আল-আঙ্কাবুত · 64/69
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আঙ্কাবুত
وَمَا هَٰذِهِ ٱلۡحَيَوٰةُ ٱلدُّنۡيَآ إِلَّا لَهۡوٌ وَلَعِبٌۚ وَإِنَّ ٱلدَّارَ ٱلۡأٓخِرَةَ لَهِيَ ٱلۡحَيَوَانُۚ لَوۡ كَانُواْ يَعۡلَمُونَ  ۝٦٤
Wa maa haazihil hayaa tud dunyaaa illaa lahwunw-wa la`ib; wa innad Daaral Aakhirata la hiyal ha yawaan; law kaano ya`lamoon
📖 বাংলা অর্থ
এই পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক বৈ তো কিছুই নয়। পরকালের গৃহই প্রকৃত জীবন; যদি তারা জানত।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَهْوٌ (লাহওয়ুন): এমন খেল-তামাশা বা আমোদ-প্রমোদ যা মানুষকে ব্যস্ত রাখে এবং আসল লক্ষ্য থেকে গাফেল করে দেয়।
  • لَعِبٌ (লা‘ইবুন): খেলা-ধুলা, যা কোনো স্থায়ী ফলাফল বা বাস্তব গুরুত্ব বহন করে না।
  • الْحَيَوَانُ (আল-হায়াওয়ান): পূর্ণাঙ্গ, চিরস্থায়ী ও প্রকৃত জীবন। (আরবি ভাষায় এই শব্দটি জীবনের মূল উৎস বা পরিপূর্ণ জীবনকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।)

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে দুনিয়ার জীবন ও আখিরাতের জীবনের মধ্যে একটি গভীর তুলনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন— এই দুনিয়ার জীবন তার সমস্ত ভোগ-বিলাস, সম্পদ, ক্ষমতা, সৌন্দর্য ও চাকচিক্য সহকারে মূলত একটি খেল-তামাশা ও ক্ষণস্থায়ী আমোদ-প্রমোদ ছাড়া আর কিছুই নয়। যেমনটি একটি শিশু খেলায় মেতে ওঠে, কিছুক্ষণ পরেই সেই খেলা শেষ হয়ে যায় এবং তার কোনো বাস্তব মূল্য থাকে না, তেমনি দুনিয়ার জীবনও ক্ষণস্থায়ী। এর চাকচিক্য মানুষকে মুগ্ধ করে, কিন্তু এই জীবন অত্যন্ত দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং মৃত্যুর পর মানুষকে তার সমস্ত কাজের হিসাব দিতে হবে।

অন্যদিকে, আখিরাতের জীবনই হলো প্রকৃত ও চিরস্থায়ী জীবন। সেখানে কোনো মৃত্যু নেই, কোনো ক্লান্তি নেই, কোনো দুঃখ-কষ্ট নেই। জান্নাতের জীবন হবে পরিপূর্ণ আনন্দ, শান্তি ও স্থায়ীত্বের জীবন, আর জাহান্নামের জীবন হবে চিরস্থায়ী শাস্তির জীবন। এই দুনিয়ার জীবন যত দীর্ঘই হোক না কেন, তা একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আখিরাতের জীবন কখনো শেষ হবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন, যদি মানুষ এই সত্যটি উপলব্ধি করত যে, প্রকৃত ও স্থায়ী জীবন তো আখিরাতেরই জীবন, তাহলে তারা কখনো ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মোহে আখিরাতের চিরস্থায়ী সাফল্যকে বিসর্জন দিত না। তারা দুনিয়ার সামান্য সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য আখিরাতের অনন্ত সুখ হারাত না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যারা জ্ঞান ও বিবেক ব্যবহার করে না, তারা এই সত্যটি বুঝতে পারে না এবং দুনিয়ার মায়াজালেই ডুবে থাকে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার জীবনকে কখনোই চূড়ান্ত লক্ষ্য বানানো উচিত নয়। দুনিয়া হলো পরীক্ষার স্থান, আর আখিরাত হলো চিরস্থায়ী ফলাফলের স্থান।
  2. দুনিয়ার প্রতি আসক্তি ও মোহ মানুষের সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ। যে ব্যক্তি দুনিয়াকে বেশি ভালোবাসে, সে আখিরাতকে ভুলে যায় এবং তার পরিণতি হয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
  3. প্রকৃত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা হলো সেই জ্ঞান, যা মানুষকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে এবং আখিরাতের প্রস্তুতিতে উদ্বুদ্ধ করে। যারা এই জ্ঞান অর্জন করে, তারা দুনিয়ায় এমনভাবে জীবনযাপন করে যেন তারা মুসাফির— প্রয়োজনে দুনিয়া ব্যবহার করে, কিন্তু অন্তর আখিরাতের সাথে সংযুক্ত থাকে।
  4. এই আয়াত মুমিনকে ধৈর্য ও সংযম শেখায়। দুনিয়ার কষ্ট-ক্লেশ, হতাশা ও ব্যর্থতা দেখে মুমিন হতাশ হয় না, কারণ সে জানে— প্রকৃত জীবন তো আখিরাতে, সেখানেই রয়েছে চিরস্থায়ী সাফল্য ও শান্তি।
  5. ইসলামের দৃষ্টিতে দুনিয়া ও আখিরাতের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম দুনিয়াকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করতে বলে না, বরং দুনিয়াকে আখিরাতের পথে ব্যবহার করতে বলে। দুনিয়া হবে আমাদের কর্মক্ষেত্র, আর আখিরাত হবে সেই কর্মের ফলাফল ভোগের স্থান।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 62-66 — আল-আঙ্কাবুত

62ٱللَّهُ يَبۡسُطُ ٱلرِّزۡقَ لِمَن يَشَآءُ مِنۡ عِبَادِهِۦ وَيَقۡدِرُ لَهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٌ 
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা হ্রাস করেন। নিশ্চয়, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।
63وَلَئِن سَأَلۡتَهُم مَّن نَّزَّلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءً فَأَحۡيَا بِهِ ٱلۡأَرۡضَ مِنۢ بَعۡدِ مَوۡتِهَا لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُۚ قُلِ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِۚ بَلۡ أَكۡثَرُهُمۡ لَا يَعۡقِلُونَ 
যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করে, অতঃপর তা দ্বারা মৃত্তিকাকে উহার মৃত হওয়ার পর সঞ্জীবিত করে? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বোঝে না।
64وَمَا هَٰذِهِ ٱلۡحَيَوٰةُ ٱلدُّنۡيَآ إِلَّا لَهۡوٌ وَلَعِبٌۚ وَإِنَّ ٱلدَّارَ ٱلۡأٓخِرَةَ لَهِيَ ٱلۡحَيَوَانُۚ لَوۡ كَانُواْ يَعۡلَمُونَ 
এই পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক বৈ তো কিছুই নয়। পরকালের গৃহই প্রকৃত জীবন; যদি তারা জানত।
65فَإِذَا رَكِبُواْ فِي ٱلۡفُلۡكِ دَعَوُاْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ فَلَمَّا نَجَّىٰهُمۡ إِلَى ٱلۡبَرِّ إِذَا هُمۡ يُشۡرِكُونَ 
তারা যখন জলযানে আরোহণ করে তখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন স্থলে এনে তাদেরকে উদ্ধার করেন, তখনই তারা শরীক করতে থাকে।
66لِيَكۡفُرُواْ بِمَآ ءَاتَيۡنَٰهُمۡ وَلِيَتَمَتَّعُواْۚ فَسَوۡفَ يَعۡلَمُونَ 
যাতে তারা তাদের প্রতি আমার দান অস্বীকার করে এবং ভোগ-বিলাসে ডুবে থাকে। সত্বরই তারা জানতে পারবে।
আল-আঙ্কাবুতকুরআন সূচী
69আয়াত
মাক্কীRevelation
64আয়াত

অনুবাদ — আল-আঙ্কাবুত 64

সূরা আয়াত 64/69 — আল-আঙ্কাবুত العنكبوت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আঙ্কাবুত শুনুন, আল-আঙ্কাবুত অনুবাদ, আল-আঙ্কাবুত mp3, আল-আঙ্কাবুত pdf. আয়াত 62–66. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না