يَسْتَبْشِرُونَ — তারা আনন্দিত হয়, সুসংবাদ গ্রহণ করে।
نِعْمَةٍ — নেয়ামত, অনুগ্রহ।
فَضْلٍ — অতিরিক্ত অনুগ্রহ, প্রাচুর্য।
لَا يُضِيعُ — বিনষ্ট করেন না, নষ্ট করেন না।
أَجْرَ — প্রতিদান, পুরস্কার।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা শহীদদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে, তারা কেবল জীবিতই নয়, বরং তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে যে নেয়ামত ও অনুগ্রহ পেয়েছে তাতে অত্যন্ত আনন্দিত ও খুশি। তারা আল্লাহর বিশেষ করুণা ও রহমত লাভ করেছে, যা তাদের জন্য চিরন্তন সুখের কারণ। তারা আরও আনন্দিত হয় এই কারণে যে, আল্লাহ তাআলা মুমিনদের কোনো কাজই বিনষ্ট করেন না; বরং তিনি তাদের প্রতিদান পূর্ণভাবে দান করেন এবং নিজের পক্ষ থেকে আরও অতিরিক্ত অনুগ্রহ প্রদান করেন। শহীদদের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সম্মান—একটি হলো আল্লাহর নেয়ামত ও ক্ষমা, আর অন্যটি হলো তাদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অতিরিক্ত পুরস্কার। এই আনন্দ এমন এক আনন্দ যা কোনো দুঃখ বা ভয়ের সাথে মিশ্রিত নয়, কারণ তারা আল্লাহর ওয়াদার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাসী।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মুমিনের জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, কারণ এর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে এমন নেয়ামত দেবেন যা কল্পনার বাইরে।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কোনো ভালো কাজই নষ্ট করেন না; এমনকি একটি ছোট্ট নেক কাজও তিনি যথাযথভাবে পুরস্কৃত করবেন।
মৃত্যুকে ভয় না করে বরং আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গ করার মধ্যে রয়েছে চিরস্থায়ী সাফল্য ও আনন্দ।
মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত ইতিবাচক—পরকালের সুসংবাদে আনন্দিত হওয়া, দুনিয়ার সামান্য ক্ষতির জন্য হতাশ না হওয়া।
এই আয়াত মুমিনদের মনে আশা ও সাহস সঞ্চার করে যে, আল্লাহর পথে যেকোনো ত্যাগ কখনো বৃথা যায় না; বরং তা আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত থাকে এবং তিনি তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন।
আল্লাহ নিজের অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তার প্রেক্ষিতে তারা আনন্দ উদযাপন করছে। আর যারা এখনও তাদের কাছে এসে পৌঁছেনি তাদের পেছনে তাদের জন্যে আনন্দ প্রকাশ করে। কারণ, তাদের কোন ভয় ভীতিও নেই এবং কোন চিন্তা ভাবনাও নেই।
যাদেরকে লোকেরা বলেছে যে, তোমাদের সাথে মোকাবেলা করার জন্য লোকেরা সমাবেশ করেছে বহু সাজ-সরঞ্জাম; তাদের ভয় কর। তখন তাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ়তর হয়ে যায় এবং তারা বলে, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট; কতই না চমৎকার কামিয়াবীদানকারী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।