অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- فِيهِمَا (ফীহিমা): এই দুটির মধ্যে, অর্থাৎ আসমান ও জমিনের মধ্যে।
- آلِهَةٌ (আলিহাতুন): বহু উপাস্য, অনেক ইলাহ।
- لَفَسَدَتَا (লাফাসাদাতা): অবশ্যই উভয়টি ধ্বংস হয়ে যেত, বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ত।
- سُبْحَانَ (সুবহানা): পবিত্রতা ঘোষণা, সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত।
- الْعَرْشِ (আল-আরশ): মহান আরশ, যা আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
- يَصِفُونَ (ইয়াসিফূন): তারা বর্ণনা করে, তারা বলে থাকে।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ একটি দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলছেন, যদি আসমান ও জমিনের ব্যবস্থাপনায় আল্লাহ ছাড়া আরও কোনো উপাস্য বা ইলাহ থাকত, তাহলে এই বিশাল মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ত এবং সর্বত্র ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলা নেমে আসত। কারণ, যখন একাধিক শাসক বা ক্ষমতাধর থাকে, তখন তাদের মধ্যে মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব ও সংঘাত অনিবার্য। একজন যা চাইবে, অন্যজন তার বিপরীত চাইবে। ফলে কোনো কাজই সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে না। যেমনটি আমরা দেখি, এই বিশাল সৃষ্টিজগৎ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালিত হচ্ছে—সূর্য, চন্দ্র, তারা, গ্রহ-নক্ষত্র সবকিছু একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলছে। এই নিখুঁত ব্যবস্থাপনাই প্রমাণ করে যে, এর পরিচালক একক ও অদ্বিতীয়, তিনি হচ্ছেন আল্লাহ।
একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক: যদি একটি দেশের দুইজন রাজা থাকে, তবে তাদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব লেগেই থাকবে এবং দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। ঠিক তেমনি, এই পৃথিবী ও আকাশের যদি একাধিক মালিক থাকত, তবে তাদের মধ্যে টানাপোড়েনে সৃষ্টিজগৎ ধ্বংস হয়ে যেত। কিন্তু আমরা দেখছি, সবকিছু কত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে! এটি প্রমাণ করে, এর একক পরিচালক হচ্ছেন আল্লাহ।
এরপর আল্লাহ তাআলা নিজের পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। মুশরিকরা যখন আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে শরিক করে, তখন তারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা ও ভুল ধারণা পোষণ করে। তাই আল্লাহ বলছেন, তিনি আরশের মালিক, সমগ্র সৃষ্টিজগতের অধিপতি। মুশরিকরা তাঁর সম্পর্কে যা কিছু বলে, যা কিছু বর্ণনা করে—যেমন তাঁর সন্তান আছে, তাঁর অংশীদার আছে—সবকিছু থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র ও মুক্ত।
আমাদের জন্য শিক্ষণীয় দিক:
এই আয়াতটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা বহন করে। এটি আমাদের চিন্তা-ভাবনার আমন্ত্রণ জানায়। আমরা যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা করি, তাহলে দেখতে পাব—এই বিশাল মহাবিশ্বের প্রতিটি অণু-পরমাণু আমাদের এক আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে। এই নিখুঁত সৃষ্টি কখনো অন্ধ দৈবের ফল নয়, বরং এটি সেই মহান স্রষ্টারই কারিগরি, যিনি অদ্বিতীয়। তাই আমাদের উচিত শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করা, তাঁরই কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তাঁরই আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। যে ব্যক্তি এই সত্যকে উপলব্ধি করতে পারবে, সে-ই প্রকৃত সফলকাম। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই সত্য উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
📜 আয়াত 20-24 — সূরা আল-আম্বিয়া
অনুবাদ — আল-আম্বিয়া 22
সূরা আল-আম্বিয়া আয়াত 22 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যদি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য থাকত, তবে…সূরা আয়াত 22/112 — সূরা আল-আম্বিয়া الأنبياء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আম্বিয়া শুনুন, সূরা আল-আম্বিয়া অনুবাদ, সূরা আল-আম্বিয়া mp3, সূরা আল-আম্বিয়া pdf. আয়াত 20–24. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, September 8, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








