ইয়াসীন · 66/83
অনুবাদ উচ্চারণ — ইয়াসীন
وَلَوْ نَشَاءُ لَطَمَسْنَا عَلَىٰ أَعْيُنِهِمْ فَاسْتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَأَنَّىٰ يُبْصِرُونَ ۝٦٦
Wa law nashaaa`u lata masna `alaaa aiyunihim fasta baqus-siraata fa-annaa yubsiroon
📖 বাংলা অর্থ
আমি ইচ্ছা করলে তাদের দৃষ্টি শক্তি বিলুপ্ত করে দিতে পারতাম, তখন তারা পথের দিকে দৌড়াতে চাইলে কেমন করে দেখতে পেত!

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَطَمَسْنَا – আমরা মুছে দিতাম/নিশ্চিহ্ন করে দিতাম।
  • عَلَىٰ أَعْيُنِهِمْ – তাদের চোখসমূহের উপর।
  • فَاسْتَبَقُوا – তখন তারা দৌড়ে অগ্রসর হতো/প্রতিযোগিতা করত।
  • الصِّرَاطَ – পথ/রাস্তা।
  • فَأَنَّىٰ – তাহলে কীভাবে/কোথা থেকে।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে কুরাইশ কাফিরদের ভয় দেখিয়ে বলছেন— যদি আমরা ইচ্ছা করতাম, তাহলে তাদের চোখের আলো সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দিতাম, যেমন আমরা তাদের মুখে মোহর মেরে দিয়েছি (অর্থাৎ তাদের অন্তর ও কান বন্ধ করে দিয়েছি)। এরপর তারা যখন পথে চলার চেষ্টা করত এবং সঠিক পথ খুঁজে বের করার জন্য দৌড়াদৌড়ি করত, তখন তারা কীভাবে দেখতে পেত? তাদের দৃষ্টিশক্তি তো সম্পূর্ণ হারিয়ে যেত! অর্থাৎ, তারা পথই দেখতে পেত না, আরও বড় কথা, তারা হেদায়েতের পথও খুঁজে পেত না।

এখানে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সতর্ক করছেন যে, যেভাবে তারা সত্যকে মেনে নেয়নি এবং কুফরির উপর অটল রয়েছে, আল্লাহ চাইলে তাদের চোখ-কান-হৃদয় সবকিছু বন্ধ করে দিতে পারেন, ফলে তারা চিরতরে হেদায়েত থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রতি দয়াবশত এটা করেননি; বরং তাদের জন্য তাওবার সুযোগ রেখে দিয়েছেন। তবে যদি তারা কুফরিতে অটল থাকে, তাহলে তাদের পরিণাম হবে অন্ধকার ও পথভ্রষ্টতা।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও ক্ষমতা অপরিসীম— তিনি চাইলে মানুষের চোখ, কান, হৃদয়— সবকিছু বন্ধ করে দিতে পারেন। তাই আমাদের উচিত তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া এবং তাঁর নাফরমানি থেকে বিরত থাকা।
  2. হেদায়েত ও গোমরাহি সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। তিনি যাকে চান হেদায়েত দেন, আর যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে হেদায়েতের জন্য প্রার্থনা করা এবং কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক আমল করা।
  3. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ— তিনি চাইলে মানুষের সব উপলব্ধি কেড়ে নিতে পারেন। তাই আমাদের উচিত তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য তাওবা করা এবং সৎকর্ম করা।
  4. যারা সত্যকে অস্বীকার করে এবং কুফরির উপর অটল থাকে, তাদের জন্য রয়েছে চরম দুর্ভোগ ও লাঞ্ছনা। আল্লাহ তাদেরকে সতর্ক করেছেন যেন তারা ফিরে আসে এবং ঈমান আনে।
  5. এ আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আল্লাহর কুদরতের সামনে মানুষের কোনো ক্ষমতাই নেই। তাই আমাদের উচিত বিনয়ী হওয়া এবং আল্লাহর সামনে নিজেকে ছোট করে দেখা।


📜 আয়াত 64-68 — ইয়াসীন

64اصْلَوْهَا الْيَوْمَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ
তোমাদের কুফরের কারণে আজ এতে প্রবেশ কর।
65الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَىٰ أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে।
66وَلَوْ نَشَاءُ لَطَمَسْنَا عَلَىٰ أَعْيُنِهِمْ فَاسْتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَأَنَّىٰ يُبْصِرُونَ
আমি ইচ্ছা করলে তাদের দৃষ্টি শক্তি বিলুপ্ত করে দিতে পারতাম, তখন তারা পথের দিকে দৌড়াতে চাইলে কেমন করে দেখতে পেত!
67وَلَوْ نَشَاءُ لَمَسَخْنَاهُمْ عَلَىٰ مَكَانَتِهِمْ فَمَا اسْتَطَاعُوا مُضِيًّا وَلَا يَرْجِعُونَ
আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে স্ব স্ব স্থানে আকার বিকৃত করতে পারতাম, ফলে তারা আগেও চলতে পারত না এবং পেছনেও ফিরে যেতে পারত না।
68وَمَن نُّعَمِّرْهُ نُنَكِّسْهُ فِي الْخَلْقِ ۖ أَفَلَا يَعْقِلُونَ
আমি যাকে দীর্ঘ জীবন দান করি, তাকে সৃষ্টিগত পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেই। তবুও কি তারা বুঝে না?
ইয়াসীনকুরআন সূচী
83আয়াত
মাক্কীRevelation
66আয়াত

অনুবাদ — ইয়াসীন 66

সূরা ইয়াসীন আয়াত 66 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমি ইচ্ছা করলে তাদের দৃষ্টি শক্তি বিলুপ্ত করে দিতে পারতাম,…

সূরা আয়াত 66/83 — ইয়াসীন يس (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ইয়াসীন শুনুন, ইয়াসীন অনুবাদ, ইয়াসীন mp3, ইয়াসীন pdf. আয়াত 64–68. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না