আল-ফুরকান · 6/77
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ফুরকান
قُلْ أَنزَلَهُ الَّذِي يَعْلَمُ السِّرَّ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ إِنَّهُ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا ۝٦
Qul anzalhul lazee ya`lamus sirra fis samaawaati wal-ard; innahoo kaana Ghafoorar Raheemaa
📖 বাংলা অর্থ
বলুন, একে তিনিই অবতীর্ণ করেছেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য অবগত আছেন। তিনি ক্ষমাশীল, মেহেরবান।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • السِّرّ — গোপন বিষয়, যা কারো জানার আওতায় নেই।
  • غَفُورًا — অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
  • رَّحِيمًا — পরম দয়ালু, অসীম করুণাময়।

তাফসীর:

হে নবী! আপনি এই কাফিরদেরকে জবাবে বলুন, যারা কুরআনকে মিথ্যা ও মনগড়া কথা বলে অভিযুক্ত করছে — এই কুরআন এমন সত্তা নাজিল করেছেন যিনি আসমান ও জমিনের প্রতিটি গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তাঁর জ্ঞান থেকে লুকিয়ে থাকতে পারে না কোনো কিছু, না আসমানে, না জমিনে। তিনি সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা, তাদের অন্তরের গোপন intentions এবং তাদের প্রয়োজন সম্পর্কে জানেন। এই কুরআন কোনো মানুষের রচনা নয়, বরং এটি সেই সৃষ্টিকর্তার বাণী, যিনি সবকিছুর খবর রাখেন।

এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে তাওবার প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন — তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে শাস্তি দিতে তাড়াহুড়া করেন না; বরং তাদেরকে তাওবার সুযোগ দেন। যে কেউ তার গুনাহ থেকে ফিরে আসবে এবং ক্ষমা চাইবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন এবং তার প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন। তাঁর ক্ষমা ও দয়া এতই ব্যাপক যে, তিনি কাফিরদেরকেও তাওবার আহ্বান জানাচ্ছেন, যদিও তারা কুরআনকে মিথ্যা বলছে।

ফায়েদা বা শিক্ষণীয় বিষয়:

  1. আল্লাহর জ্ঞান সর্বব্যাপী — আসমান ও জমিনের কোনো গোপন বিষয়ই তাঁর অজানা নয়। এই বিশ্বাস মুমিনের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও বিনয় সৃষ্টি করে।
  2. কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত — এটি কোনো মানুষের রচনা নয়। এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
  3. আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া অপরিসীম। তিনি বান্দার গুনাহের জন্য তাড়াতাড়ি শাস্তি দেন না, বরং তাওবার দরজা খোলা রাখেন। এটি আল্লাহর রহমতের পরিচয়।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় — আমরা যত বড় গুনাহই করি না কেন, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়। তাওবা করলেই তিনি ক্ষমা করবেন।
  5. ইসলামের শিক্ষা হলো — মানুষের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করা এবং দয়া প্রদর্শন করা, যেমন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া দেখান।


📜 আয়াত 4-8 — আল-ফুরকান

4وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَٰذَا إِلَّا إِفْكٌ افْتَرَاهُ وَأَعَانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آخَرُونَ ۖ فَقَدْ جَاءُوا ظُلْمًا وَزُورًا
কাফেররা বলে, এটা মিথ্যা বৈ নয়, যা তিনি উদ্ভাবন করেছেন এবং অন্য লোকেরা তাঁকে সাহায্য করেছে। অবশ্যই তারা অবিচার ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।
5وَقَالُوا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلَىٰ عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا
তারা বলে, এগুলো তো পুরাকালের রূপকথা, যা তিনি লিখে রেখেছেন। এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর কাছে শেখানো হয়।
6قُلْ أَنزَلَهُ الَّذِي يَعْلَمُ السِّرَّ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ إِنَّهُ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا
বলুন, একে তিনিই অবতীর্ণ করেছেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য অবগত আছেন। তিনি ক্ষমাশীল, মেহেরবান।
7وَقَالُوا مَالِ هَٰذَا الرَّسُولِ يَأْكُلُ الطَّعَامَ وَيَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ ۙ لَوْلَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مَلَكٌ فَيَكُونَ مَعَهُ نَذِيرًا
তারা বলে, এ কেমন রসূল যে, খাদ্য আহার করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে? তাঁর কাছে কেন কোন ফেরেশতা নাযিল করা হল না যে, তাঁর সাথে সতর্ককারী হয়ে থাকত?
8أَوْ يُلْقَىٰ إِلَيْهِ كَنزٌ أَوْ تَكُونُ لَهُ جَنَّةٌ يَأْكُلُ مِنْهَا ۚ وَقَالَ الظَّالِمُونَ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلًا مَّسْحُورًا
অথবা তিনি ধন-ভান্ডার প্রাপ্ত হলেন না কেন, অথবা তাঁর একটি বাগান হল না কেন, যা থেকে তিনি আহার করতেন? জালেমরা বলে, তোমরা তো একজন জাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ।
আল-ফুরকানকুরআন সূচী
77আয়াত
মাক্কীRevelation
6আয়াত

অনুবাদ — আল-ফুরকান 6

সূরা আল-ফুরকান আয়াত 6 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বলুন, একে তিনিই অবতীর্ণ করেছেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন…

সূরা আয়াত 6/77 — আল-ফুরকান الفرقان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ফুরকান শুনুন, আল-ফুরকান অনুবাদ, আল-ফুরকান mp3, আল-ফুরকান pdf. আয়াত 4–8. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না