন আমাদের সকল আমলের হিসাব হবে, তাই আজ থেকেই নিজেকে সংশোধন করা এবং কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গঠন করা অপরিহার্য।
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা—যার কোনো দিকই অসম্পূর্ণ নয়; প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্য কুরআনে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব। আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ।
আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্নীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।
আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সে অঙ্গীকার পূর্ণ কর এবং পাকাপাকি কসম করার পর তা ভঙ্গ করো না, অথচ তোমরা আল্লাহকে জামিন করেছ। তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।