আর যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা তোমাদেরই ক্ষতিসাধন করেছ এই গোবৎস নির্মাণ করে। কাজেই এখন তওবা কর স্বীয় স্রষ্টার প্রতি এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর তোমাদের স্রষ্টার নিকট। তারপর তোমাদের প্রতি লক্ষ্য করা হল। নিঃসন্দেহে তিনিই ক্ষমাকারী, অত্যন্ত মেহেরবান।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (वह वक्त भी याद करो) जब मूसा ने अपनी क़ौम से कहा कि ऐ मेरी क़ौम तुमने बछड़े को (ख़ुदा) बना के अपने ऊपर बड़ा सख्त जुल्म किया तो अब (इसके सिवा कोई चारा नहीं कि) तुम अपने ख़ालिक की बारगाह में तौबा करो और वह ये है कि अपने को क़त्ल कर डालो तुम्हारे परवरदिगार के नज़दीक तुम्हारे हक़ में यही बेहतर है, फिर जब तुमने ऐसा किया तो खुदा ने तुम्हारी तौबा क़ुबूल कर ली बेशक वह बड़ा मेहरबान माफ़ करने वाला है
আর যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা তোমাদেরই ক্ষতিসাধন করেছ এই গোবৎস নির্মাণ করে। কাজেই এখন তওবা কর স্বীয় স্রষ্টার প্রতি এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর তোমাদের স্রষ্টার নিকট। তারপর তোমাদের প্রতি লক্ষ্য করা হল। নিঃসন্দেহে তিনিই ক্ষমাকারী, অত্যন্ত মেহেরবান।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
بَارِئِكُمْ — তোমাদের স্রষ্টা (যিনি কিছুই না থেকে সৃষ্টি করেছেন)।
فَتُوبُوا — তোমরা তওবা করো (অর্থাৎ, ভুল পথ থেকে ফিরে আসো)।
فَاقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ — তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো (অর্থাৎ, নির্দোষরা অপরাধীদের হত্যা করবে)।
التَّوَّابُ — যে বান্দার তওবা কবুল করেন।
الرَّحِيمُ — অত্যন্ত দয়ালু।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন সেই সময়ের কথা, যখন মূসা (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন: “হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা গো-বৎস (সামিরি নির্মিত মূর্তি)কে উপাস্য বানিয়ে নিজেদের ওপর অত্যাচার করেছ। কারণ এ কাজটি ছিল শিরক, যা তোমাদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে এবং আল্লাহর ক্রোধের কারণ হয়েছে। তাই তোমাদের স্রষ্টার দিকে ফিরে আসতে হবে এবং তওবা করতে হবে। আর এই তওবার পদ্ধতি হলো—তোমাদের মধ্যে যারা নির্দোষ, তারা যেন অপরাধীদের হত্যা করে। এই কঠোর শাস্তি তোমাদের জন্য কল্যাণকর, কারণ এর মাধ্যমেই তোমাদের পাপ মোচন হবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে।”
বনী ইসরাঈল যখন এই আদেশ পালন করল, তখন আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করলেন এবং তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত তওবা কবুলকারী এবং বান্দাদের প্রতি পরম দয়ালু। তিনি যারা আন্তরিকভাবে তওবা করেন, তাদেরকে ক্ষমা করেন এবং তাদের ওপর রহমতের দরজা খুলে দেন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
শিরক বা গুনাহের কাজ মানুষের নিজেরই ক্ষতি করে, যদিও মনে হয় এটি অন্যকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত গুনাহ থেকে দূরে থাকা এবং দ্রুত তওবা করা।
তওবা কবুলের জন্য আন্তরিকতা এবং আল্লাহর আদেশ মেনে চলা অপরিহার্য। বনী ইসরাঈল কঠোর আদেশ পালন করেছিল বলেই তাদের তওবা কবুল হয়েছিল।
আল্লাহর রহমত অপরিসীম। বান্দা যত বড় গুনাহই করুক না কেন, যদি সে আন্তরিকভাবে তওবা করে, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি বিরাট অনুগ্রহ।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, আল্লাহর আদেশ পালনে কঠোরতা থাকতে পারে, কিন্তু এর পরিণাম কল্যাণকর। দুনিয়ার সাময়িক কষ্ট বা ত্যাগ আখিরাতের চিরন্তন মুক্তির চেয়ে ছোট।
মুমিনের জীবনে আল্লাহর স্মরণ এবং তাঁর আদেশ পালনের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা সর্বোচ্চ সাফল্য।
আর যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা তোমাদেরই ক্ষতিসাধন করেছ এই গোবৎস নির্মাণ করে। কাজেই এখন তওবা কর স্বীয় স্রষ্টার প্রতি এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর তোমাদের স্রষ্টার নিকট। তারপর তোমাদের প্রতি লক্ষ্য করা হল। নিঃসন্দেহে তিনিই ক্ষমাকারী, অত্যন্ত মেহেরবান।
আর যখন তোমরা বললে, হে মূসা, কস্মিনকালেও আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে (প্রকাশ্যে) দেখতে পাব। বস্তুতঃ তোমাদিগকে পাকড়াও করল বিদ্যুৎ। অথচ তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।