আল-বাকারা · 166/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتُّبِعُوا مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الْأَسْبَابُ ۝١٦٦
Iz tabarra al lazeenat tubi`oo minal lazeenattaba`oo wa ra awul `azaaba wa taqatta`at bihimul asbaab
📖 বাংলা অর্থ
অনুসৃতরা যখন অনুসরণকারীদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যাবে এবং যখন আযাব প্রত্যক্ষ করবে আর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে তাদের পারস্পরিক সমস্ত সম্পর্ক।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ ব্যাখ্যা:

  • تَبَرَّأَ – সম্পর্ক ছিন্ন করা, দায়মুক্ত হওয়া, নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করা।
  • الَّذِينَ اتُّبِعُوا – যাদের অনুসরণ করা হয়েছিল (অর্থাৎ নেতা, পীর, সরদার বা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করা হতো)।
  • الَّذِينَ اتَّبَعُوا – যারা অনুসরণ করেছিল (অর্থাৎ সাধারণ অনুসারীরা)।
  • تَقَطَّعَتْ – ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
  • الْأَسْبَابُ – সম্পর্ক, বন্ধন, মাধ্যম, উপকরণ (যেমন আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব, পারস্পরিক ভালোবাসা, এবং সেই সব উপায় যা দিয়ে তারা পরস্পর সংযুক্ত ছিল)।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দৃশ্য বর্ণনা করছেন, যখন পথভ্রষ্ট নেতা ও পীর-মুর্শিদরা তাদের অনুসারীদের থেকে সম্পূর্ণরূপে নিজেদের দায়মুক্ত ঘোষণা করবে। তারা যখন আযাবের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করবে — জাহান্নামের আগুন, শাস্তির কঠোরতা — তখন তারা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে নিজেদের রক্ষার জন্য অনুসারীদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তারা বলবে: “আমরা তোমাদের কিছুই জানতাম না, তোমরা নিজেরাই নিজেদের পথ হারিয়েছিলে।”

সেই দিন দুনিয়ার সকল সম্পর্ক — আত্মীয়তার বন্ধন, বন্ধুত্বের সম্পর্ক, পারস্পরিক ভালোবাসা, এমনকি ধর্মীয় সম্পর্কও — সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে যাবে। দুনিয়ায় যারা একে অপরকে ভালোবাসত, একে অপরের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করত, সেই দিন তারা পরস্পরের শত্রু হয়ে যাবে। যে সম্পর্কগুলো তারা দুনিয়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করত, সেই সম্পর্কগুলোই তাদের কোনো কাজে আসবে না। বরং সেই সম্পর্কগুলো তাদের জন্য আফসোস ও অনুতাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এই আয়াত আমাদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবাণী। আমাদের উচিত সেই সম্পর্কগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উপর প্রতিষ্ঠিত, আর সেই সম্পর্কগুলো থেকে দূরে থাকা যা আল্লাহকে ভুলিয়ে দেয়। কারণ কিয়ামতের দিন শুধুমাত্র ঈমান ও আমলই আমাদের রক্ষা করবে, দুনিয়ার কোনো সম্পর্ক বা বন্ধন আমাদের কোনো উপকারে আসবে না।


দাওয়াতী দৃষ্টিভঙ্গি:

প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! এই আয়াত আমাদেরকে গভীরভাবে চিন্তা করতে শেখায়। আমরা যদি দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষকে অনুসরণ করি যারা আমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে কিয়ামতের দিন সেই মানুষগুলোই আমাদেরকে অস্বীকার করবে এবং আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবে। তাই আমাদের উচিত সেই পথ অনুসরণ করা যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ দেখিয়ে গেছেন। আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহই আমাদের একমাত্র নিরাপদ পথ। এই পথ অনুসরণ করলে আমরা দুনিয়াতেও শান্তি পাব এবং আখিরাতেও সফল হব। আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক পথের অনুসারী বানান। আমীন।



📜 আয়াত 164-168 — সূরা আল-বাকারা

164إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِن مَّاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ
নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা’ আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে।
165وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ ۖ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِ ۗ وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا وَأَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ
আর কোন লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী। আর কতইনা উত্তম হ’ত যদি এ জালেমরা পার্থিব কোন কোন আযাব প্রত্যক্ষ করেই উপলব্ধি করে নিত যে, যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর আযাবই সবচেয়ে কঠিনতর।
166إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتُّبِعُوا مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الْأَسْبَابُ
অনুসৃতরা যখন অনুসরণকারীদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যাবে এবং যখন আযাব প্রত্যক্ষ করবে আর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে তাদের পারস্পরিক সমস্ত সম্পর্ক।
167وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا مِنَّا ۗ كَذَٰلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ ۖ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ
এবং অনুসারীরা বলবে, কতইনা ভাল হত, যদি আমাদিগকে পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হত। তাহলে আমরাও তাদের প্রতি তেমনি অসন্তুষ্ট হয়ে যেতাম, যেমন তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে আমাদের প্রতি। এভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে দেখাবেন তাদের কৃতকর্ম তাদেরকে অনুতপ্ত করার জন্যে। অথচ, তারা কস্মিনকালেও আগুন থেকে বের হতে পারবে না।
168يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীRevelation
166আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 166

সূরা আল-বাকারা আয়াত 166 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অনুসৃতরা যখন অনুসরণকারীদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যাবে এবং যখন আযাব…

সূরা আয়াত 166/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 164–168. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না