আল-ইমরান · 47/200
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ইমরান
قَالَتْ رَبِّ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي وَلَدٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ ۖ قَالَ كَذَٰلِكِ اللَّهُ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ إِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ ۝٤٧
Qaalat Rabbi annaa yakoonu ee waladunw wa lam yamsasnee basharun qaala kazaalikil laahu yakhluqu maa yashaaa`; izaa qadaaa amran fa innamaa yaqoolu lahoo kun fayakoon
📖 বাংলা অর্থ
তিনি বললেন, পরওয়ারদেগার! কেমন করে আমার সন্তান হবে; আমাকে তো কোন মানুষ স্পর্শ করেনি। বললেন এ ভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। যখন কোন কাজ করার জন্য ইচ্ছা করেন তখন বলেন যে, ‘হয়ে যাও’ অমনি তা হয়ে যায়।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَنَّىٰ — কীভাবে, কোথা থেকে।
  • يَمْسَسْنِي — আমাকে স্পর্শ করেছে (বিবাহ বা অন্য কোনো বৈধ-অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যমে)।
  • قَضَىٰ — সিদ্ধান্ত নেওয়া, ইচ্ছা করা, নির্ধারণ করা।
  • كُن فَيَكُونُ — ‘হয়ে যাও’ বললেই তা হয়ে যায়।

তفسير:

মরিয়ম (আ.) যখন ফেরেশতার মাধ্যমে জানতে পারলেন যে, তিনি একটি পুত্র সন্তান লাভ করবেন, তখন তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, “হে আমার রব! আমার সন্তান কীভাবে হবে, অথচ আমাকে তো কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি?” তিনি এ কথা বিস্ময় ও আশ্চর্যবোধ থেকে বলেছিলেন, কারণ স্বাভাবিক নিয়মে তো কোনো নারীর সন্তান হয় স্বামীর মাধ্যমে। তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ সতী-সাধ্বী, কোনো প্রকার পাপকর্মের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল না।

উত্তরে ফেরেশতা বললেন, “এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন।” অর্থাৎ, আল্লাহর পক্ষে এটা কোনো কঠিন কাজ নয়। তিনি যখন কোনো বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাকে শুধু বলেন, ‘হয়ে যাও’, আর তা সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যায়। অর্থাৎ, আল্লাহর ইচ্ছার সামনে স্বাভাবিক কারণ-প্রকৃতির বাঁধা কোনো বাধা নয়। তিনি চাইলে পিতা ছাড়াই সন্তান সৃষ্টি করতে পারেন, যেমনটি তিনি আদম (আ.)-কে পিতা-মাতা ছাড়া, হাওয়াকে পিতা ছাড়া এবং ঈসা (আ.)-কে পিতা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন। তাঁর ক্ষমতা ও ইচ্ছার কাছে সবকিছু সহজ।

ফায়দা বা শিক্ষা:

  1. আল্লাহর ক্ষমতা অসীম। তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা যেকোনো উপায়ে ঘটাতে পারেন; তাঁর জন্য কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।
  2. আল্লাহর ইচ্ছা যখন কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত হয়, তখন তা অবশ্যই সংঘটিত হয়; কোনো শক্তি তা রোধ করতে পারে না।
  3. মরিয়ম (আ.)-এর প্রশ্নটি ছিল বিস্ময় প্রকাশের জন্য, অস্বীকৃতি বা সন্দেহের জন্য নয়। এটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আল্লাহর কুদরতের বিষয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে, কিন্তু তা হতে হবে জ্ঞান ও বোঝার জন্য, অবিশ্বাসের জন্য নয়।
  4. এই আয়াতটি ইসলামের একটি মৌলিক বিশ্বাস—কুদরত-ইলাহি—কে সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠিত করে, যা মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভরসা সৃষ্টি করে। যখনই কোনো বিষয় অসম্ভব মনে হয়, তখন স্মরণ করতে হবে যে, আল্লাহর জন্য সবকিছু সম্ভব।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 45-49 — আল-ইমরান

45إِذْ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ
যখন ফেরেশতাগণ বললো, হে মারইয়াম আল্লাহ তোমাকে তাঁর এক বানীর সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো মসীহ-মারইয়াম-তনয় ঈসা, দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি মহাসম্মানের অধিকারী এবং আল্লাহর ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভূক্ত।
46وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا وَمِنَ الصَّالِحِينَ
যখন তিনি মায়ের কোলে থাকবেন এবং পূর্ণ বয়স্ক হবেন তখন তিনি মানুষের সাথে কথা বলবেন। আর তিনি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
47قَالَتْ رَبِّ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي وَلَدٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ ۖ قَالَ كَذَٰلِكِ اللَّهُ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ إِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ
তিনি বললেন, পরওয়ারদেগার! কেমন করে আমার সন্তান হবে; আমাকে তো কোন মানুষ স্পর্শ করেনি। বললেন এ ভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। যখন কোন কাজ করার জন্য ইচ্ছা করেন তখন বলেন যে, ‘হয়ে যাও’ অমনি তা হয়ে যায়।
48وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ
আর তাকে তিনি শিখিয়ে দেবেন কিতাব, হিকমত, তওরাত, ইঞ্জিল।
49وَرَسُولًا إِلَىٰ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُم بِآيَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ ۖ أَنِّي أَخْلُقُ لَكُم مِّنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْرًا بِإِذْنِ اللَّهِ ۖ وَأُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأُحْيِي الْمَوْتَىٰ بِإِذْنِ اللَّهِ ۖ وَأُنَبِّئُكُم بِمَا تَأْكُلُونَ وَمَا تَدَّخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
আর বণী ইসরাঈলদের জন্যে রসূল হিসেবে তাকে মনোনীত করবেন। তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে এসেছি নিদর্শনসমূহ নিয়ে। আমি তোমাদের জন্য মাটির দ্বারা পাখীর আকৃতি তৈরী করে দেই। তারপর তাতে যখন ফুৎকার প্রদান করি, তখন তা উড়ন্ত পাখীতে পরিণত হয়ে যায় আল্লাহর হুকুমে। আর আমি সুস্থ করে তুলি জন্মান্ধকে এবং শ্বেত কুষ্ঠ রোগীকে। আর আমি জীবিত করে দেই মৃতকে আল্লাহর হুকুমে। আর আমি তোমাদেরকে বলে দেই যা তোমরা খেয়ে আস এবং যা তোমরা ঘরে রেখে আস। এতে প্রকৃষ্ট নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।
আল-ইমরানকুরআন সূচী
200আয়াত
মাদানীRevelation
47আয়াত

অনুবাদ — আল-ইমরান 47

সূরা আল-ইমরান আয়াত 47 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তিনি বললেন, পরওয়ারদেগার! কেমন করে আমার সন্তান হবে; আমাকে তো…

সূরা আয়াত 47/200 — আল-ইমরান آل عمران (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ইমরান শুনুন, আল-ইমরান অনুবাদ, আল-ইমরান mp3, আল-ইমরান pdf. আয়াত 45–49. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না