আল-ইমরান · 46/200
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ইমরান
وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا وَمِنَ الصَّالِحِينَ ۝٤٦
Wa yukallimun naasa filmahdi wa kahlanw wa minassaaliheen
📖 বাংলা অর্থ
যখন তিনি মায়ের কোলে থাকবেন এবং পূর্ণ বয়স্ক হবেন তখন তিনি মানুষের সাথে কথা বলবেন। আর তিনি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • مَهْد (মাহদ): দোলনা, শিশুর শয্যা। এখানে শৈশবকালকে বোঝানো হয়েছে।
  • كَهْلًا (কাহলান): পূর্ণ বয়স্ক, পরিণত বয়সের মানুষ। সাধারণত ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়সকে বলা হয়।

তفسير (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মারইয়াম (আঃ)-এর পুত্র ঈসা (আঃ)-এর দুটি বিশেষ মু'জিযা ও মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রথমত, তিনি বলেন, "وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ" – অর্থাৎ, ঈসা (আঃ) দোলনায় থাকা অবস্থায় অর্থাৎ মাত্র নবজাতক শিশু হিসেবে মানুষের সাথে কথা বলবেন। এটি ছিল একটি অসাধারণ মু'জিযা। সাধারণত নবজাতক শিশুরা কথা বলতে পারে না, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় ঈসা (আঃ) দোলনায় শুয়ে থাকা অবস্থায় মানুষের সাথে কথা বলবেন। এটি ছিল তার নবুওয়্যাতের প্রমাণ এবং তার মা মারইয়াম (আঃ)-এর পবিত্রতা ও নির্দোষতার সাক্ষ্য। কুরআনের অন্য一处에서 বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তার সম্প্রদায়ের লোকেরা মারইয়ামকে অপবাদ দিতে এসেছিল, তখন ঈসা (আঃ) দোলনা থেকে কথা বলে তার মাকে রক্ষা করেছিলেন।

দ্বিতীয়ত, তিনি বলেন, "وَكَهْلًا" – অর্থাৎ, তিনি পরিণত বয়সে পৌঁছে মানুষের সাথে কথা বলবেন। এটি সাধারণ মানুষের মতোই হবে, তবে তার কথা হবে নবুওয়্যাতের বাণী, দাওয়াত ও হেদায়াতের ভাষা। তিনি মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকবেন, সৎকাজের আদেশ দেবেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবেন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহ তাআলা জীবিত অবস্থায় আসমানে উঠিয়ে নিয়েছিলেন এবং তিনি আবার পৃথিবীতে অবতরণ করবেন। তখন তিনি পরিণত বয়সে (কাহল) অবস্থায় থাকবেন এবং মানুষের সাথে কথা বলবেন। এটি তার দ্বিতীয় আগমনের দিকেও ইঙ্গিত বহন করে।

তৃতীয়ত, তিনি বলেন, "وَمِنَ الصَّالِحِينَ" – অর্থাৎ, তিনি আল্লাহর পুণ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। তার কথা, কাজ, চরিত্র ও আমল সবকিছু হবে সৎকর্মপরায়ণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুগত। তিনি সেই সকল নবী-রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহর বিধান পালনে ও মানুষের মাঝে সততা প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের পুণ্য অর্জন করেছেন।

ফায়দা (উপকারিতা ও শিক্ষা):

  1. আল্লাহর কুদরতের কোনো সীমা নেই। তিনি চাইলে নবজাতক শিশুকেও কথা বলাতে পারেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখা এবং কোনো কিছুকে অসম্ভব মনে না করা।
  2. নবী-রাসূলগণ ছিলেন সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাদের জীবন ছিল পূর্ণতাদর্শ। ঈসা (আঃ)-এর শৈশব থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় ছিল আল্লাহর নির্দেশনা ও পবিত্রতার অনন্য দৃষ্টান্ত।
  3. একজন সৎকর্মপরায়ণ মানুষের কথা ও কাজ উভয়ই হতে হবে সুন্দর ও কল্যাণকর। ঈসা (আঃ) যেমন শৈশবে মু'জিযা হিসেবে এবং পরিণত বয়সে নবুওয়্যাতের বাণী হিসেবে মানুষের সাথে কথা বলেছেন, তেমনি আমাদের প্রতিটি কথাও হতে হবে সত্য, সুন্দর ও মানুষের জন্য কল্যাণকর।
  4. এই আয়াত থেকে আমরা জানতে পারি যে, ইসলাম ঈসা (আঃ)-কে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখে। তাকে আল্লাহর নবী ও রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করা আমাদের ঈমানের অংশ। এটি আমাদেরকে অন্যান্য নবী-রাসূলদের প্রতিও ভালোবাসা ও সম্মান পোষণ করতে শেখায়।
  5. সৎকর্মশীলতা (সালাহ) হলো নবী-রাসূলদের গুণ। আমাদের জীবনেও এই গুণ অর্জনের চেষ্টা করা উচিত, যাতে আমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।


📜 আয়াত 44-48 — সূরা আল-ইমরান

44ذَٰلِكَ مِنْ أَنبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ ۚ وَمَا كُنتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُونَ أَقْلَامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَمَا كُنتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يَخْتَصِمُونَ
এ হলো গায়েবী সংবাদ, যা আমি আপনাকে পাঠিয়ে থাকি। আর আপনি তো তাদের কাছে ছিলেন না, যখন প্রতিযোগিতা করছিল যে, কে প্রতিপালন করবে মারইয়ামকে এবং আপনি তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা ঝগড়া করছিলো।
45إِذْ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ
যখন ফেরেশতাগণ বললো, হে মারইয়াম আল্লাহ তোমাকে তাঁর এক বানীর সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো মসীহ-মারইয়াম-তনয় ঈসা, দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি মহাসম্মানের অধিকারী এবং আল্লাহর ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভূক্ত।
46وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا وَمِنَ الصَّالِحِينَ
যখন তিনি মায়ের কোলে থাকবেন এবং পূর্ণ বয়স্ক হবেন তখন তিনি মানুষের সাথে কথা বলবেন। আর তিনি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
47قَالَتْ رَبِّ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي وَلَدٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ ۖ قَالَ كَذَٰلِكِ اللَّهُ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ إِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ
তিনি বললেন, পরওয়ারদেগার! কেমন করে আমার সন্তান হবে; আমাকে তো কোন মানুষ স্পর্শ করেনি। বললেন এ ভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। যখন কোন কাজ করার জন্য ইচ্ছা করেন তখন বলেন যে, ‘হয়ে যাও’ অমনি তা হয়ে যায়।
48وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ
আর তাকে তিনি শিখিয়ে দেবেন কিতাব, হিকমত, তওরাত, ইঞ্জিল।
আল-ইমরানকুরআন সূচী
200আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
46আয়াত

অনুবাদ — আল-ইমরান 46

সূরা আল-ইমরান আয়াত 46 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যখন তিনি মায়ের কোলে থাকবেন এবং পূর্ণ বয়স্ক হবেন তখন…

সূরা আয়াত 46/200 — সূরা আল-ইমরান آل عمران (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ইমরান শুনুন, সূরা আল-ইমরান অনুবাদ, সূরা আল-ইমরান mp3, সূরা আল-ইমরান pdf. আয়াত 44–48. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না