আজ-জুমার · 38/75
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আজ-জুমার
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ ۚ قُلْ أَفَرَأَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ ۚ قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ ۖ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ ۝٣٨
Wa la`in sa altahum man khalaqas samaawaati wal arda la yaqoolunal laah; qul afara`aitum maa tad`oona min doonil laahi in araadaniyal laahu bidurrin hal hunna kaashi faatu durriheee aw araadanee birahmatin hal hunna mumsikaatu rahmatih; qul hasbiyal laahu `alaihi tatawakkalul mutawakkiloon
📖 বাংলা অর্থ
যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে-আল্লাহ। বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ আমার অনিষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তবে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করলে তারা কি সে রহমত রোধ করতে পারবে? বলুন, আমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ – তাঁর কষ্ট দূরকারিণী।
  • مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ – তাঁর রহমত আটকে রাখতে সক্ষম।
  • حَسْبِيَ اللهُ – আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
  • يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ – যারা ভরসা করে তারা তাঁরই উপর ভরসা করে।

তাফসীর:

হে নবী! আপনি যদি এই মুশরিকদের জিজ্ঞেস করেন, আসমান ও জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? তাহলে তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। কারণ সৃষ্টির এত বড় ও সুস্পষ্ট প্রমাণ তাদের সামনে থাকা সত্ত্বেও তারা তা অস্বীকার করতে পারে না। তারা স্বীকার করে যে, সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ।

এরপর আপনি তাদের বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ? আল্লাহ যদি আমাকে কোনো কষ্ট বা ক্ষতিতে ফেলতে চান, তাহলে তোমরা যাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে ডাকো, তারা কি সেই কষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা আল্লাহ যদি আমার প্রতি রহমত ও অনুগ্রহ দেখাতে চান, তাহলে তারা কি সেই রহমত আটকে রাখতে পারবে? অবশ্যই না! কারণ তাদের কোনো ক্ষমতাই নেই। তারা তো নিজেরাই অসহায়।

অতএব, আপনি তাদের বলুন, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। যারা সত্যিকার অর্থে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তারা কেবল তাঁরই উপর নির্ভর করে। কারণ তিনিই একমাত্র ক্ষমতার মালিক, তিনিই উপকার-অপকারের নিয়ন্ত্রক। তাঁর ইচ্ছার বাইরে কারও কিছু করার ক্ষমতা নেই।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্ব এতটাই সুস্পষ্ট যে, এমনকি মুশরিকরাও তা স্বীকার করে। সুতরাং প্রকৃত ঈমানদারের উচিত আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা এবং কেবল তাঁরই ইবাদত করা।
  2. আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা বা তাদের উপর ভরসা করা সম্পূর্ণ নিরর্থক। কারণ তারা কোনো উপকার বা অপকার করতে সক্ষম নয়।
  3. মুমিনের জীবনে তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর ভরসা) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হন এবং তাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, কষ্ট-দুর্দশা বা রহমত-নেয়ামত সবই আল্লাহর হাতে। তাই আমাদের উচিত সব অবস্থায় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর উপর নির্ভর করা।
  5. ইসলামের এই শিক্ষা মানুষকে মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাস দেয়। যখন মানুষ জানে যে, সবকিছু আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে এবং তিনি তার জন্য যথেষ্ট, তখন সে কোনো ভয় বা চিন্তায় থাকে না।


📜 আয়াত 36-40 — সূরা আজ-জুমার

36أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُ ۖ وَيُخَوِّفُونَكَ بِالَّذِينَ مِن دُونِهِ ۚ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ
আল্লাহ কি তাঁর বান্দার পক্ষে যথেষ্ট নন? অথচ তারা আপনাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যান্য উপাস্যদের ভয় দেখায়। আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।
37وَمَن يَهْدِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِن مُّضِلٍّ ۗ أَلَيْسَ اللَّهُ بِعَزِيزٍ ذِي انتِقَامٍ
আর আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই। আল্লাহ কি পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন?
38وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ ۚ قُلْ أَفَرَأَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ ۚ قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ ۖ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ
যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে-আল্লাহ। বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ আমার অনিষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তবে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করলে তারা কি সে রহমত রোধ করতে পারবে? বলুন, আমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে।
39قُلْ يَا قَوْمِ اعْمَلُوا عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ ۖ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ
বলুন, হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের জায়গায় কাজ কর, আমিও কাজ করছি। সত্ত্বরই জানতে পারবে।
40مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيْهِ عَذَابٌ مُّقِيمٌ
কার কাছে অবমাননাকর আযাব এবং চিরস্থায়ী শাস্তি নেমে আসে।
আজ-জুমারকুরআন সূচী
75আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
38আয়াত

অনুবাদ — আজ-জুমার 38

সূরা আজ-জুমার আয়াত 38 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি…

সূরা আয়াত 38/75 — সূরা আজ-জুমার الزمر (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আজ-জুমার শুনুন, সূরা আজ-জুমার অনুবাদ, সূরা আজ-জুমার mp3, সূরা আজ-জুমার pdf. আয়াত 36–40. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না