অতঃপর যখন প্রতিশ্রুতি সেই প্রথম সময়টি এল, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে। অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচে-কানাচে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
फिर जब उन दो फसादों में पहले का वक्त अा पहुँचा तो हमने तुम पर कुछ अपने बन्दों (नजतुलनस्र) और उसकी फौज को मुसल्लत (ग़ालिब) कर दिया जो बड़े सख्त लड़ने वाले थे तो वह लोग तुम्हारे घरों के अन्दर घुसे (और खूब क़त्ल व ग़ारत किया) और ख़ुदा के अज़ाब का वायदा जो पूरा होकर रहा
🎧 শুনুন
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
بَعَثْنَا – আমরা পাঠিয়েছিলাম / নিয়োগ করেছিলাম।
أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ – প্রবল শক্তি ও বীরত্বের অধিকারী।
فَجَاسُوا – তারা তল্লাশি চালিয়েছিল, সর্বত্র বিচরণ করেছিল।
وَعْدًا مَّفْعُولًا – এমন প্রতিশ্রুতি যা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
বনী ইসরাঈল যখন প্রথমবারের মতো পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল এবং আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে সীমালঙ্ঘন করেছিল, তখন আল্লাহ তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। এই আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করছেন যে, যখন তাদের প্রথম অপরাধের শাস্তি দেওয়ার সময় নির্ধারিত হলো, তখন আল্লাহ তাদের উপর এমন বান্দাদের পাঠালেন যারা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী, বীরত্বপূর্ণ ও কঠোর যোদ্ধা। তারা বনী ইসরাঈলের উপর আক্রমণ চালিয়ে তাদেরকে পরাজিত করল, হত্যা করল এবং তাদের ঘর-বাড়িতে প্রবেশ করে সর্বত্র তল্লাশি চালিয়ে তাদেরকে লাঞ্ছিত করল। তারা জনপদের ভেতরে প্রবেশ করে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল। এটি ছিল আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতি, যা বাস্তবায়িত হওয়া ছিল অবশ্যম্ভাবী—কারণ বনী ইসরাঈল নিজেরাই তাদের কর্ম দিয়ে এই শাস্তি নিজেদের উপর ডেকে এনেছিল। আল্লাহর এই প্রতিশ্রুতি এমনভাবে পূর্ণ হলো যে, তাতে কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর শাস্তি অবশ্যম্ভাবী—যখন কোনো জাতি সীমালঙ্ঘন করে এবং আল্লাহর বিধান অমান্য করে, তখন আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেন, যদিও তা কিছু সময়ের জন্য বিলম্বিত হয়।
আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কখনো ভঙ্গ হয় না—তিনি যা ওয়াদা করেন, তা অবশ্যই পূরণ করেন, হয়তো ভালোভাবে অথবা শাস্তির মাধ্যমে।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টি করা, আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করা এবং নবী-রাসূলদের শিক্ষা অমান্য করা একটি জাতির পতনের মূল কারণ।
আল্লাহর শক্তি ও ক্ষমতা অপরিসীম—তিনি যাকে ইচ্ছা শক্তিশালী করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন। তাই আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর নাফরমানি থেকে বিরত থাকা।
এই আয়াত আমাদেরকে সতর্ক করে যে, আমরা যদি আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করি এবং অহংকার ও সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত হই, তবে আমাদের উপরও আল্লাহর শাস্তি নেমে আসতে পারে। তাই আমাদের উচিত বিনয়ী হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
অতঃপর যখন প্রতিশ্রুতি সেই প্রথম সময়টি এল, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে। অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচে-কানাচে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল।
অতঃপর যখন প্রতিশ্রুতি সেই প্রথম সময়টি এল, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে। অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচে-কানাচে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল।
অতঃপর আমি তোমাদের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে পালা ঘুয়িয়ে দিলাম, তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও পুত্রসন্তান দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে একটা বিরাট বাহিনীতে পরিণত করলাম।
তোমরা যদি ভাল কর, তবে নিজেদেরই ভাল করবে এবং যদি মন্দ কর তবে তাও নিজেদের জন্যেই। এরপর যখন দ্বিতীয় সে সময়টি এল, তখন অন্য বান্দাদেরকে প্রেরণ করলাম, যাতে তোমাদের মুখমন্ডল বিকৃত করে দেয়, আর মসজিদে ঢুকে পড়ে যেমন প্রথমবার ঢুকেছিল এবং যেখানেই জয়ী হয়, সেখানেই পুরোপুরি ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।