Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- فَذَرْهُمْ = তাদেরকে ছেড়ে দিন, তাদের অবস্থায় ছেড়ে দিন।
- غَمْرَتِهِمْ = তাদের বিভ্রান্তি, অজ্ঞতা, গাফলতি ও পাপাচারে নিমজ্জিত অবস্থা। (غمرة শব্দের মূল অর্থ হলো এমন পানি বা বন্যা যা মানুষকে সম্পূর্ণ ডুবিয়ে দেয়। এখানে образно তাদের কুফর, ভ্রষ্টতা ও অহংকারের গভীরতাকে বোঝানো হয়েছে।)
- حَتَّى حِينٍ = একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত, অর্থাৎ আযাব বা শাস্তি আসার সময় পর্যন্ত।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে নবী! এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে (ﷺ) সান্ত্বনা দিচ্ছেন এবং নির্দেশ দিচ্ছেন যে, যারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে, উপহাস করেছে এবং নিজেদের ভ্রষ্টতা ও অহংকারে ডুবে আছে, তাদেরকে তাদের সেই অবস্থায় ছেড়ে দিন। তাদের সাথে তর্ক-বিতর্ক বা তাদের সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। কারণ তাদের অন্তর সত্য গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
তারা নিজেদের অজ্ঞতা, গাফলতি এবং পাপাচারের এমন গভীর সাগরে নিমজ্জিত যে, সেখান থেকে তাদের বের হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাদের অবস্থা এমন যেন তারা প্লাবিত পানির নিচে তলিয়ে গেছে — তারা সত্য দেখতেও পাচ্ছে না, শুনতেও পাচ্ছে না, বুঝতেও পারছে না।
তাই তাদেরকে ছেড়ে দিন "حَتَّى حِينٍ" অর্থাৎ সেই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত, যখন তাদের উপর আল্লাহর আযাব নেমে আসবে। এটি হয় দুনিয়ার কোনো শাস্তি হতে পারে (যেমন বদরের যুদ্ধ) অথবা আখিরাতের কঠিন শাস্তি। তখন তারা বুঝতে পারবে যে, তারা কী ভুলের মধ্যে ছিল, কিন্তু তখন আর তা বুঝার কোনো মূল্য থাকবে না।
এই নির্দেশের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে (ﷺ) ধৈর্য ধারণ করতে এবং শুধুমাত্র দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন। হিদায়াত দেওয়া বা শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।
উপকারিতা ও শিক্ষা:
- দাওয়াতের দায়িত্ব শেষে চিন্তামুক্ত থাকা: দাওয়াতের কাজ হলো সত্য পৌঁছে দেওয়া। মানুষ তা গ্রহণ করবে কি না, তা আমাদের হাতে নয়। তাই কেউ সত্য না মানলে তার জন্য অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়।
- ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসা: নবী (ﷺ)-কে ধৈর্য ধরার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ আমাদেরও শিক্ষা দিচ্ছেন যে, অন্যায় ও ভ্রষ্টতা দেখে আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর বিচারের উপর ভরসা রাখতে হবে।
- অহংকার ও ভ্রষ্টতার পরিণাম: যারা সত্যের প্রতি অহংকার করে এবং নিজেদের ভুল পথে ডুবে থাকে, তাদের পরিণাম ভালো নয়। আল্লাহ তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন, কিন্তু শাস্তি অবশ্যম্ভাবী।
- সুযোগের মূল্যায়ন: এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর দেওয়া সময় ও সুযোগকে কাজে লাগানো উচিত। যে ব্যক্তি সুযোগ থাকতে সত্য গ্রহণ করে না, সে আফসোস ছাড়া আর কিছুই পাবে না।
- নবী (ﷺ)-এর প্রতি সান্ত্বনা: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাঁর নবীকে (ﷺ) কখনো একা ছেড়ে দেননি। প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি তাঁর নবীকে সান্ত্বনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন। এটি আমাদের বিশ্বাসকে মজবুত করে যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কখনো পরিত্যাগ করেন না।
📜 আয়াত 52-56 — সূরা আল-মুমিনুন
অনুবাদ — আল-মুমিনুন 54
সূরা আল-মুমিনুন আয়াত 54 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতএব তাদের কিছু কালের জন্যে তাদের অজ্ঞানতায় নিমজ্জত থাকতে দিন।সূরা আয়াত 54/118 — সূরা আল-মুমিনুন المؤمنون (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মুমিনুন শুনুন, সূরা আল-মুমিনুন অনুবাদ, সূরা আল-মুমিনুন mp3, সূরা আল-মুমিনুন pdf. আয়াত 52–56. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আল-মুমিনুন
পবিত্র কুরআন
Monday, September 28, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


