Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- জাহাদা (جَاهَدَاكَ): অর্থ—তারা উভয়ে (পিতা-মাতা) কঠোর চেষ্টা করা, প্রবলভাবে চাপ দেওয়া।
- তুশরিকা (تُشْرِكَ): অর্থ—তুমি শরীক করো, অর্থাৎ আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ইবাদতে অংশীদার করো।
- মা'রূফ (مَعْرُوفًا): অর্থ—সৎ ও ন্যায়সঙ্গত পন্থায়, শরীয়তসম্মত ভালো ব্যবহার।
- আনাবা (أَنَابَ): অর্থ—প্রত্যাবর্তন করা, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, তাওবা করা।
- মারজি' (مَرْجِعُكُمْ): অর্থ—তোমাদের ফিরে যাওয়ার স্থান, প্রত্যাবর্তন।
তাফসীর:
হে মুমিন সন্তান! যদি তোমার পিতা-মাতা তোমাকে চাপ দেয় এবং সর্বাত্মক চেষ্টা করে যে, তুমি আমার সাথে এমন কাউকে শরীক করো, যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই—অর্থাৎ মূর্তি, পাথর, নবী, অলি কিংবা অন্য কোনো সৃষ্টিকে আমার ইবাদতে অংশীদার বানাও—তবে তুমি তাদের এ কথায় কখনো কর্ণপাত করবে না। কারণ, সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতা করে সৃষ্টির আনুগত্য করা যায় না। আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা সবচেয়ে বড় জুলুম ও চরম অন্যায়, আর এ ব্যাপারে কারো কথা মানা জায়েয নেই—পিতা-মাতা হলেও।
কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তুমি তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে বা তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে। বরং আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট নির্দেশ দিচ্ছেন—দুনিয়ার জীবনে তুমি তাদের সাথে থাকবে সৎ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে, তাদের সেবা-শুশ্রূষা করবে, ভালো ব্যবহার করবে, তাদের খোঁজখবর নেবে, তাদের প্রয়োজন মেটাবে। তবে দ্বীনের ব্যাপারে, ঈমান ও তাওহীদের ব্যাপারে তাদের কোনো প্রভাব তোমার উপর চলবে না।
এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন—তুমি সেই পথ অনুসরণ করো, যে পথে চলেছে আমার দিকে ফিরে আসা বান্দারা, যারা তাওবা করেছে, আমার একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আমার রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্য করেছে। তাদের পথই হলো সঠিক পথ, হিদায়াতের পথ।
শেষে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে দিচ্ছেন—তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে। কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের সামনে তুলে ধরব তোমাদের প্রতিটি কাজ—ভালো-মন্দ, ছোট-বড় সবকিছু। যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারা পুরস্কৃত হবে, আর যারা শিরক করেছে ও অসৎকর্ম করেছে তারা তার প্রতিফল পাবে। আল্লাহ কারো প্রতি জুলুম করেন না, প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মের ফল ভোগ করবে।
শিক্ষণীয় দিক ও দাওয়াত:
এই আয়াতটি আমাদের শেখায়—ইসলামে পিতা-মাতার সম্মান ও সেবার গুরুত্ব অপরিসীম, কিন্তু আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করার ব্যাপারে কোনো আপস নেই। ঈমানের প্রশ্নে সম্পর্কের ঊর্ধ্বে আল্লাহর আদেশই সর্বোচ্চ। তবে দ্বীনের দাবি পূরণ করেও আমরা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে পারি—এটাই ইসলামের সুন্দর ভারসাম্য।
প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! আল্লাহ আমাদের সকলকে এমন ঈমান দান করুন, যেখানে আল্লাহর ভালোবাসা সবার উপরে থাকে, কিন্তু পিতা-মাতার সেবাও যেন আমরা কখনো ভুলে না যাই। আল্লাহ আমাদেরকে সিরাতুল মুস্তাকীমের উপর চলার তাওফিক দিন। আমিন।
📜 আয়াত 13-17 — সূরা লুকমান
অনুবাদ — লুকমান 15
সূরা লুকমান আয়াত 15 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে…সূরা আয়াত 15/34 — সূরা লুকমান لقمان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা লুকমান শুনুন, সূরা লুকমান অনুবাদ, সূরা লুকমান mp3, সূরা লুকমান pdf. আয়াত 13–17. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Monday, September 28, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


