আল-কাসাস · 46/88
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-কাসাস
وَمَا كُنتَ بِجَانِبِ الطُّورِ إِذْ نَادَيْنَا وَلَٰكِن رَّحْمَةً مِّن رَّبِّكَ لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّا أَتَاهُم مِّن نَّذِيرٍ مِّن قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ ۝٤٦
Wa maa kunta bijaanibit Toori iz naadainaa wa laakir rahmatam mir Rabbika litunzira qawmam maaa ataahum min nazeerim min qablika la`allahum yatazakkaroon
📖 বাংলা অর্থ
আমি যখন মূসাকে আওয়াজ দিয়েছিলাম, তখন আপনি তুর পর্বতের পার্শ্বে ছিলেন না। কিন্তু এটা আপনার পালনকর্তার রহমত স্বরূপ, যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে ভীতি প্রদর্শন করেন, যাদের কাছে আপনার পূꦣ2503;ব কোন ভীতি প্রদর্শনকারী আগমন করেনি, যাতে তারা স্মরণ রাখে।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • الطُّورِ (তূর): পাহাড়ের নাম, যেখানে আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ)-এর সাথে কথা বলেছিলেন।
  • نَادَيْنَا (নাদাইনা): আমরা আহ্বান করেছিলাম (অর্থাৎ মূসা (আঃ)-কে ডেকেছিলাম এবং তার সাথে কথা বলেছিলাম)।
  • نَذِيرٍ (নাযীর): সতর্ককারী, ভয় প্রদর্শনকারী (অর্থাৎ নবী বা রাসূল)।
  • يَتَذَكَّرُونَ (ইয়াতাযাক্কারূন): তারা উপদেশ গ্রহণ করবে, চিন্তা-ভাবনা করবে।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

হে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি তূর পাহাড়ের পাশে উপস্থিত ছিলেন না, যখন আমরা মূসা (আঃ)-কে ডেকেছিলাম এবং তার সাথে কথা বলেছিলাম। আপনি সেই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন না, যাতে আপনি নিজে দেখে তা জানতে পারেন। বরং আমরা আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়ে এই ঐতিহাসিক ঘটনা ও পূর্ববর্তী নবীগণের অবস্থা সম্পর্কে আপনাকে অবহিত করেছি। এটি ছিল আপনার প্রতি আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ। আমরা আপনাকে পাঠিয়েছি এমন এক সম্প্রদায়ের (কুরাইশ ও আরববাসী) প্রতি সতর্ককারী হিসেবে, যাদের কাছে আপনার আগে কোনো সতর্ককারী (নবী বা রাসূল) আসেনি। দীর্ঘ সময় ধরে তারা নবী-রাসূল থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল (ঈসা (আঃ)-এর পর থেকে)। আমরা আপনাকে পাঠিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে, আপনার আনা সত্য ও কল্যাণের পথ অনুসরণ করে এবং আপনার নিষিদ্ধ করা মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে। সুতরাং আপনি নিজে এসব ঘটনা দেখেননি বা জানতেন না, বরং আল্লাহই আপনাকে এসব জানিয়েছেন, যাতে আপনি মানুষের কাছে সত্য পৌঁছে দিতে পারেন।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. এটি প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জ্ঞান আল্লাহ প্রদত্ত। তিনি নিজে পড়ালেখা করেননি বা এসব ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী ছিলেন না, তবুও তিনি অতীতের সঠিক বিবরণ দিয়েছেন—এটিই তার নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ।
  2. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও রহমতশীল। তিনি রাসূল পাঠিয়ে মানুষকে সঠিক পথ দেখান, যাতে তারা পথভ্রষ্ট না হয়।
  3. নবী-রাসূল না আসার সময়কাল (ফাতরাত) মানুষের জন্য বড় ক্ষতির কারণ। তাই আল্লাহ যুগে যুগে সতর্ককারী পাঠিয়েছেন, যাতে কেউ অজ্ঞতার অজুহাত না দিতে পারে।
  4. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমণ ছিল আরববাসী তথা সমগ্র মানবজাতির জন্য বিরাট রহমত। তিনি এমন এক জাতির কাছে এসেছিলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত ছিল।
  5. কুরআনের প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদের জন্য শিক্ষা ও উপদেশ। আমাদের উচিত কুরআন পাঠ করা, এর অর্থ বোঝা এবং সে অনুযায়ী জীবন গঠন করা।
  6. আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ আমাদের প্রতি অপরিসীম। আমরা যেন এই রহমতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং তাঁর নির্দেশিত পথে চলি।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 44-48 — আল-কাসাস

44وَمَا كُنتَ بِجَانِبِ الْغَرْبِيِّ إِذْ قَضَيْنَا إِلَىٰ مُوسَى الْأَمْرَ وَمَا كُنتَ مِنَ الشَّاهِدِينَ
মূসাকে যখন আমি নির্দেশনামা দিয়েছিলাম, তখন আপনি পশ্চিম প্রান্তে ছিলেন না এবং আপনি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন না।
45وَلَٰكِنَّا أَنشَأْنَا قُرُونًا فَتَطَاوَلَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ ۚ وَمَا كُنتَ ثَاوِيًا فِي أَهْلِ مَدْيَنَ تَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا وَلَٰكِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ
কিন্তু আমি অনেক সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছিলাম, অতঃপর তাদের অনেক যুগ অতিবাহিত হয়েছে। আর আপনি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে ছিলেন না যে, তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করতেন। কিন্তু আমিই ছিলাম রসূল প্রেরণকারী।
46وَمَا كُنتَ بِجَانِبِ الطُّورِ إِذْ نَادَيْنَا وَلَٰكِن رَّحْمَةً مِّن رَّبِّكَ لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّا أَتَاهُم مِّن نَّذِيرٍ مِّن قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
আমি যখন মূসাকে আওয়াজ দিয়েছিলাম, তখন আপনি তুর পর্বতের পার্শ্বে ছিলেন না। কিন্তু এটা আপনার পালনকর্তার রহমত স্বরূপ, যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে ভীতি প্রদর্শন করেন, যাদের কাছে আপনার পূꦣ2503;ব কোন ভীতি প্রদর্শনকারী আগমন করেনি, যাতে তারা স্মরণ রাখে।
47وَلَوْلَا أَن تُصِيبَهُم مُّصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ فَيَقُولُوا رَبَّنَا لَوْلَا أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًا فَنَتَّبِعَ آيَاتِكَ وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
আর এ জন্য যে, তাদের কৃতকর্মের জন্যে তাদের কোন বিপদ হলে তারা বলত, হে আমাদের পালনকর্তা, তুমি আমাদের কাছে কোন রসূল প্রেরণ করলে না কেন? করলে আমরা তোমার আয়াতসমূহের অনুসরণ করতাম এবং আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।
48فَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ مِنْ عِندِنَا قَالُوا لَوْلَا أُوتِيَ مِثْلَ مَا أُوتِيَ مُوسَىٰ ۚ أَوَلَمْ يَكْفُرُوا بِمَا أُوتِيَ مُوسَىٰ مِن قَبْلُ ۖ قَالُوا سِحْرَانِ تَظَاهَرَا وَقَالُوا إِنَّا بِكُلٍّ كَافِرُونَ
অতঃপর আমার কাছ থেকে যখন তাদের কাছে সত্য আগমন করল, তখন তারা বলল, মূসাকে যেরূপ দেয়া হয়েছিল, এই রসূলকে সেরূপ দেয়া হল না কেন? পূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল, তারা কি তা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিল, উভয়ই জাদু, পরস্পরে একাত্ম। তারা আরও বলেছিল, আমরা উভয়কে মানি না।
আল-কাসাসকুরআন সূচী
88আয়াত
মাক্কীRevelation
46আয়াত

অনুবাদ — আল-কাসাস 46

সূরা আল-কাসাস আয়াত 46 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমি যখন মূসাকে আওয়াজ দিয়েছিলাম, তখন আপনি তুর পর্বতের পার্শ্বে…

সূরা আয়াত 46/88 — আল-কাসাস القصص (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-কাসাস শুনুন, আল-কাসাস অনুবাদ, আল-কাসাস mp3, আল-কাসাস pdf. আয়াত 44–48. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না