আল-কাসাস · 30/88
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-কাসাস
فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ مِن شَاطِئِ الْوَادِ الْأَيْمَنِ فِي الْبُقْعَةِ الْمُبَارَكَةِ مِنَ الشَّجَرَةِ أَن يَا مُوسَىٰ إِنِّي أَنَا اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ ۝٣٠
Falammaaa ataahaa noodiya min shaati`il waadil aimani fil buq`atil muubaarakati minash shajarati ai yaa Moosaaa inneee Anal laahu Rabbul `aalameen
📖 বাংলা অর্থ
যখন সে তার কাছে পৌছল, তখন পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত উপত্যকার ডান প্রান্তের বৃক্ষ থেকে তাকে আওয়াজ দেয়া হল, হে মূসা! আমি আল্লাহ, বিশ্ব পালনকর্তা।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • شَاطِئِ الْوَادِ: উপত্যকার পাশ/কিনারা।
  • الْأَيْمَنِ: ডান দিকের (মূসা (আঃ)-এর ডান পাশ)।
  • الْبُقْعَةِ الْمُبَارَكَةِ: বরকতময় স্থান/ভূমির অংশ।
  • مِنَ الشَّجَرَةِ: গাছের দিক থেকে (অর্থাৎ গাছের নিকট থেকে বা গাছের সাথে সম্পর্কিত স্থান থেকে)।

তাফসির:

যখন মূসা (আঃ) সেই আগুনের কাছে পৌঁছলেন যা তিনি দূর থেকে দেখেছিলেন এবং পরিবারের জন্য আনার ইচ্ছা করেছিলেন, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে সম্বোধন করে ডাকলেন। এই ডাক এসেছিল উপত্যকার ডান পাশের কিনারা থেকে, সেই বরকতময় স্থানে, একটি গাছের দিক থেকে। সেখানে আল্লাহ তা‘আলা তাকে বললেন: “হে মূসা! নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক।” এই ঘোষণার মাধ্যমে মূসা (আঃ)-কে নবুওয়াত প্রদান করা হলো এবং তাকে আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলার মর্যাদায় ভূষিত করা হলো। এটি ছিল মূসা (আঃ)-এর জীবনের এক যুগান্তকারী মুহূর্ত, যখন তিনি সাধারণ মানুষ থেকে আল্লাহর মনোনীত রাসূল হয়ে উঠলেন। এই আয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে মূসা (আঃ)-কে তাঁর পরিচয় ও মর্যাদা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি কোনো দ্বিধা বা সন্দেহ ছাড়াই আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য প্রস্তুত হন।

ফায়দা/শিক্ষা:

  1. আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা নিজের সাথে কথা বলার মর্যাদা দান করেন এবং তাকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করেন। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে চান উত্তম করেন এবং তাঁর পথে ডাকার জন্য মনোনীত করেন।
  2. বরকতময় স্থান ও সময়কে আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা দেন, যেমন তুওয়া উপত্যকা। এটি আমাদের শেখায় যে, পবিত্র স্থান ও সময়কে সম্মান করা উচিত এবং সেখানে আল্লাহর ইবাদত ও জিকির করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
  3. আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলার অনুভূতি এবং তাঁর পরিচয় জানার মাধ্যমে মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি ও দৃঢ়তা আসে। যখন আমরা কুরআন পাঠ করি, তখন আল্লাহ আমাদের সাথে কথা বলেন; তাই কুরআনকে গুরুত্ব সহকারে পড়া এবং তা অনুধাবন করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
  4. এই ঘটনা আমাদের ধৈর্য ও আস্থার শিক্ষা দেয়। মূসা (আঃ) যখন বিপদে পড়েছিলেন এবং অজানা পথে যাচ্ছিলেন, তখন আল্লাহ তাকে পথ দেখিয়েছিলেন। তেমনি আমাদের জীবনেও যখন মনে হয় সবকিছু অন্ধকার, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে তিনি আমাদের জন্য আলোর পথ খুলে দেন।


📜 আয়াত 28-32 — সূরা আল-কাসাস

28قَالَ ذَٰلِكَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ ۖ أَيَّمَا الْأَجَلَيْنِ قَضَيْتُ فَلَا عُدْوَانَ عَلَيَّ ۖ وَاللَّهُ عَلَىٰ مَا نَقُولُ وَكِيلٌ
মূসা বললেন, আমার ও আপনার মধ্যে এই চুক্তি স্থির হল। দু’টি মেয়াদের মধ্য থেকে যে কোন একটি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না। আমরা যা বলছি, তাতে আল্লাহর উপর ভরসা।
29۞ فَلَمَّا قَضَىٰ مُوسَى الْأَجَلَ وَسَارَ بِأَهْلِهِ آنَسَ مِن جَانِبِ الطُّورِ نَارًا قَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّي آتِيكُم مِّنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ جَذْوَةٍ مِّنَ النَّارِ لَعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ
অতঃপর মূসা (আঃ) যখন সেই মেয়াদ পূর্ণ করল এবং সপরিবারে যাত্রা করল, তখন সে তুর পর্বতের দিক থেকে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবারবর্গকে বলল, তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি সেখান থেকে তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসতে পারি অথবা কোন জ্বলন্ত কাষ্ঠখন্ড আনতে পারি, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।
30فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ مِن شَاطِئِ الْوَادِ الْأَيْمَنِ فِي الْبُقْعَةِ الْمُبَارَكَةِ مِنَ الشَّجَرَةِ أَن يَا مُوسَىٰ إِنِّي أَنَا اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
যখন সে তার কাছে পৌছল, তখন পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত উপত্যকার ডান প্রান্তের বৃক্ষ থেকে তাকে আওয়াজ দেয়া হল, হে মূসা! আমি আল্লাহ, বিশ্ব পালনকর্তা।
31وَأَنْ أَلْقِ عَصَاكَ ۖ فَلَمَّا رَآهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَانٌّ وَلَّىٰ مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ ۚ يَا مُوسَىٰ أَقْبِلْ وَلَا تَخَفْ ۖ إِنَّكَ مِنَ الْآمِنِينَ
আরও বলা হল, তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর। অতঃপর যখন সে লাঠিকে সর্পের ন্যায় দৌড়াদৌড়ি করতে দেখল, তখন সে মুখ ফিরিয়ে বিপরীত দিকে পালাতে লাগল এবং পেছন ফিরে দেখল না। হে মূসা, সামনে এস এবং ভয় করো না। তোমার কোন আশংকা নেই।
32اسْلُكْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ وَاضْمُمْ إِلَيْكَ جَنَاحَكَ مِنَ الرَّهْبِ ۖ فَذَانِكَ بُرْهَانَانِ مِن رَّبِّكَ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ
তোমার হাত বগলে রাখ। তা বের হয়ে আসবে নিরাময় উজ্জ্বল হয়ে এবং ভয় হেতু তোমার হাত তোমার উপর চেপে ধর। এই দু’টি ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের প্রতি তোমার পালনকর্তার তরফ থেকে প্রমাণ। নিশ্চয় তারা পাপাচারী সম্প্রদায়।
আল-কাসাসকুরআন সূচী
88আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
30আয়াত

অনুবাদ — আল-কাসাস 30

সূরা আল-কাসাস আয়াত 30 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যখন সে তার কাছে পৌছল, তখন পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত উপত্যকার…

সূরা আয়াত 30/88 — সূরা আল-কাসাস القصص (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-কাসাস শুনুন, সূরা আল-কাসাস অনুবাদ, সূরা আল-কাসাস mp3, সূরা আল-কাসাস pdf. আয়াত 28–32. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না