অনুবাদ — Tafsir
শব্দের অর্থ:
- مَهْد (মাহদ): দোলনা, শিশুর শয্যা। এখানে শৈশবকালকে বোঝানো হয়েছে।
- كَهْلًا (কাহলান): পূর্ণ বয়স্ক, পরিণত বয়সের মানুষ। সাধারণত ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়সকে বলা হয়।
তفسير (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মারইয়াম (আঃ)-এর পুত্র ঈসা (আঃ)-এর দুটি বিশেষ মু'জিযা ও মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত, তিনি বলেন, "وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ" – অর্থাৎ, ঈসা (আঃ) দোলনায় থাকা অবস্থায় অর্থাৎ মাত্র নবজাতক শিশু হিসেবে মানুষের সাথে কথা বলবেন। এটি ছিল একটি অসাধারণ মু'জিযা। সাধারণত নবজাতক শিশুরা কথা বলতে পারে না, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় ঈসা (আঃ) দোলনায় শুয়ে থাকা অবস্থায় মানুষের সাথে কথা বলবেন। এটি ছিল তার নবুওয়্যাতের প্রমাণ এবং তার মা মারইয়াম (আঃ)-এর পবিত্রতা ও নির্দোষতার সাক্ষ্য। কুরআনের অন্য一处에서 বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তার সম্প্রদায়ের লোকেরা মারইয়ামকে অপবাদ দিতে এসেছিল, তখন ঈসা (আঃ) দোলনা থেকে কথা বলে তার মাকে রক্ষা করেছিলেন।
দ্বিতীয়ত, তিনি বলেন, "وَكَهْلًا" – অর্থাৎ, তিনি পরিণত বয়সে পৌঁছে মানুষের সাথে কথা বলবেন। এটি সাধারণ মানুষের মতোই হবে, তবে তার কথা হবে নবুওয়্যাতের বাণী, দাওয়াত ও হেদায়াতের ভাষা। তিনি মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকবেন, সৎকাজের আদেশ দেবেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবেন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহ তাআলা জীবিত অবস্থায় আসমানে উঠিয়ে নিয়েছিলেন এবং তিনি আবার পৃথিবীতে অবতরণ করবেন। তখন তিনি পরিণত বয়সে (কাহল) অবস্থায় থাকবেন এবং মানুষের সাথে কথা বলবেন। এটি তার দ্বিতীয় আগমনের দিকেও ইঙ্গিত বহন করে।
তৃতীয়ত, তিনি বলেন, "وَمِنَ الصَّالِحِينَ" – অর্থাৎ, তিনি আল্লাহর পুণ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। তার কথা, কাজ, চরিত্র ও আমল সবকিছু হবে সৎকর্মপরায়ণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুগত। তিনি সেই সকল নবী-রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহর বিধান পালনে ও মানুষের মাঝে সততা প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের পুণ্য অর্জন করেছেন।
ফায়দা (উপকারিতা ও শিক্ষা):
- আল্লাহর কুদরতের কোনো সীমা নেই। তিনি চাইলে নবজাতক শিশুকেও কথা বলাতে পারেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখা এবং কোনো কিছুকে অসম্ভব মনে না করা।
- নবী-রাসূলগণ ছিলেন সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাদের জীবন ছিল পূর্ণতাদর্শ। ঈসা (আঃ)-এর শৈশব থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় ছিল আল্লাহর নির্দেশনা ও পবিত্রতার অনন্য দৃষ্টান্ত।
- একজন সৎকর্মপরায়ণ মানুষের কথা ও কাজ উভয়ই হতে হবে সুন্দর ও কল্যাণকর। ঈসা (আঃ) যেমন শৈশবে মু'জিযা হিসেবে এবং পরিণত বয়সে নবুওয়্যাতের বাণী হিসেবে মানুষের সাথে কথা বলেছেন, তেমনি আমাদের প্রতিটি কথাও হতে হবে সত্য, সুন্দর ও মানুষের জন্য কল্যাণকর।
- এই আয়াত থেকে আমরা জানতে পারি যে, ইসলাম ঈসা (আঃ)-কে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখে। তাকে আল্লাহর নবী ও রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করা আমাদের ঈমানের অংশ। এটি আমাদেরকে অন্যান্য নবী-রাসূলদের প্রতিও ভালোবাসা ও সম্মান পোষণ করতে শেখায়।
- সৎকর্মশীলতা (সালাহ) হলো নবী-রাসূলদের গুণ। আমাদের জীবনেও এই গুণ অর্জনের চেষ্টা করা উচিত, যাতে আমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।
📜 আয়াত 44-48 — আল-ইমরান
অনুবাদ — আল-ইমরান 46
সূরা আয়াত 46/200 — আল-ইমরান آل عمران (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ইমরান শুনুন, আল-ইমরান অনুবাদ, আল-ইমরান mp3, আল-ইমরান pdf. আয়াত 44–48. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








