Wallaahu khalaqa kulla daaabbatim mim maaa`in faminhum mai yamshee `alaa batnihee wa minhum mai yamshee `alaa rijlaine wa minhum mai yamshee `alaaa arba`; yakhluqul laahu maa yashaaa`; innal laaha `alaa kulli shai`in Qadeer
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ প্রত্যেক চলন্ত জীবকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তাদের কতক বুকে ভয় দিয়ে চলে, কতক দুই পায়ে ভর দিয়ে চলে এবং কতক চার পায়ে ভর দিয়ে চলে; আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और ख़ुदा ही ने तमाम ज़मीन पर चलने वाले (जानवरों) को पानी से पैदा किया उनमें से बाज़ तो ऐसे हैं जो अपने पेट के बल चलते हैं और बाज़ उनमें से ऐसे हैं जो दो पाँव पर चलते हैं और बाज़ उनमें से ऐसे हैं जो चार पावों पर चलते हैं- ख़ुदा जो चाहता है पैदा करता है इसमें शक नहीं कि खुदा हर चीज़ पर क़ादिर है
আল্লাহ প্রত্যেক চলন্ত জীবকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তাদের কতক বুকে ভয় দিয়ে চলে, কতক দুই পায়ে ভর দিয়ে চলে এবং কতক চার পায়ে ভর দিয়ে চলে; আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
دَابَّةٍ — যে সমস্ত প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণ করে।
مِن مَّاءٍ — শুক্রবিন্দু (নutfah) থেকে; অর্থাৎ পানির উপাদান থেকে সৃষ্ট।
يَمْشِي عَلَىٰ بَطْنِهِ — পেটের উপর ভর করে হাঁটে (যেমন সাপ, কীট)।
عَلَىٰ رِجْلَيْنِ — দুই পায়ে হাঁটে (যেমন মানুষ, পাখি)।
عَلَىٰ أَرْبَعٍ — চার পায়ে হাঁটে (যেমন গবাদি পশু)।
قَدِيرٌ — সর্বশক্তিমান, যার ক্ষমতার কোনো সীমা নেই।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি প্রতিটি প্রাণীকে পানির মূল উপাদান থেকে সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ প্রতিটি জীবের সৃষ্টির শুরুতে পানি বা তরল পদার্থ (শুক্রবিন্দু) রয়েছে, যা তাঁরই সৃষ্টি। এরপর তিনি প্রাণীদের বিভিন্ন রূপ ও চলাফেরার পদ্ধতি দিয়েছেন—কাউকে পেটের উপর ভর করে চলার ক্ষমতা দিয়েছেন (যেমন সাপ, কেঁচো), কাউকে দুই পায়ে চলার ক্ষমতা দিয়েছেন (যেমন মানুষ, পাখি), আর কাউকে চার পায়ে চলার ক্ষমতা দিয়েছেন (যেমন গরু, ছাগল, ঘোড়া)। শুধু এতটুকুই নয়, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই সৃষ্টি করেন—তিনি এমন প্রাণীও সৃষ্টি করেছেন যাদের চলাফেরার ধরন উল্লিখিত শ্রেণিগুলোর মধ্যে পড়ে না, অথবা তিনি ভবিষ্যতে যা চাইবেন তা-ই সৃষ্টি করবেন। আল্লাহর ক্ষমতা অসীম; তাঁর জন্য কোনো কিছুই কঠিন নয়। তিনি যেমন চান, তেমনই সৃষ্টি করেন, আর তাঁর সৃষ্টির কোনো নমুনা বা উদাহরণ নেই।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
এই আয়াত থেকে আমরা আল্লাহর অসীম সৃষ্টিশক্তি ও জ্ঞানের পরিচয় পাই। তিনি যেভাবে চান, সেভাবেই প্রাণী সৃষ্টি করেন—এতে তাঁর কোনো বাধা নেই।
সৃষ্টির বৈচিত্র্য আমাদের জন্য চিন্তার খোরাক। প্রতিটি প্রাণীর গঠন, চলাফেরার ধরন এবং জীবনধারা আল্লাহর মহাজ্ঞান ও পরিকল্পনার প্রমাণ বহন করে। এতে করে মুমিনের ঈমান আরও দৃঢ় হয়।
আল্লাহর ক্ষমতার কথা স্মরণ করলে মানুষের মনে বিনয় আসে। আমরা বুঝতে পারি যে, আমরা তাঁরই সৃষ্টি, আমাদের অস্তিত্ব ও জীবন সম্পূর্ণ তাঁরই ইচ্ছাধীন।
এই আয়াত মানুষকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শেখায়। যিনি আমাদের সুন্দর গঠন দিয়েছেন, চলাফেরার ক্ষমতা দিয়েছেন, তাঁর প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রকাশ করা উচিত।
সৃষ্টির এই বৈচিত্র্য ইসলামের সত্যতার প্রমাণ। যিনি এত সুন্দরভাবে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তিনি অবশ্যই সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান—তিনি মৃত্যুর পর পুনরুত্থানও ঘটাতে সক্ষম। তাই আমাদের আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তাকে স্তরে স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি দেখ যে, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি আকাশস্থিত শিলাস্তুপ থেকে শিলাবর্ষণ করেন এবং তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা, তা অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। তার বিদ্যুৎঝলক দৃষ্টিশক্তি যেন বিলীন করে দিতে চায়।
আল্লাহ প্রত্যেক চলন্ত জীবকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তাদের কতক বুকে ভয় দিয়ে চলে, কতক দুই পায়ে ভর দিয়ে চলে এবং কতক চার পায়ে ভর দিয়ে চলে; আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।